দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এবং ভারতের মেঘালয় ও আসামে প্রবল বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে সিলেট বিভাগে।
পানিতে ডুবে গেছে পুরো সুনামগঞ্জ। নেই বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক। এমতাবস্থায় জীবন রক্ষায় শেষ আশ্রয়স্থল হয়েছে পর্যটকদের হাউস বোটগুলো।
শুক্রবার সকাল থেকে শত শত মানুষ বোটগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। তবে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
পর্যটনবাহী বোট জলতরঙ্গ ও জলনিবাসে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় দেড়শত মানুষ।
'জলতরঙ্গ' এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন বলেন, ‘আমরা পর্যটকদের নিরাপদে ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছি। তবে এই বিপর্যয়ে সুনামগঞ্জের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। বর্তমানে সুনামগঞ্জের সাহেব বাড়ি ঘাটে অবস্থান করছি।’
তেঘরিয়া ইউনিয়নের নারী-শিশুসহ প্রায় ১৫০ জন মানুষ আমাদের বোটে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের তিন বেলা খাবার দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তবে বোটে পর্যাপ্ত খাদ্য নেই। দ্রুত সময়ে ত্রাণ সহযোগিতা না আসলে চরম খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে জানান তিনি।
গত বুধবার থেকে ভারী বৃষ্টি থাকায় পর্যটকবাহী বোটগুলো যাত্রা বাতিল করে দিলেও তারপরও কিছু অতি উৎসাহী পর্যটক সুনামগঞ্জ এসেছে।
শনিবার সকাল পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৩০০ পর্যটক বিভিন্ন স্পটে আটকা পড়ে আছে। রেসকিউ টিম তাদের অনেককে বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন।
পর্যটকদের উদ্ধারকাজের সমন্বয়কারীদের একজন বিজয় কুমার ঘোষ জানান, আটকে পড়াদের উদ্ধারে টুরিস্ট বোট অ্যাসোসিয়েশন অফ সুনামগঞ্জের প্রায় ৭০টি বোট ও শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে যাচ্ছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে ঠিক কতজন পর্যটক সেখানে আটকা পড়েছেন সে বিষয়ে কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছে না বলেও জানান তিনি।