শ্লীলতাহানির অভিযোগ, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিছিল নিয়ে ডিসি অফিসে শিক্ষার্থীরা

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ নিয়ে প্রায় দুই শতাধিকেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রীসহ স্থানীয়রা মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসেন।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে মিছিলটি নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সামনে অবস্থান করে।

খবর পেয়ে মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিচারের আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের বাড়িতে ফেরত পাঠান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কান্দি এম ইউ আলিম মাদ্রাসা নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের কান্দি গ্রামে এবং এর অধ্যক্ষ হলেন মো. আজিম উদ্দিন।

মিছিলে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২ জুন (বৃহস্পতিবার) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে বাড়িতে পড়াতে আসেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রথমে হাত, পরে জামা ধরে টান দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন।

বিষয়টি শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের জানানো হলেও তারা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।

এক সপ্তাহ ধরে কালক্ষেপণ ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করায় অধ্যক্ষের বিচারের দাবিতে মিছিল নিয়ে ডিসি অফিসে আসতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তুহিন আক্তার ও কাইলাটি ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হক জানান, বিষয়টি তারা আগে থেকে জানতেন না। দুজনে উপজেলা পরিষদে থাকা অবস্থায় মিছিলের খবর শুনে ছুটে আসেন।

পরে ছাত্র-ছাত্রীদের আশ্বস্ত করে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে কঠোর হস্তে বিচার করা হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন জানান, বিষয়টি মাদ্রাসার শিক্ষক মন্ডলীসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির কতিপয় সদস্য আগে থেকে জানতেন। তবে কমিটির সভাপতিকে মনে হয় বিষয়টি অবগত করা হয়নি।

ওই মাদ্রাসার ওবাইদুল্লাহ নামে আরেক শিক্ষকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তার সহপাঠীদের কাছে ঘটনাটি প্রথমে জানায়।

শিক্ষকদের অবগত করলে বিষয়টি দেখা হচ্ছে বোঝানোর পরেও তারা মিছিল নিয়ে গেল। অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি সব বলতে পারবেন।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আজিম উদ্দিনকে বেশ কয়েকবার ফোন ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, লিখিত অভিযোগ পায়নি। তবে আজ (বৃহস্পতিবার) মৌখিকভাবে জানতে পেরেছি। বিষয়টির সত্যতা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।