রাশিয়ার তৈরি অস্ত্র আর নয়, নতুন কৌশল ইউক্রেনের

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের ১০৭ দিন হয়ে গেছে। যুদ্ধ থামা দূরে থাক, যত দিন গড়াচ্ছে, যুদ্ধের ভয়াবহতার ছবি ততই যেন প্রকট হচ্ছে। রুশ আগ্রাসনে কার্যত বিধ্বস্ত অবস্থা ইউক্রেনের। এই প্রেক্ষাপটে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশকে টক্কর দিতে মিত্র দেশগুলোর অস্ত্রভাণ্ডারের উপর ভরসা রাখতে চাইছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। এতদিন সাবেক সোভিয়েত ও পরবর্তীকালে রাশিয়ার তৈরি যে অস্ত্রের সম্ভার ইউক্রেনের হাতে ছিল, গত কয়েক মাসের যুদ্ধে তার সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছে। আর সে কারণেই আর ‘শত্রু’ দেশের তৈরি হাতিয়ার নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে নামতে রাজি নন জেলেনস্কি, মার্কিন সেনাবাহিনীর সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে।

একদা সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল ইউক্রেন। সে কারণেই সোভিয়েত ও রাশিয়ার অস্ত্রের ভাণ্ডারে সজ্জিত হয়েছিল ইউক্রেনের সেনা ও প্রতিরক্ষা বিভাগ। ছোট অস্ত্র থেকে ট্যাঙ্ক-কামান, নানা ধরনের রুশ যুদ্ধাস্ত্র হাতে ছিল কিয়েভের।

মার্কিন সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত তিন মাস ধরে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনের সেই অস্ত্রভাণ্ডার কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তাই আমেরিকা ও ন্যাটো দেশগুলোর দেওয়া অস্ত্র ব্যবহারে বর্তমানে জোর দিচ্ছে কিয়েভ।

রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধের শুরুতে কিয়েভকে অস্ত্র সরবরাহে খানিকটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিল পশ্চিমের দেশগুলো। ইউক্রেনের সৈন্যবাহিনীর হাতে হাতিয়ার তুলে দিলে তাদের অত্যাধুনিক অস্ত্র রুশ সৈন্যদলের নজরে আসতে পারে, পশ্চিমের দেশগুলোর মধ্যে এই আশঙ্কাই দানা বেঁধেছিল। তাই কিয়েভ বাহিনীর শক্তি বাড়াতে পশ্চিমা দেশগুলোর হাতে রুশ প্রযুক্তির সমকক্ষীয় অস্ত্রসম্ভার ছিল, তা জেলেনস্কির দেশকে সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছিল তারা।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসন চালায় পুতিনের দেশ। তারপর থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে সরগরম হয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। গত কয়েক মাসে ইউক্রেনের একাধিক শহরে যুদ্ধের বিভীষিকাময় ছবি সামনে এসেছে। মারিওপোল-সহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর কব্জা করেছে পুতিনের সৈন্যদল। ধারে ভারে কয়েক গুণ শক্তিশালী রুশ বাহিনীকে প্রতিহত করতে পিছপা হয়নি জেলেনস্কির দেশ। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, গত কয়েক মাস ধরে আগ্রাসন চালালেও ইউক্রেনকে পুরোপুরি ‘জব্দ’ করতে পারেনি রাশিয়া।