টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বহুরিয়া ইউনিয়নের গেড়ামেড়ার সড়কে একটি মাত্র বাঁশের সাঁকো, যার ওপর দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে হাজারও মানুষ। চলাচলের জন্য একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো হওয়ায় প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মির্জাপুরসহ চার উপজেলার বাসিন্দারা।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের দেওহাটা থেকে ধামরাই হয়ে ঢাকা যাওয়ার অন্যতম সড়ক দেওহাটা-ধানতারা আঞ্চলিক সড়ক। এই সড়কটি মির্জাপুর উপজেলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ধামরাই, সাটুরিয়া ও কালিয়াকৈরের কয়েকটি ইউনিয়নে যোগাযোগের সহজ মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও হাজারও মানুষের চলাচল রয়েছ এই সড়ক দিয়ে।
প্রায় চার বছর আগে সড়কটির গেড়ামাড়া নামক স্থানে বন্যার পানির স্রোতে প্রায় দেড়শ ফুট পরিমাণ ভেঙে যায়। ওই সময়ের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন বরাদ্দ দিয়ে ওই স্থানে মাটি ভরাট করার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু গত দুই বছর আগে বন্যায় পানির স্রোতে সড়কটির ওই স্থানে আবার ভেঙে যায়। এতে চলাচলকারীরা পড়েন দুর্ভোগে। বন্ধ হয়ে যায় সকল ধরনের যানবাহন চলাচল।
এলাকাবাসী ও সড়কে চলাচলকারীদের দুর্ভোগ লাঘবে বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। সাঁকোটি জরাজীর্ণ হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় ওই সড়ক সংস্কারের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাশেই আরও একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দেয়। সাঁকোটি রাস্তা থেকে কয়েক ফুট উঁচু হওয়ায় পথচারীদের চলাচল বন্ধ থাকে। পথচারীদের দুর্ভোগ দেখে ওই ইউনিয়নের গোহাইলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা হংকং আ.লীগের সভাপতি আবুল কালম আজাদ লিটন রাস্তার সঙ্গে একটি সংযোগ সাঁকো নির্মাণ করে দেন।
এরপরও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল ও রিকশা নিয়ে কেউ সাঁকো পার হতে চাইলে পেছন থেকে ঠেলতে বাড়তি লোক প্রয়োজন হয়। তা ছাড়া সিএনজি চালিত অটোরিকশা, লেগুনা, পিকআপ ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাঁকোটির এপার-ওপার থেকে মানুষ এসব যানবাহনে চলাচল করছে বলে স্থানীয়রা জানান।
বহুরিয়া ইউপি সদস্য শাজাহান মিয়া ও গবড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফজল জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই ভাঙা স্থানে পারাপারের একমাত্র উপায় হিসেবে রয়েছে বাঁশের সাঁকো। জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে ওই স্থানে একটি পাকা সেতু খুবই জরুরি।
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, গেড়ামারা অংশের ভাঙন এলাকায় একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হবে।