ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এলাকায় কোনো গাড়ি ৭ দিনের বেশি রিকুইজিশন করা যাবে না বলে নির্দেশনা এসেছে উচ্চ আদালত থেকে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বা অন্য উদ্দেশ্যে গাড়ি রিকুইজিশন করা যাবে না, করতে হবে জনস্বার্থে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিককে আগে নোটিস দেওয়া, রিকুইজিশনকৃত গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, কোনো অভিযোগ এলে তার তদন্ত করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে হাইকোর্ট।
রিকুইজিশন সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের রায়ে এমন নির্দেশনা এসেছে। ২০১৯ সালে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গতকাল বুধবার প্রকাশিত হয়। এতে রিকুইজিশন নিয়ে গুচ্ছ নির্দেশনা এসেছে।
অন্য নির্দেশনাগুলো হলো, সরকারি কাজে যে উদ্দেশ্যে গাড়ি রিকুইজিশন করা হয়েছে তার বাইরে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা তাদের পরিবার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তা ব্যবহার করতে পারবে না। রিকুইজিশন করা গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডিএমপির মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন করে ক্ষতিপূরণ ১৫ দিনের মধ্যে দিতে হবে। প্রতিদিনের আনুষঙ্গিক খরচ নির্ধারণ করে তা গাড়ির মালিককে দিতে হবে। যে সংস্থার কাজে গাড়ি রিকুইজিশন করা হবে তারা ডিএমপিকে তহবিল দেবে। রিকুইজিশন সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ আসলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগী বা পঙ্গু রোগী বহনকারী, বিমানবন্দরগামী কোনো গাড়ি রিকুইজিশন করা যাবে না। রিকুইজিশনকৃত গাড়ির নিবন্ধন নম্বর বিশেষভাবে রাখতে হবে যেখানে বিস্তারিত তথ্য থাকবে।
রায়ে ৯০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টের এই নির্দেশনা ও নীতিমালা সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিকুইজিশনের কারণে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য ডিএমপি কমিশনারকে উচ্চ আদালতের এসব নির্দেশনা তদারকি করতে বলা হয়েছে।
ডিএমপির রিকুইজিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশের ১০৩ (ক) ধারার অধীনে যেকোনো গাড়ি রিকুইজিশন করতে পারার বিধানকে বেআইনি ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে ২০১০ সালে একটি রিট আবেদন হয়। আবেদনটি করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। ওই বছরের ২৩ মে রুল জারি করে হাইকোর্ট। ২০১৯ সালের জুলাইতে রুলের চূড়ান্ত শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতকে আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার ফিদা এম কামালÑ এ দুই জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর বক্তব্য শোনে হাইকোর্ট। ওই বছরের ৩১ জুলাই রায় ঘোষণা করা হয়।
রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। ডিএমপির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশতাক হোসেন।
মনজিল মোরসেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৩০০ গাড়ি রিকুইজিশন করা নিয়ে এই রিট আবেদনের সূত্রপাত হয়েছিল। হাইকোর্টের রায়ে এই গাড়ির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে রিকুইজিশন নিয়ে যে সমস্ত অভিযোগ শোনা যায় সেগুলোর অবসান হবে।’