আজ মহাসমাবেশ ডেকেছে রোহিঙ্গারা

কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গণহত্যার বিচার, নিজ দেশে ফেরতসহ বিভিন্ন দাবিতে ‘গো হোম’ বা ‘বাড়ি চলো’  প্রচারণা শুরু করেছে রোহিঙ্গারা। এ লক্ষ্যে আজ রবিবার মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে তারা। বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৯-এ হবে মূল সমাবেশ। এ ছাড়া উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে আরও কয়েকটি সমাবেশ হওয়ার কথা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার পাশাপাশি লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সমাবেশ সফল করার আহ্বানসংবলিত পোস্টার লাগানো হয়েছে ক্যাম্পে। তবে গতকাল শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত মেলেনি সমাবেশের অনুমতি। সমাবেশের বিষয়ে কোনো কথাই বলছে না ক্যাম্প প্রশাসন। তবে সমাবেশে ১৯টি দাবিসংবলিত একটি লিফলেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পেয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

আগামীকাল সোমবার বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে ‘নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী’র ব্যানারে মহাসমাবেশ ও ছোট ছোট সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এসব সমাবেশে তারা গণহত্যার বিচার, দ্রুত প্রত্যাবাসনসহ বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরবে।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ক্যাম্পে প্রথমবারের মতো বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত মাস্টার মুহিবুল্লাহর নেতৃত্বে। কিন্তু এবারের সমাবেশে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সে বিষয়টি এখনো গোপন রাখছে রোহিঙ্গারা।

তবে একটি সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পে এবারও সমাবেশ আয়োজনে সাধারণ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে নিয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে প্রয়াত রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহর হাতে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি পিস ফর হিউম্যান রাইটস।

ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গারা বলেছেন, এ ধরনের একটি সমাবেশ হওয়ার কথা তারা শুনেছেন। তরুণরা এ সমাবেশ করতে অনেক দিন ধরে কাজ করছেন।

সমাবেশে উত্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা ওই দাবিগুলো হলো রোহিঙ্গাদের রোহিঙ্গা বলেই ডাকতে হবে, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যাবাসন হতে হবে, সীমিত সময় রাখা যাবে মিয়ানমার ট্রানজিট ক্যাম্পে, প্রত্যেক রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন করতে হবে, প্রত্যেক রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন করতে হবে গ্রামে গ্রামে, প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত প্রত্যেক চুক্তি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ওআইসি, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশ, এনজিও, সংশ্লিষ্ট সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, বার্মার ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বাতিল, সম্পত্তি ফেরত, স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকারসহ ইত্যাদি।

রোহিঙ্গা সূত্রে জানা গেছে, বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৯-এর ফুটবল মাঠে সকাল ১০টায় শুরু হবে মহাসমাবেশ। সেখানে একসঙ্গে যোগ দেবে ক্যাম্প ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ নম্বরে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। তবে বাকিরা বিভিন্ন ক্যাম্পে পৃথক সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০১৭ সালে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশ সরকার তাদের উখিয়ার টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে আশ্রয় দেয়। তাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে বাংলাদেশ বিশাল বনভূমি হারিয়ে ফেলে। কিছু রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীর আনাগোনায় উখিয়া-টেকনাফ পরিণত হয়েছে সন্ত্রাসের জনপদে। ফসলের জমি বিনষ্ট, নিরাপত্তাহীনতা, ব্যয় বৃদ্ধিসহ নান কারণে দিন দিন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

সমাবেশের বিষয়ে ৮ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কামরান হোসেন বলেন, ‘মিয়ানমারে ফিরে যেতে রোহিঙ্গারা “গো হোম” ক্যাম্পেইন নামে একটি সমাবেশ করার কথা লোকেমুখে শুনেছি। বিস্তারিত জেনে বলতে হবে।’