নারায়ণগঞ্জ সিটির সিদ্ধিরগঞ্জে নিয়মনীতি মানছে না বাসাবাড়ি থেকে আবর্জনা অপসারণের ইজারাদাররা। নিজেদের ইচ্ছেমতো টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ারা। তাদের অভিযোগ, আবর্জনা অপসারণের নামে রীতিমতো জোর করে মাত্রাতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, থানার দশটি ওয়ার্ডে আবর্জনা অপসারণ বাবদ মাসে কোটি টাকার ওপর নিচ্ছে ইজারাদাররা।
জানা গেছে, সিটি করপোরেশন থেকে ইজারা নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের দশটি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে একাধিক ইজারাদার বাসাবাড়ির ময়লা অপসারণ করছেন। ময়লা অপসারণের জন্য প্রতি বাসা থেকে মাসে ২০ টাকা করে আদায় করার কথা থাকলেও ইজারাদাররা আদায় করছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ারা বাড়তি টাকা দিতে আপত্তি করলে ওই বাসার আবর্জনা নেওয়া হয় না। এ ব্যাপারে মোটামুটি জবরদস্তি করছে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মদদপুষ্ট ইজারাদাররা।
নিমাইকাশারী এলাকার এক বাড়ির তিনতলার ভাড়াটিয়া শাহাদাত বলেন, মাসে ১২০ টাকা দিই ময়লা অপসারণ কর্মীদের। মুক্তিনগর এলাকার নিচতলার ভাড়াটিয়া ফরিদা আক্তার দেন ১০০ টাকা। একই এলাকার পাঁচতলার ভাড়াটিয়া শহিদুল ইসলাম দেন ১৫০ টাকা। প্রতিটি ওয়ার্ডে একইভাবে অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইজারাদাররা নিজে বর্জ্য অপসারণ না করে মহল্লা ভাগ করে বিভিন্নজনের কাছে সাব-কনট্রাকে দিয়েছে। ময়লা অপসারণের গাড়িপ্রতি মাসে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা করে নিচ্ছে ইজারাদার। প্রতিটি মহল্লায় ১০ থেকে ১২টি করে গাড়ি রয়েছে। ময়লা অপসারণ কর্মীদের খরচ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বাসার মালিক ও ভাড়াটিয়াদের ওপর। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে মাসে ১০ লক্ষাধিক টাকা আদায় করছে ময়লা অপসারণকর্মীরা। পরিসংখ্যান মতে, থানা এলাকার দশটি ওয়ার্ড থেকে ময়লা অপসারণ ইজারাদাররা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকার ওপর। কাউন্সিলররাও টাকার ভাগ পাচ্ছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইজাদার জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ময়লা অপসারণকারী একাধিক কর্মী জানায়, গাড়িপ্রতি ইজারাদারের নির্ধারিত টাকা দিতে হয়। সিটির নিয়মমতে টাকা নিলে ইজাদারের মাসিক টাকাই দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই এক থেকে দোতলা বাড়ির বাসা থেকে ১০০ টাকা, তিন থেকে চারতলা বাসা থেকে ১২০ টাকা, পাঁচ থেকে তার ঊর্ধ্বে বাসা থেকে ১৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
নাসিক তিন নম্বর ওয়ার্ডের নিমাইকাশারী ও মাদানীনগর এলাকার ইজারাদার নাসির বলেন, সিটির নির্ধারণ করা মতে টাকা নিয়ে ময়লা অপসারণ করা সম্ভব না। আমার ৯টি গাড়িতে দুজন করে ১৮ জন কাজ করে। টাকা না পেলে তারা ময়লা অপসারণ করবে না। তাই অতিরিক্ত টাকা নিতে হয়। একই কথা বলেন, অন্যান্য ওয়ার্ডের ইজারাদার।
তিন নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল বলেন, বাসাবাড়ির ময়লা অপসারণের জন্য মহল্লা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।
সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরণ বলেন, সরকারিভাবে বাসাবাড়ির ময়লা অপসারণ চার্জ ২০ টাকা। ইজারাদার অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।