রাজধানীর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজছাত্রী আফনান প্রীতি হত্যাকা-ে ব্যবহৃত গুলি সরবরাহ হয়েছে পুরানা পল্টনের একটি অস্ত্রের দোকান থেকে। দোকানটির মালিক ইমরান আহমেদ জিতুসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মতিঝিল বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে মতিঝিলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইমরান আহমেদ জিতুসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। অন্যজন হলেন রাকিবুর রহমান। এ নিয়ে আলোচিত এই জোড়া খুনের ঘটনায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
ডিবির মতিঝিল বিভাগের একজন অতিরিক্ত উপকমিশনার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা টিপু ও কলেজছাত্রী আফনান প্রীতি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করতে না পারলেও আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি সরবরাহকারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাদের দুদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওমান থেকে ফেরত আনা আসামি সুমন শিকদার ওরফে মুসাকে দ্বিতীয় দফায় আরও ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এর আগে তাকে ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও বলেন, মুসার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিতু ও রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিতু হলেন পুরানা পল্টনের প্রীতম ভবনের আগ্নেয়াস্ত্রের দোকান আর্মস মিউজিয়ামের মালিক। এই দোকানের সরবরাহ করা গুলি দিয়েই টিপু হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। কাজেই এই মামলায় জিতু ও তার সহযোগী রাকিব গুরুত্বপূর্ণ আসামি। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্রের সন্ধান ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে তাদের কাছে।
জানতে চাইলে মামলার তদারকি কর্মকর্তা ডিবির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, জিতু ও রাকিবের কাছ থেকে ১৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা টিপু হত্যায় যে গুলি ব্যবহার করা হয়েছে সেই গুলির জোগানদাতা এই দুজন। তাদের সঙ্গে অপরাধ জগতের অনেক সন্ত্রাসীর যোগাযোগ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
গত ২৪ মার্চ রাত সোয়া ১০টার দিকে নিজের গাড়ি করে বাসায় ফেরার সময় রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম শাহজাহানপুর আমতলা এলাকায় এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যা করা হয় জাহিদুল ইসলাম টিপুকে। এ সময় পাশেই যানজটে আটকে থাকা রিকশা আরোহী কলেজছাত্রী সামিয়া আফনান প্রীতিও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আলোচিত এই জোড়া খুনের ঘটনার দুই দিনের মাথায় ডিবির একটি দল শ্যুটার আকাশ মোহাম্মদ মাসুমকে গ্রেপ্তার করে। হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি। তার স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় আরফান, শামীম, মানিক ও মুসার নাম উঠে আসে। মানিকও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরই মধ্যে আলোচিত এই জোড়া খুনের ঘটনায় সুমন শিকদার মুসাকে ওমানের পুলিশ আটক করে। সেখান থেকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।