আসামি ছাড়াতে থানা ঘেরাও

পটুয়াখালীতে সংঘর্ষে ৫ পুলিশসহ আহত ২০

পটুয়াখালীর মহিপুর থানা ভবন ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের লাঠিপেটায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ঘেরাওকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে এক এসআইসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যও আহত হন।

গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেনÑ এসআই হালিম, কনস্টেবল মিলন, ওবায়দুল, শীলা ও নাসরীন। আহতদের মধ্যে তিন পুলিশ সদস্য কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত অন্যরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার মামলায় গতকাল দুপুর ২টার দিকে খলিল ঘরামী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। এরপর তার ছোট ভাই ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের (খাজুরা) পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী জলিল ঘরামীর নেতৃত্বে শতাধিক নারী-পুরুষ থানা ভবনের ভেতরে ও গেটের বাইরে অবস্থান নেন। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত থানা ভবন ঘেরাও করে তারা খলিল ঘরামীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। এ সময় পুলিশ তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। একপর্যায়ে পুলিশ থানা ভবনের ভেতরে অবস্থানকারীদের লাঠিপেটা করে।

পুলিশের লাঠিপেটায় আবদুর রাজ্জাক, রাজা মিয়া, দুলাল, মনির মোল্লা, মনিরুজ্জামান, কাদের মাঝি, মিলন ব্যাপারী, ওবায়দুল্লাহ, ইলিয়াস, রায়হান, মোসলেম, মজিদ, ইউসুফ, বিউটি ও সাফিয়া আহত হন। তাদের কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহত সাফিয়া বলেন, ‘একজন নিরপরাধ লোককে থানায় ধরে নিয়ে এসেছে। এর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদস্বরূপ আমার ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে থানার সামনে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশ অতর্কিত আমাদের লাঠিপেটা করেছে।’

মহিপুর থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, ‘থানা কম্পাউন্ড থেকে অবস্থানকারীদের সরে যেতে অনুরোধ করলেও তারা কর্ণপাত করেনি। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে জলিল ঘরামী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে এ ঘটনায় ওই এলকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’