করোনা টিকার দাম মনে নেই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

করোনার টিকার দাম মনে নেই বলে সংসদকে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল রবিবার সংসদে জাতীয় পার্টির সাংসদ মজিবুল হক চুন্নুর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সরকার সাড়ে ২৯ কোটি করোনা টিকা সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ১৮ কোটি টিকা নগদ টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে। বাকিগুলো কোভ্যাক্সের আওতায় বিনামূল্যে পেয়েছি। তবে দামগুলো এখন মনে নেই। এ বিষয়ে আমাকে নোটিস দিলে এর দাম এবং কোথা থেকে এসেছে, সেটা বলতে পারব।’

এর আগে সংসদে একাধিকবার করোনা টিকার দাম জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘নন-ক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্টের মাধ্যমে টিকা কেনায় সংসদে অর্থ খরচের হিসাব প্রকাশ করা সমীচীন হবে না।’

এদিকে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সাংসদ এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের ৮০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে কভিড টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ৫ বছরের ওপরের সব জনগোষ্ঠীকে পর্যায়ক্রমে টিকা দেওয়া হবে। এ পর্যন্ত (১ জুন ২০২২) ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৩ হাজার ৪৩৬টি প্রথম ডোজ, ১১ কোটি ৭৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩৭১টি দ্বিতীয় ডোজ ও ভাসমান জনগোষ্ঠীকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯১৮টি টিকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১ কোটি ৫২ লাখ ৮৯ হাজার ৬১০টি বুস্টার ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি দলের সাংসদ আনোয়ার হোসেন খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধ দেশেই উৎপাদিত হয়। বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশে^র ১৫৭টি দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত প্রায় সব ধরনের ওষুধ রপ্তানি করা হয়। চলতি অর্থবছরের (২০২১-২২) এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৫ হাজার ৩২ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ৪০৯ টাকার ওষুধ রপ্তানি করা হয়েছে।

সম্পূরক প্রশ্নে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের মাত্র ৪১ শতাংশ ব্যয় হয়েছে উল্লেখ করে কী কারণে বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় করা যায়নি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চান বিএনপিদলীয় সাংসদ রুমিন ফারহানা। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার কারণে কিছু কাজ ব্যাহত হয়েছে। এ খাতে শ্রমের মূল্য প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। উন্নয়ন বাজেটের ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৪০ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। আমরা হিসাব করে দেখেছি জুন মাস শেষের আগে ৯০ শতাংশের বেশি খরচ হয়ে যাবে এবং লক্ষ্য অর্জন হয়ে যাবে। কারণ এখনো অনেকগুলো বিলের অর্থ পরিশোধ হয়নি।’

স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কিছুটা চিপার মধ্যেই পড়ে গেছিথগলাচিপার এমপি : স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ‘চিপার’ মধ্যে রয়েছেন বলে সংসদকে জানিয়েছেন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের এমপি এস এম শাহাজাদা। গতকাল সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জীর্ণশীর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনর্নির্মাণের প্রস্তাবকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

অধিবেশনের প্রশ্নোত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে সম্পূরক প্রশ্নে সরকারি দলের এই এমপি বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় দুটি উপজেলা; তার একটির নাম গলাচিপা। এই উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নামের সাথে সাথে কিছুটা চিপার মধ্যেই পড়ে গেছি। এ উপজেলার একটি অংশ ছিল এখন রাঙ্গাবালী নামের উপজেলা। সেটা এখন পটুয়াখালী-৪ আসনের ভেতরে। ওখানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই। আবার আমার গলাচিপাতে যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি আছে, সেটা বেশ আগের। এটা জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় আছে। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে একাধিক ভবন রয়েছে, সেগুলো জীর্ণশীর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়েছে। এই উপজেলায় ৫ লাখ জনসংখ্যা। পাশর্^বর্তী উপজেলায় (রাঙ্গাবালী) আরও প্রায় আড়াই লাখ লোক রয়েছে। দুই উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা হয় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আড়াই বছর আগে মন্ত্রী মহোদয়কে পত্র দিয়েছিলাম স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য। আমি এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পাইনি। এখানে ৭ লাখ লোকের স্বাস্থ্যসেবা চিপার ভেতরে আছে। জানতে চাই, এখানে নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ হবে কি না, হলে সেটা কবে।’

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জীর্ণশীর্ণ সব স্বাস্থ্যকেন্দ্র নতুন করে নির্মাণ করে দিচ্ছে। এই উপজেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্র সে ধরনের হলে সরকার তা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেবে।’