কৃষকের বরাদ্দের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে কৃষকদের জন্য সরকারি বরাদ্দের সার, বীজ, কীটনাশকসহ নানা উপকরণের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। বিল ভাউচারসহ কাগজপত্রে সব ঠিক থাকলেও বাস্তবে সরকারি বরাদ্দের তেমন কিছুই পৌঁছেনি কৃষকের কাছে। এমন অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি কার্যালয় থেকে কৃষি প্রদর্শনীর জন্য কয়েকশ কৃষককে ভুট্টা, ধান, গম, সবজি, টমেটো, বেগুন ও সরিষা চাষ বাবদ সরকারিভাবে সার, বীজ, কীটনাশকসহ নগদ সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফসলভেদে প্রতি কৃষকের জন্য এ বরাদ্দ ৬০ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা। কিন্তু অধিকাংশ কৃষক বরাদ্দের খুব সামান্যই পেয়েছেন।

মোহনগঞ্জের বড়তলী-বানিয়াহারী ইউনিয়নের মাহমুদ গ্রামের শামছু মিয়া প্রদর্শনীর জন্য দুই একর জমিতে টমেটো চাষ করেন। কৃষি কার্যালয়ের কাগজপত্রে শামছু মিয়ার জন্য সরকারি বরাদ্দ হলোÑ বীজ বাবদ ২ হাজার টাকা, বীজ শোধন ৫০০ টাকা, ইউরিয়া সার ৪ হাজার ৮০০ টাকা, টিএসপি সার ৫ হাজার টাকা, এমওপি সার ২ হাজার ১০০ টাকা, জিপসাম ২ হাজার, জিংক সালফেট ১ হাজার ২০০ টাকা, বোরন ২ হাজার ৪০০ টাকা, ভার্মিংকম্পোস্ট ৫ হাজার টাকা, শেড ও নেট/বেড়া তৈরি ৯ হাজার ৫০০ টাকা, বালাই ব্যবস্থাপনা ৭ হাজার টাকা, সেচ ও পরিচর্যা বাবদ ৫ হাজার টাকা, দুটি সাইনবোর্ড বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা ও অন্যান্য খরচ ১২ হাজার টাকাসহ মোট ৬০ হাজার টাকা।

কিন্তু শামছু মিয়া জানান, তাকে কৃষি অফিস থেকে টমেটো বীজ, তিন প্রকারের ৯ বস্তা সার, আট প্যাকেট কীটনাশক ও একটি সাইনবোর্ড ছাড়া আর কিছুই দেওয়া হয়নি। বাজার যাচাই করে দেখা গেছে এসবের মূল্য মাত্র ১০ হাজার টাকার মতো।

শামছু মিয়া বলেন, ‘যেহেতু আমি জানি না আমার জন্য কত বরাদ্দ। তাই কৃষি অফিস থেকে যা দিয়েছে তা-ই নিয়েছি। প্রদর্শনীর জন্য দুই একর জায়গায় টমেটো চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’ উপজেলার ভরাম গ্রামের ধানচাষি মির্জা সারোয়ার জাহান বলেন, ‘প্রদর্শনীতে আমরা পাঁচ-সাত জন মিলে ৫০ একর জমিতে ধান চাষ করেছি। আর ব্যক্তিগতভাবে করেছি আরও ৫ একর। ৫০ একরের জন্য কৃষি অফিস থেকে শুধু বীজ পেয়েছি। আর নিজের ৫ একরের জন্য বীজ ও সার পেয়েছি। আর কিছুই পাইনি।’

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাকিল আহম্মেদ বলেন, ‘কৃষকরা যতটুকু পাওয়ার কথা বলেছে এটা সত্যি। আমাকে অফিস থেকে যা দেওয়া হয়েছে তা-ই তাদের দিয়েছি। বরাদ্দ কত আমার জানা নেই।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘প্রদর্শনীর উপকরণ বরাদ্দ অনুযায়ী বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদের সুবিধার্থে অনেক ক্ষেত্রে কিছুটা কম-বেশি করে সমন্বয় করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অফিসাররাও ভাতা নিয়েছেন। এগুলো তো এর মধ্যেই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছব্বির আহম্মেদ আকুঞ্জি বলেন, ‘সরকার কৃষিতেই বেশি বরাদ্দ দিয়ে থাকে। প্রদর্শনীতে কৃষকদের যে যে আইটেম দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা আছে সেগুলো দিতে হবে। প্রয়োজনে দামের বিষয়ে কমবেশি করে সমন্বয় করা যেতে পারে। এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলব।’