তামিমকে জোর করে খেলানোর কিছু নেই

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে খুব বেশি খেলা নেই বাংলাদেশের। উইন্ডিজের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টির পর নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ। এরপরই বিশ্বকাপে যেতে হচ্ছে। তাই প্রস্তুতি-পরিকল্পনার খুব একটা সুযোগ নেই। এ ক’ম্যাচেই নিজেদের ঠিকঠাক করে নেওয়ার সুযোগ। এখন অভিজ্ঞ তামিম ইকবাল যদি নিজেকে দূরে রাখেন তাহলে সমস্যা বাংলাদেশ দলেরই বেশি। টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনও চাইছেন বিশ্বকাপে খেলতে চাইলে তামিমকে উইন্ডিজের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলা উচিত।

আগে থেকেই জানা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিকল্পনা শুরু উইন্ডিজ সিরিজ থেকে। সে লক্ষ্যে দলে ১৫ ক্রিকেটার রাখা হয়েছে, যারা টি-টোয়েন্টির মূল পরিকল্পনার অংশ। গত বিশ্বকাপে খেলেননি এমন ক্রিকেটার আছেন ৬ জন। তাসকিন ও মুশফিক দলে ফিরলে ১৫ জনের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়বেন দুজন। তবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এই দলটাই থাকছে বিশ্বকাপের জন্য। মূল নাটক ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের থাকা না থাকা নিয়ে। গত বছরের আমিরাত বিশ্বকাপে ইনজুরির জন্য অপ্রস্তুত থাকায় নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন তামিম নিজে। এবার আনফিটের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু নিজে থেকেই সময় নিচ্ছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। গত বিপিএলের সময় টি-টোয়েন্টি থেকে ৬ মাসের বিরতির কথা বলেন তামিম। সেই বিরতির দেড় মাস এখনো বাকি। দেড় মাস পর যদি ফেরেনও সরাসরি বিশ্বকাপ দলের অংশ হয়ে তাকে নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে হবে। প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় টি-টোয়েন্টি থেকে দূরে থাকা তামিম বিশ্বকাপের আগে দলে ফিরে মানিয়ে নিতে পারবেন?

সেই প্রশ্ন এখন সবারই। তাই উইন্ডিজ সিরিজেই তামিমের খেলার প্রয়োজনীয়তা ছিল। এটাই মনে করেন টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনও, ‘যদি ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে চায়, আমাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা তো এই সিরিজ দিয়েই শুরু হচ্ছে। তামিম টি-টোয়েন্টি দলে নেই, এমন না যে ও পারফরম্যান্সের জন্য বাদ পড়েছে। হয়তো বলেছে সে আগ্রহী না। এখানে নেগোশিয়েটের কিছু নেই। এখনো সে দেশসেরা, আপনি খেলবেন কি-না তা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে জোর করে খেলানোর কিছু নেই।’

তবে এ বিষয়ে দ্রুত তামিমকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান সুজন। ব্যক্তিগত কারণে দলের অসুবিধা হোক এটা কারোরই কাম্য নয়। তাই সিদ্ধান্তটা তামিমের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছেন, ‘এটা তামিমের কল। এটা ওর ক্যারিয়ার। তামিম তো আর ছোট তামিম না। সে বড় হয়েছে। তিন ফরম্যাটে খেলা অনেকের জন্য কঠিন হচ্ছে। সিনিয়ররা নিজেরাই বেছে নেবে। যদি মনে করে এক ফরম্যাট বাদ দিতে চাই, এটাও ওদের মতামত।’ বাইরে থেকে তামিমের টি-টোয়েন্টি খেলা না খেলার বিষয়ে কেন মন্তব্য আসে এ ব্যাপারে কোনো কিছু বলতে চাননি সুজন, ‘কেন আলোচনা আসে আমি জানি না। তামিম বলার আগেই অন্যরা বলে দিচ্ছে এটাও উচিত না। এটা সম্পূর্ণ ওর ব্যক্তিগত ব্যাপার।’