দুই দেশে দুই দানবীয় ডাইনোসরের সন্ধান

যুক্তরাজ্যের ইংলিশ চ্যানেলের আইল অব ওয়াইট ডাইনোসরের দ্বীপ হিসেবে পরিচিত। কারণ প্রাগৈতিহাসিক যুগের বহু দানবীয় সরীসৃপের ফসিল বা জীবাশ্ম পাওয়া গেছে এই দ্বীপে। সর্বশেষ যে জীবাশ্মটি পাওয়া গেছে, সেটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় ডাইনোসরের বলে ধারণা করছেন জীবাশ্মবিদরা। ৩৩ ফুট লম্বা এবং ৫ টন ওজনের এই ডাইনোসরটি প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে ঘুরে বেড়াত যুক্তরাজ্য, ইউরোপের উপকূলীয় এলাকায়।

জীবাশ্মবিদরা এখনো এই ডাইনোসরের নামকরণ করেননি, তবে আপাতত এর নাম ‘হোয়াট রক স্পাইনোসরিড’। এটি চলত দুই পায়ে এবং সবচেয়ে বিখ্যাত ডাইনোসর টি-রেক্সের মতো এরও ছিল দুটো ছোট আকৃতির বাহু। কিন্তু ডাইনোসরটির সঙ্গে টি-রেক্সের মূল পার্থক্য চোয়াল ও পিঠে। খননের পর যেসব জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, সেসব দেখে বোঝা যায় এটি আসলে স্পাইনোসরিড প্রজাতির। এসব ডাইনোসরের চোয়ালের সঙ্গে এখনকার কুমিরের চোয়ালের কিছুটা মিল আছে। আর মেরুদণ্ড থেকে প্রায় ৭ ফুট লম্বা হাড়-ত্বকের পাতলা আবরণে তৈরি লম্বা পালের মতো অংশ ছিল এর পিঠে। সামুদ্রিক বিশাল সব মাছ-প্রাণী শিকার করত এই ডাইনোসর।  

দানবীয় ডাইনোসরটির জীবাশ্ম খুঁজে পান ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের জীবাশ্মবিদ্যার শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দলটির প্রধান ক্রিস বার্কার জানান, শিকারি প্রজাতির ডাইনোসরগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ইউরোপে পাওয়া সবচেয়ে বড় ডাইনোসরের জীবাশ্ম এটি।

মমির দেশেও ডাইনোসর : মিসর বিশ্ববাসীর কাছে পিরামিড আর মমির দেশ। তবে প্রাগৈতিহাসিক যুগে এখানেও ঘুরে বেড়াত দানবীয় সরীসৃপ ডাইনোসররা। মিসরেও আবিষ্কৃত হয়েছে ডাইনোসরের জীবাশ্ম। সম্প্রতি প্রায় ৯ কোটি ৮০ লাখ বছরের পুরনো একটি ডাইনোসরের জীবাশ্মের সন্ধান পেয়েছে মিসরীয় জীবাশ্মবিদদের একটি দল।

মিসরের পশ্চিম মরুভূমির বাহারিয়া মরূদ্যানে খনন করে ডাইনোসরটির জীবাশ্মের সন্ধান পান তারা। এটিও দেখতে অনেকটা টি-রেক্সের মতো। এটি প্রায় ২০ ফুট লম্বা, ওজন ৩ টন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি আবেলিসরিড প্রজাতির ডাইনোসর। জীবাশ্মবিদদের মতে, একসময় আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ভারতীয় উপমহাদেশে এই প্রজাতির ডাইনোসরদের বিচরণ ছিল।