দূরের মসজিদে নামাজ

নামাজ আদায়ের জন্য স্বাভাবিক অবস্থায় কাছের মসজিদ ছেড়ে দূরের মসজিদে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষভাবে যদি কাছের মসজিদ ছেড়ে দূরের মসজিদে যাওয়ার মাধ্যমে আগের মসজিদ পরিত্যক্ত হওয়ার আশঙ্কা হয়, কিংবা ওই মসজিদের ইমামের মনে ব্যথা পাওয়ার আশঙ্কা হয়, তাহলে দূরবর্তী মসজিদে যাওয়া বৈধ নয়। কারণ হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যেন তার পার্শ্ববর্তী মসজিদে নামাজ পড়ে এবং এ মসজিদ সে মসজিদ করে না বেড়ায়।’ তাবরানি : ২২০০

তবে কাছের মসজিদের ইমামের যদি কিরাত ভালো না হয়, তাহলে সুন্দর কিরাত বা সুমধুর আওয়াজের জন্য দূরের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ায় কোনো দোষ নেই। অবশ্য এতে উদ্দেশ্য হতে হবে, সুমধুর কিরাতে তার নামাজে বিনয়-নম্রতা তৈরি করা। আর খবরদার! তাতে যেন মনে কোনো ধরনের খেয়াল-খুশি বা কারও প্রতি খামোখা বিদ্বেষ অথবা অন্যায় দোষারোপ না থাকে। অনুরুপ যদি কারও দূরের মসজিদে যাওয়ার উদ্দেশ্য বেশি পদক্ষেপের (পায়ের কদম) ফেলে বেশি বেশি সওয়াব হাসিল করা হয়, তাহলে তাও একটি মহৎ কাজ।

অনুরূপভাবে যদি কাছের মসজিদের ইমাম সঠিকভাবে নামাজ না পড়ে অথবা কোনো বিদআতি আমল অথবা কোনো প্রকাশ্য ফাসেকি কর্মদোষে অভিযুক্ত হন, তাহলেও তার পেছনে নামাজ না পড়ে দূরের মসজিদে ভালো ইমামের পেছনে নামাজ পড়তে যাওয়া দূষণীয় নয়।