উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার ডারউইন নুনেজ যে লিভারপুলের আসছেন তা পুরোপুরি নিশ্চিত। তার পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা সেই খবর জানিয়ে দিয়েছে।
২২ বছর বয়সী তারকাকে অ্যানফিল্ডে আনতে কত খরচ হচ্ছে জানেন? ১০০ মিলিয়ন ইউরো। ট্রান্সফার ফি’র ৭৫ মিলিয়ন ইউরোর সঙ্গে যোগ হবে আনুষঙ্গিক আরও ২৫ মিলিয়ন ইউরো। তাতে নুনেজই হয়ে গেলেন লিভারপুল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়।
এক সময় ১০০ মিলিয়ন ইউরোতে ট্রান্সফারে চোখ কপালে উঠত সবার। তবে এখন তা বেশ স্বাভাবিক ইউরোপের ফুটবলে। তারপরও প্রশ্ন উঠতে পারে, এত বিশাল অঙ্কের টাকা খরচে কেন নুনেজকে কিনল অলরেডরা?
তার জন্য ফিরতে হবে কোচ ইউর্গেন ক্লপের দিকে। অ্যানফিল্ডের জার্মান কোচকে জহুরিই বলা যায়। হীরে চিনতে ভুল করেন না। ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডে ২০১৮ সালে সাউদাম্পটন থেকে ভার্জিল ফন ডাইককে কিনেছিলেন। যা ছিল লিভারপুলের এত দিনের ট্রান্সফার ফি’র রেকর্ড। ডাচ সেন্টার-ব্যাক ঠিকই ক্লপের বিশ্বাসের প্রতিদান দিচ্ছেন।
নুনেজও কি পারবেন? হঠাৎ এই স্ট্রাইকারের দিকেই কেন বা ক্লপের চোখ পড়ল! কারণ খুঁজতে আরেকটু পিছিয়ে যাওয়া যাক। গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০ ম্যাচে ৬ গোল করেছেন নুনেজ। তার মধ্যে এপ্রিলে কোয়ার্টার ফাইনালে বেনফিকাকে পেয়েছিল লিভারপুল। দুই লেগেই অলরেডদের বিপক্ষে গোল করেন তিনি।
বেনফিকার জার্সিতে গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪১ ম্যাচে ৩৪ গোল করেছেন নুনেজ। তার মধ্যে লিগে ২৮ ম্যাচে ২৬ গোল। আর শুরুর একাদশে নামা ২৪ ম্যাচে ২৫ গোল। স্বাভাবিকভাবে যে কারও উরুগুয়ের হয়ে ১১ ম্যাচ খেলা এই গোলমেশিনের দিকে চোখ পড়বেই।
ক্লপও তার সাজানো রক্ষণভাগ ভেঙে গোল করা স্ট্রাইকারকে দলে পেতে চাইবে না তা কীভাবে হয়? মনে আছে তাকুমি মিনামিনোর কথা? এই জাপানিজ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে তো এখন অনেকে দলে পেতে চাইছে। ইউরোপের ফুটবলে মিনামিনোকে ‘লাইমলাইটে’ নিয়ে আসার পেছনেও ছিলেন ক্লপ।
২০১৯ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের ফিরতি লেগে ২৭ বছর বয়সী তারকা একাই খাবি খাইয়েছিলেন লিভারপুলকে। মিনামিনো নৈপুণ্যে সেই ম্যাচে তিন গোলে পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল রেড বুল সালজবুর্গ। ফন ডাইককে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানানোর পাশাপাশি এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট করেন তিনি। অবশ্য ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত লিভারপুল জেতে। আর পরের মৌসুমে মিনামিনোকে অ্যানফিল্ডে নিয়ে আসেন ক্লপ।
মোহামেদ সালাহ, সাদিও মানে, রবার্তো ফিরমিনোকে নিয়ে গড়া জুটিকে বলা হয় বিশ্বের সেরা আক্রমণভাগ। অবশ্য তাতে ফাটল ধরছে। লিভারপুল ছেড়ে চলে যেতে চান মানে। তবে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডে সেনেগালিজ তারকার বায়ার্ন মিউনিখে যাওয়ার প্রস্তাব বাতিল করেছে লিভারপুল।
শেষ পর্যন্ত মানে কি থাকবেন অ্যানফিল্ডে? সালাহর দিকেও চোখ অনেক ক্লাবের। মিসরীয় তারকা পরের মৌসুমে ফ্রি এজেন্ট হয়ে যাবেন। এখনো লিভারপুলের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেননি তিনি। দুই আফ্রিকান যদি পরের মৌসুম অন্য কোথাও চলে যান তবে ক্লপকে চিন্তায় পড়তে হবে।
ফিরমিনো ছাড়া যে তার আক্রমণভাগে অভিজ্ঞ কেউ থাকছে না তখন! অবশ্য ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের সঙ্গেও লিভারপুলের চুক্তি আছে আর ১২ মাস। সেসব চিন্তা করে ডারউইনের জন্য পকেট থেকে বড় অঙ্কের অর্থ খসাতে রাজি হলো ইংলিশ জায়ান্টরা।
লিভারপুলেরে প্রিমিয়ার লিগ প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও চেয়েছিল নুনেজকে পেতে। তবে এখানেও রেড ডেভিলদের হারিয়ে দেয় অলরেডরা। ১৯ বছর বয়সী পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ফাবিও কারভালহোর পরে তাদের দ্বিতীয় চুক্তি হিসেবে নুনেজ।
২০২০ সালে স্প্যানিশ ক্লাব আলমেরিয়া থেকে ২৪ মিলিয়ন ইউরোতে এই স্ট্রাইকারকে কিনেছিল বেনফিকা। দুই বছর না যেতেই তার দাম ১০০ মিলিয়ন ইউরো!