এই দিনে

প্রখ্যাত ব্রিটিশ অণুজীব বিজ্ঞানী, জৈব পদার্থবিদ এবং স্নায়ুবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যারি কম্পটন ক্রিক ১৯১৬ সালের ৮ জুন জন্মগ্রহণ করেন। ওয়াটসন ও মরিস উইলকিন্সের সঙ্গে যৌথভাবে ডিএনএ মলিকিউলের কাঠামো আবিষ্কার করেন তিনি। তাদের এই আবিষ্কারে নিউক্লেয়িক এসিডের আণবিক কাঠামো, ডাবল হেলিক্স এবং জীবিত সত্তার দেহে তথ্য স্থানান্তরে এর ভূমিকার কারণে ১৯৬২ সালে যৌথভাবে ফিজিওলজি বা মেডিসিনে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন ফ্রান্সিস ক্রিক। নোবেলপ্রাপ্তির পরের সময়টা থেকে বাকি জীবন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ‘সাল্ক ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল স্টাডিজ’-এ গবেষণা করে কাটিয়েছেন ফ্রান্সিস ক্রিক। পরবর্তী জীবনে তার গবেষণার কেন্দ্রে চলে আসে তাত্ত্বিক স্নায়ুবিজ্ঞান এবং মানুষের স্নায়বিক চৈতন্যবিষয়ক বৈজ্ঞানিক গবেষণা। ফ্রান্সিস ক্রিকের জন্ম হয়েছিল যুক্তরাজ্যের নর্থহ্যাম্পটনে। তার বাবার নাম হ্যারি ক্রিক ও মায়ের নাম অ্যানি এলিজাবেথ ক্রিক। তার বাবা ও চাচা বুট ও জুতো তৈরির পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। নর্থহ্যাম্পটন গ্রামার স্কুলে পড়ালেখার পর ১৪ বছর বয়সে ফ্রান্সিস বৃত্তি নিয়ে লন্ডনে পড়তে চলে যান। সেখানে গণিত, পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। ১৯৩৭ সালে লন্ডন ইউনিভার্সিটি কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। গনভিলে অ্যান্ড কেইয়াস কলেজে পিএইচডি গবেষণার দ্বিতীয় বছরেই তিনি ‘ক্যারে ফস্টার গবেষণা পুরস্কার’-এ ভূষিত হন। ফ্রান্সিস ক্রিক প্রথমে বিয়ে করেছিলেন রুথ ডরিন ডড নামে এক নারীকে। তার গর্ভে মিখায়েল নামে এক সন্তানের জনক হন তিনি। এরপর ১৯৪৯ সালে ফ্রান্সিস ওডিলে স্পিড নামে আরেক নারীকে বিয়ে করেন এবং গ্যাব্রিয়েল ও জ্যাকুলিন নামে দুই কন্যার জনক হন। ফ্রান্সিস একজন বিদেশি হিসেবে ‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব আর্টস’-এর সম্মানসূচক সদস্যপদ লাভ করেন এবং ১৯৯১ সালে ‘ব্রিটিশ অর্ডার অব মেরিট’-এ ভূষিত হন।