নগরে বর্ষাবরণ

বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও কর্মহারা শ্রমিকদের জন্য রেশন চালুর দাবি জানিয়ে বর্ষা উৎসব উদযাপন করেছে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক পরামর্শ কেন্দ্রের (টিএসসি) ভেতরের সবুজ চত্বরে বর্ষা উৎসব উদযাপন করেছে জাতীয় বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদ।

গতকাল বুধবার আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে গান-আবৃত্তি-নাচসহ নানা আয়োজনে নগরীতে উদযাপন করা হয় ঋতুরানী বর্ষার আগমনের দিনটি।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সকাল ৭টায় মেঘমল্লার রাগের ওপর জ্যোতি ব্যানার্জির সেতার বাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদীচীর বর্ষা উৎসব। অনুষ্ঠানে সমবেত গান পরিবেশন করে ঢাকা মহানগর সংসদ, উদীচী মিরপুর, বাড্ডা, লালবাগ, রায়েরবাজার ও সাভার শাখা। নৃত্য পরিবেশন করে উদীচী কাফরুল শাখা ও নৃত্যশিল্পী মুক্তা ঠাকুর। আবৃত্তি করেন অনন্যা লাবণী পুতুল, বেলায়েত হোসেন ও মিজানুর রহমান সুমন। একক গান করেন বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি, মেহেদী ফরিদ ও রেজাউল করিম টুলু। পথনাটক ‘বরাক বাঁশ’ পরিবেশন করে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের নাটক বিভাগ।

এর আগে হাবিবুল আলমের সভাপতিত্বে বর্ষাকথন পর্বে বক্তৃতা করেন অধ্যাপক বদিউর রহমান, অমিত রঞ্জন দে ও অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী। বক্তারা বলেন, শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বৃষ্টিবিলাসের উদ্দেশ্যে বর্ষা উৎসবের আয়োজন নয়, ঋতুভিত্তিক এ অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে গ্রাম-নগরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন আরাধনাই উদীচীর লক্ষ্য। শ্রমজীবী মানুষের জীবন আরাধনার পাশাপাশি প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করে গড়ে ওঠা নানা প্রকল্প বাতিল, অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধ এবং দখল হওয়া নদ-নদী উদ্ধার করতে হবে।

অন্যদিকে টিএসসিতে সকাল সাড়ে ৭টায় যন্ত্রসংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদের আয়োজন। ধরিত্রীকে সবুজ করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বর্ষাকথন পর্বে অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি নূরুল হুদা, সাহিত্যিক ও গবেষক ড. হায়াৎ মামুদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। অধ্যাপক ড. নিগার চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করেন মানজার চৌধুরী সুইট।

সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব ঘোষ, প্রিয়াংকা গোপ, অনিমা রায়, তানভির সজিব, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, রতœা সরকার, অনিমা রায় ও নবনীতা জাইদ চৌধুরী। আবৃত্তি করেন আহকাম উল্লাহ, মাসকুর-এ-সাত্তার কল্লোল ও নায়লা তারাননুম চৌধুরী কাকলি। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নাচের দল স্পন্দন, নৃত্যাক্ষ, সুরবিহার, নিক্কণ পারফরমিং আর্ট সেন্টার ও নৃত্যজন। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন বহ্নিশিখা, স্ব-ভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, পঞ্চভাস্কর, সুরবিহার ও সুর সাগর ললিতকলা একাডেমি।