চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) আগুনের পর বিস্ফোরণে আহতদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তার-নার্সরা। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, এখনো অগ্নিদগ্ধ ১০২ জন রোগী বার্ন ইউনিট, সার্জারি ওয়ার্ডসহ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসা নিয়ে ইতিমধ্যে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১০৮ জন। গতকাল নতুন করে অগ্নিদগ্ধ কেউ মারা যাননি। আহতদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া হচ্ছে।
গতকাল সকালে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, সীতাকুন্ডে বিস্ফোরণে আহতদের চিকিৎসাসেবা চলছে। ২৬ শয্যার এই ছোট্ট বার্ন ইউনিটে ফ্লোরিং করে ৮০ জনের বেশি দগ্ধ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়রা। প্রায় প্রত্যেক রোগীর হাত-পা ও শরীরে ব্যান্ডেজ লাগানো।
বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন মো. জাহাঙ্গীর নামে এক দগ্ধ রোগী দেশ রূপান্তরকে বলেন, কনটেইনারে আগুন লাগার পর বড় আওয়াজ হয়েছিল। এরপর আর কিছু জানি না। এখন দেখছি মেডিকেলে ভর্তি। আমার পায়ের গোড়ালি ও শরীরের বিভিন্ন স্থান পুড়ে গেছে।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সীতাকুন্ড থেকে দগ্ধ হয়ে আসা রোগী অনেক। তাদের অনেকের শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। বেশ কয়েকজন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। হাসপাতালের সব চিকিৎসক, নার্স খুব কষ্ট করেছেন। এই দুর্যোগে তাদের সহযোগিতা সত্যিই প্রশংসনীয়।
জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান বলেন, সীতাকুন্ডে আহত ও দগ্ধের মধ্যে মোট ২১০ জন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ১০২ জন ভর্তি আছেন। তাদের চিকিৎসাসেবা চলছে।
এদিকে গতকাল চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে গিয়ে দেখা যায় রেড ক্রিসেন্ট, গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশের সদস্যসহ স্বেচ্ছাসেবী অনেকে দগ্ধ-আহত এবং তাদের স্বজনদের সেবায় নিয়োজিত আছেন। অনেকে স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে এসেছেন। আবার অনেকে এসব দগ্ধ রোগীর জন্য শুকনো খাবার, বালিশ, কম্বল দিয়ে সহায়তা করছেন।
এদিকে গতকাল বেলা ১১টার দিকে চমেক হাসপাতালে দগ্ধদের ঢাকা থেকে দেখতে আসেন শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া। চমেক হাসপাতালে গিয়ে দগ্ধ ও আহতদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘আমরা তিনজনকে আইডেন্টিফাই করেছি। তাদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া উচিত। আত্মীয়স্বজন রাজি হলে নিয়ে যাওয়া হবে। তাদের বার্ন আইসিইউ দরকার। ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনজনের মধ্যে একজনের ২৫ শতাংশ, বাকি দুজনের ২০ ও ১৫ শতাংশের মতো পুড়ে গেছে। তাদের সকলের শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
পরে দুপুরের দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও চমেক হাসপাতালে এসে দগ্ধ রোগীদের দেখে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।