ওরাল সাবমিউকোসাল ফাইব্রোসিস হলো মুখগহ্বরের একটি মারাত্মক রোগ। এটাকে বিরল রোগও বলা যায়। সাধারণত যেসব মানুষ পান, সুপারি, তামাক, জর্দা, সাদা, গুল ও খৈনির খায় তাদের এই রোগ হতে দেখা যায়। সঠিক সময়ে ধরা না পড়লে মুখের ক্যানসারও হতে পারে। মুখের ক্যানসারের কথা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু ওএসএফের (ওরাল সাবমিউকোসাল ফাইব্রোসিস) কথা এখনো অনেক মানুষ এ বিষয়ে জানে না। তবে আমাদের দেশে ওএসএফ রোগীদের সংখ্যাও অনেক এবং দিন দিন এই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
এ রোগে মুখের মিউকাস ঝিল্লিতে অতিরিক্ত আঁশজাতীয় উপাদান জমা হয়ে যায়।
অতিরিক্ত পান-সুপারি গ্রহণ করা মধ্যবয়সী মানুষের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়। ওএসএফ একটি প্রি-ক্যানসারাস কনডিশন। অর্থাৎ ক্যানসারের সে পূর্ব ধাপও বলা যায়। শতকরা ১৫ ভাগ পর্যন্ত এ থেকে ক্যানসার হতে পারে।
লক্ষণ
রোগী খাবারের ঝাল খাবার সহ্য করতে পারে না। মুখে বার বার ঘা হতে থাকে। একসময় আক্রান্ত রোগী মুখ ভালোভাবে হাঁ করতে পারেন না।
পান, সুপারি, গুল, জর্দা, সিগারেটসহ অন্যান্য তামাক বা তামাকজাত পণ্য গ্রহণ ও বেশিমাত্রায় অ্যালকোহল পানের কারণে এমনটা হয়। বংশগত কারণেও এ রোগ হতে পারে। ঠোঁট বা মুখে দীর্ঘদিনের ঘা। হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি)। নির্দিষ্ট এইচপিভি স্ট্রেনগুলো স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমার (এসিসি) এই রোগের জন্য দায়ী।
করণীয়
তামাক, তামাকজাত পণ্য ও অ্যালকোহল সেবন পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। মুখের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সব সময় সচেতন থাকতে হবে। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় ভিটামিন ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার থাকা জরুরি। নিয়মিত ভিটামিন ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেলে রোগটি পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।
যেসব ক্ষেত্রে উপসর্গ বেশি সেখানে আক্রান্ত অংশে নানা রকম ইনজেকশন, এমনকি অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে। সূর্যের আলোতে সরাসরি অবস্থান না করা ভালো।
মুখ ও দাঁত পরিষ্কার রাখা শরীরের অন্যান্য রোগ প্রতিরোধের জন্য জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাজা শাক সবজি ও ফল রাখতে হবে। সবুজ-লাল-হলুদ-বেগুনিসহ নানা রঙের সবজি ও ফলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মুখের ক্যানসারসহ নানা রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে। বছরে দুবার ডেন্টাল চেকআপ করতে হবে। এর ফলে ওএসএফ বা মুখের ক্যানসার ছাড়াও যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা প্রথমেই ধরা পড়ে। ফলে তা দ্রুত প্রতিকার করা সম্ভব হয়।