সংযুক্ত আরব আমিরাতের চেয়ে আবুধাবি নামটি বেশি পরিচিত। সম্প্রতি স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করছে দেশটি। স্বাধীন আবুধাবির বয়স অর্ধশত হলেও এর ইতিহাস কয়েক শতাব্দীর। আবুধাবিকে কেবল মরুভূমির দেশ মনে করলে ভুল হবে। কারণ দেশটির বিশাল একটি অংশ সমুদ্রের পাশে। যাযাবর বেদুইনদের এই ভূখণ্ডে আছে সুপ্রাচীন স্থাপত্য ও সুশোভিত মরূদ্যান।
পাঁচ হাজার বছরের প্রাচীন কবরস্থান : দেশটির জেবেল হাফিত পার্বত্য এলাকায় আছে ৫০০-এর মতো প্রাচীন কবর। কবরগুলো প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরনো। আবুধাবির এই প্রাচীন কবরগুলো ব্রোঞ্জ যুগের নিদর্শন বলে ধারণা করা হয়। কবরগুলো দেখতে বরফের দেশের ইগলু আকৃতির। ১৯৫৯ সালে এখান থেকে চীনা মাটির পাত্র, তামার জিনিসপত্র খুঁজে পান প্রত্নতাত্ত্বিকরা। এ থেকে বোঝা যায় এলাকাটি সমুদ্রপথে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।
আল-আইন মরূদ্যান : বিশ্বের বিখ্যাত আল-আইন মরূদ্যানের অবস্থান আবুধাবিতে। ১ হাজার ২০০ হেক্টর জায়গায় ১০০-এর বেশি জাতের ১ লাখ ৪৭ হাজার খেজুরগাছ নিয়ে প্রায় চার হাজার বছরের পুরনো এই মরূদ্যান। মরূদ্যানটি আধুনিক সেচব্যবস্থার প্রাচীনতম উদাহরণও বটে। স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে আল-আইন মরূদ্যান ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
কাসর আল হোসন : আঠারো শতকের হোসন প্রাসাদ বা কাসর আল হোসন সূচনা হয়েছিল ওয়াচ টাওয়ার হিসেবে। এরপর ধীরে ধীরে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এই প্রাসাদের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। জনশ্রুতি আছে, এই প্রাসাদের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকত। প্রাসাদে এসে শেখদের কাছে নিজেদের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারত আবুধাবিবাসী।
আল-আইন প্রাসাদ : আবুধাবি দেশটির প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান এবং রাজপরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই প্রাসাদের নাম। ১৯৬০ পর্যন্ত এই প্রাসাদেই বসবাস ছিল তাদের। বর্তমানে এই প্রাসাদকে জাদুঘরে পরিণত করা হয়েছে। তেলের খনি আবিষ্কারের আগেকার আবুধাবির রূপ দেখতে দর্শনার্থীরা চাইলে ঘুরে দেখতে পারেন এটি।