মাসয়ালা

দুধের শিশুর বমি নিয়ে ভ্রান্তি

অনেকে দুধের শিশুর বমিকে নাপাক মনে করে না। বিশেষ করে দুধ পান করার পরক্ষণে যদি বমি করে আর ওই বমি দুর্গন্ধযুক্ত না হয় তাহলে ওই বমিকে নাপাক মনে করা হয় না। এটা সম্পূর্ণ ভুল।

এ ব্যাপারে সঠিক মাসয়ালা হলো, শিশুর দুধ বমির হুকুম বড়দের বমির মতোই। মুখ ভরে বমি হলে সেই বমি নাপাক। চাই দুধ পানের পরক্ষণেই বমি করুক বা পরে, বমি দুর্গন্ধযুক্ত হোক বা না হোক। আর মুখ ভরে না হলে ওই বমি নাপাক নয়। - রদ্দুল মুহতার : ১/১৩৮

অল্প বমিকেও নাপাক মনে করা

অনেকে শিশুর অল্প বমিকেও নাপাক মনে করে। কাপড়ে-শরীরে লাগলে তা নাপাক হয়ে গেছে, ভাবে। অথচ অল্প বমি নাপাক নয়। বমি যতই দুর্গন্ধপূর্ণ হোক না কেন। সুতরাং ওই বমি কোনো কিছুতে লাগলে সেটি নাপাক হবে না। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১৪/৪৬

শিশুর পোশাক নিয়ে ভ্রান্তি

তিন-চার বছর বয়সী শিশুর ওপর সতরের (সতর-এর আভিধানিক অর্থ ঢেকে রাখা। অর্থাৎ শরীরের যেসব অঙ্গ লজ্জার কারণে ঢেকে রাখা হয় তাকে সতর বলা হয়) বিষয় নেই, কিন্তু এজন্য প্রয়োজন ছাড়াও অনেক সময় তাদেরকে উলঙ্গ করে রাখতে দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে। হ্যাঁ, এক-দেড় বছর বয়সী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এতে তেমন একটা দোষ নেই। কিন্তু এর চেয়ে বেশি বয়সী বাচ্চার প্রয়োজন ছাড়া সতর খুলে রাখা ঠিক নয়।

আর বাচ্চার বয়স চার বা তার বেশি হলে তার সামনে ও পেছনের সতরের অংশ ঢেকে রাখা জরুরি। এ বয়সের পরও তাদের সম্পূর্ণ বস্ত্রহীন রাখা গোনাহ। এরপর বাচ্চার শারীরিক গড়ন স্পষ্ট হয়ে উঠছে, এমন বয়সে উপনীত হলে সতরসহ আশপাশের অঙ্গ যথা উরু ইত্যাদি ঢেকে রাখা জরুরি। এ বয়স থেকেই বাচ্চাকে পূর্ণ পোশাক যথা পায়জামা পরানো ভালো। যেন সাত বছর থেকেই পূর্ণ পোশাকে শিশু অভ্যস্ত হয়ে যায়। আর নয়-দশ বছর থেকে বাচ্চার সতর বালেগদের মতোই, একই হুকুম।

আজকাল ৬-৭ বছর বয়সী বাচ্চাদের হাফপ্যান্ট পরানো হয়, যা আদৌ সমীচীন নয়। আর ৯-১০ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে তো হাফপ্যান্ট পরানো নাজায়েজ। -ইলাউস সুনান : ২/১৭১-১৭২

গ্রন্থনা : মাওলানা সাদিকুর রহমান