মালয়েশিয়ার সঙ্গে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি

দলের গোল খরা ঘুচিয়েছেন সুযোগসন্ধানী এক গোলে। তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে সেই গোলে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে কঠিন মঞ্চে কিছু প্রাপ্তির সুযোগ তৈরিও হয়েছিল। তবে রক্ষণের অসতর্কতা আর সতীর্থদের সুযোগ নষ্টের প্রদর্শনীতে কিছুই জুটেনি। তাই সে ম্যাচে গোল করেও অতৃপ্তি সঙ্গী হয়েছে মোহাম্মদ ইব্রাহিমের। সেই অতৃপ্তি আগামীকাল স্বাগতিক মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মেটাতে চান জাতীয় দলের এই উইঙ্গার।

কুয়ালালামপুরে গ্রুপের শেষ ম্যাচটা বাংলাদেশের জন্য শুধুই আনুষ্ঠানিকতার। চূড়ান্তপর্বে নাম লেখানোর সম্ভাবনা টানা দুই জয়ে প্রায় শেষ হয়ে গেছে। তাই এই ম্যাচটা শুধুই ইব্রাহিমদের কাছে অভিজ্ঞতা অর্জনের। তবে বসুন্ধরা কিংসের ফরোয়ার্ড মনে করেন র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়ার বিপক্ষে তার দল পাবে নিজেদের প্রমাণের আরেকটি সুযোগ। হারলেও বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে লড়াকু মনোভাব স্বাগতিকদের বিপক্ষে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে বাংলাদেশকে। তাই ইব্রাহিম চান, প্রথম ২ ম্যাচের একটিতে জিতে রানার্স-আপ হওয়ার সম্ভাবনা টিকে থাকা মালয়েশিয়ার কাজটা কঠিন করে তুলতে, ‘মালয়েশিয়া অবশ্যই ভালো দল। তবে আমরাও ওদের সহজে ছেড়ে দেব না। তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে ওরা দুটো গোল সেটপিস থেকে করেছে। বাহরাইন আমাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী দল, তবে ওরাও আমাদের এত সহজে গোল দিতে পারেনি। আমরা মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ভালো লড়াই করব। আমরা যখন অনেক দর্শকের সামনে খেলি, তখন আমাদেরও লড়াই করার মনোভাব কাজ করে।’ সেটপিসে গোল হজম নিয়মিত রোগে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের। শেষ দু’ম্যাচের হজম করা চার গোলের তিনটিই সেটপিস থেকে। ইব্রাহিম অবশ্য এরজন্য রক্ষণের দায় দেখছেন না। উল্টো সতীর্থদের রক্ষা করতে চেয়েছেন তিনি, ‘সেটপিসে আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে। তবে শুধু ডিফেন্স এর জন্য এককভাবে দায়ী নয়, সেটপিসের বিষয়টা পুরো টিম ওয়ার্কের বিষয়, সবাইকে এটা নিয়ে কাজ করতে হবে।’ ইব্রাহিম মনে করেন তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে নিদেনপক্ষে ড্র করা উচিত ছিল দলের, ‘সবাই দেখেছে আমরা অনেক ভালো ফুটবল খেলেছি। শেষ পর্যন্ত ভাগ্যের সহায়তা ছিল না বলে পয়েন্ট পাইনি। আমরা অন্তত একটা পয়েন্ট পেতে পারতাম। আমরা অনেকগুলো ম্যাচ এরকম জিততে জিততে কিংবা ড্র করতে করতে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে হেরে গেছি।’ তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে গোল পাওয়ায় আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও ভালো কিছু না নিয়ে মাঠ ছাড়ার আক্ষেপ ঝরেছে ইব্রাহিমের কণ্ঠে, ‘তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে গোল পাওয়াটা হয়তো পরের ম্যাচের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, তবে ওই ম্যাচের ফল তো আর বদলাবে না। তাই এই গোলের কোনো মূল্য নেই, যেহেতু আমরা পয়েন্ট পাইনি।’