হিলিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৩ টাকা

অনুমতি না থাকায় এক মাস ধরে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে আমদানি বন্ধ ও পুরোনো পেঁয়াজ শেষ হয়ে গেলেও বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম উল্টো আরও কমতে শুরু করেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা শরিফুল ইসলাম বলেন, বাজারে বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতীয় পেঁয়াজ নেই আর যখন ছিল তখনো আমরা তুলনামূলক দাম কম থাকায় দেশীয় পেঁয়াজ কিনেছি। বর্তমানে সব জিনিসের দাম যখন ঊর্ধ্বমুখী তখন দেশীয় পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। এতে করে আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের বেশ সুবিধা হয়েছে সামনে ঈদে যেন পেঁয়াজের দাম কম থাকে সেই দাবি জানাচ্ছি।

হিলি বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ একেবারে নেই। তবে বর্তমানে বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার কারণে ভারতীয় পেঁয়াজের না থাকার কোনো প্রভাব নেই উল্টো পেঁয়াজের দাম কমতির দিকে রয়েছে।

কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ায় ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ ওঠানো অব্যাহত রয়েছে যার কারণে মোকামগুলোতে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। যার কারণে আমরা যেমন চাহিদামতো পেঁয়াজ পাচ্ছি তেমনি কম দামে কিনতে পারায় আমরা খানিকটা কম দামে বিক্রি করতে পারছি। পূর্বে প্রতি কেজি দেশীয় পেঁয়াজ ২৪ থেকে ৩৩ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে তা থেকে দাম কমে ২৪ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম কমছে। সরবরাহ এমন থাকলে দাম আরও কমবে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক হারুন উর রশীদ বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা নিয়মিতভাবে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করে আসছিলাম। কিন্তু গত ৫ মে থেকে আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। পূর্বের আমদানিকৃত যেসব পেঁয়াজ আমদানিকারকদের গুদামে ছিল ক্রেতা সংকটের কারণে পেঁয়াজ কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে সেই সঙ্গে কিছু পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমদানিকারকরা।

তিনি বলেন, আমরা নতুন করে আমদানির অনুমতি পত্র চেয়ে আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়নি। তবে সামনে যেহেতু ঈদুল আজহা এ সময়ে দেশে পেঁয়াজের বাড়তি চাহিদা থাকে সে কারণে সেময়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হোক এই দাবি জানাচ্ছি।