মেয়েদের চুল পড়ে যাওয়াকে ডাক্তারি ভাষায় অ্যানড্রোজেনেটিক অ্যালোপিসিয়া বলে। মেয়েদের মাথার উপরিভাগের চুল ও দুপাশের চুল পাতলা হয়ে যায়। এক-তৃতীয়াংশ নারীর এ সমস্যা হয়। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২৫টি চুল পড়ে স্বাভাবিকভাবেই। চুল পড়ে যাওয়া তখনই সমস্যা, যখন দিনে ১২৫টির বেশি চুল পড়ে এবং সেই চুল গজায় না।
চুল পড়ার ধরন : চুল পড়ে যাওয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। অ্যানাজেন ইফফ্লুডিয়াম ও টেলোজেন ইফফ্লুভিয়াম। নানা রকম ওষুধ ও কেমোথেরাপির জন্য যখন চুল পড়ে, তখন তাকে অ্যানাজেন ইফফ্লুডিয়াম বলে। আর চুলের ফলিকল যখন রেস্টিং স্টেজে যায়, তখন তাকে টেলোজেন ইফফ্লুভিয়াম বলে। চুলের ফলিকল রেস্টিং স্টেজে যাওয়া মানে চুল আর বড় না হওয়া এবং একসময় চুল ঝরে যাওয়া।
চুল পড়ার বেশ কিছু কারণ : আগেই বলেছি চুল পড়া নারীদের পরিচিত সমস্যা। দিনে যদি ১০০ থেকে ১২৫টি চুল পড়ে তাহলে এটিকে স্বাভাবিক হিসেবেই নেবেন। তবে এর চেয়ে বেশি হলেই নিতে হবে বাড়তি যত্ন। যেসব কারণে চুল পড়ে
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন : অনেকেই ডায়েট কন্ট্রোল করার জন্য কম খেয়ে থাকেন। এতে করে তার প্রয়োজনীয় অনেক পুষ্টিই বিশেষ করে প্রোটিনের ঘাটতি হতে পারে। প্রোটিন চুলের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান, এর ঘাটতি হলে চুল পড়ে যেতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডালের মতো খাবার রাখুন।
ভিটামিন স্বল্পতা : ভিটামিন বি-১২ ও ভিটামিন-ডির অভাবে চুল পড়ে যায়। এ দুই উপাদান চুলের বৃদ্ধি ঘটায় ও মাথার ত্বকে পুষ্টি জোগায়। মাংস ও দুগ্ধজাত খাবারে মেলে ভিটামিন-১২ ও ভিটামিন-ডি। এ দুই উপাদানের ঘাটতি বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট খেতে পারেন।
জন্ম নিয়ন্ত্রণ : আপনি যদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়া শুরু করেন বা পিল পরিবর্তন করেন তবে তা চুলের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। এসব পিলে প্রোজেসটেরন হরমোন থাকে, যা চুল পড়ে যাওয়ার কারণ। তাই জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়ার আগে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
গর্ভধারণ : গর্ভধারণকালীন একজন নারীর নানা হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এর প্রভাবে চুল পড়ে যেতে পারে। গর্ভধারণকালে চুলপড়া স্বাভাবিক বিষয়। গর্ভধারণের ৩-৪ মাস পর তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। যদি স্থায়ীভাবে চুল পড়ে যায়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
চুলের স্টাইল : চুল বাঁধার স্টাইলের কারণেও চুল পড়তে পারে। আপনি যদি সব সময় উঁচু ও শক্ত করে চুল বাঁধেন তাহলে চুল ভেঙে পড়া শুরু হতে পারে।
হেয়ার ট্রিটমেন্ট : চুলে রং করা, রিবন্ডিং করা চুল পড়ার কারণ হতে পারে।
এ ছাড়া শারীরিক অসুস্থতা। যেকোনো অস্ত্রোপচারের পর, রক্তস্বল্পতা, ওজন কমে যাওয়া, হজমের সমস্যা, মানসিক চাপ, অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা, থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যা, ডায়াবেটিস, পলিসিসটিক ওভারি, মূত্রনালির প্রদাহ, ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অতিমাত্রায় ভিটামিন-এ গ্রহণ, উচ্চরক্তচাপের ওষুধ গ্রহণের ফলেও চুল পড়তে পারে। ওজন কমানোর জন্য অতিরিক্ত ডায়েট করলেও অনেক সময় চুল পড়তে পারে।
করণীয় : চুল ঝরে গেলেও আর নতুন চুল গজায় না। শরীর সারাতে ব্যস্ত থাকে; সব শক্তি এবং অনাদরে পড়ে যায় চুল। এসব ক্ষেত্রে চুল পড়তে থাকে তিন মাস, আবার চুল গজাতে সময় লাগে তিন মাস। অর্থাৎ ছয় মাস সময় লাগে চুল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে। তবে শারীরিক ও মানসিক চাপ খুব বেশি এবং দীর্ঘস্থায়ী হলে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে মেয়ে-ছেলে উভয়ের চুল পড়তে পারে। তবে হতাশ না হয়ে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।