আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠেয় সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে উপজেলা তথা নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে চলছে টান টান উত্তেজনা। এ ইউনিয়নে এবার নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে সাধারণ ভোটারদের ধারণা।
এই ইউনিয়নের টানা দুইবারের চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবুকে টপকে এবার দলীয় মনোনয়ন পান জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি তরুণ প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ সোহাগ রণি। স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ মাসুদ বাবু সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সাজেদ আলী মিয়ার ছেলে। তিনি সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান। এ দুই প্রার্থীই ইউনিয়নের এক ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ফলে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে দ্বিধাবিভক্তি। যদিও গত শনিবার বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তবে নৌকার প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ সোহাগ রণি অভিযোগ করেছেন, দিনে নৌকার পক্ষে কাজ করলেও রাতের আঁধারে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাই স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ মাসুদ বাবুর পক্ষে কাজ করছেন।
শাহ মোহাম্মদ সোহাগ রণি নৌকার মনোনয়ন এনে চমক দেখালেও আরিফ মাসুদ বাবু উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে এই ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে সৃষ্টি হয় নতুন সমীকরণ। সাধারণ ভোটাররা জানান, ইভিএম মেশিনে ভোট সঠিক হবে কি না, তা নিয়েও তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ মাসুদ বাবু বলেন, মোগরাপাড়া ইউনিয়নবাসী চায় একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন তিনি।
অপরদিকে রণি বলেন, ‘আমি নৌকার মাঝি, সুতরাং শেখ হাসিনার নৌকাকে জয়ী করতে মাঠে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে আমার কর্মী-সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন।
উপজেলা নির্র্বাচন কর্মকর্তা ইউসুফ-উর-রহমান বলেন, ‘মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। ইভিএম নিয়ে সাধারণ ভোটারদের উৎকণ্ঠার কিছু নেই। ইভিএমে ভোট হবে শতভাগ ফেয়ার। আমরা এ ব্যাপারে ভোটারদের আশ্বস্ত করেছি।’
নির্বাচনে শাহ মোহাম্মদ সোহাগ রণি (নৌকা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ মাসুদ বাবু (আনারস) ছাড়াও মাঠে আছেন আরও তিনজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তারা হলেন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের দেলোয়ার হোসেন (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবুর রহমান রক্সি (ঘোড়া) ও মো. সুরুজ মিয়া (মোটরসাইকেল)।
ইউপি সদস্য পদে লড়ছেন ৪৩ জন। আর সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে আছেন ১০ জন। ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আবুল হোসেন।
ইউনিয়নে মোট ভোটার ২৪ হাজার ২৩৪ জন। ১২টি ভোটকেন্দ্রে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।