চুয়াডাঙ্গা বিসিক মেলায় অনিয়ম মধ্যরাত পর্যন্ত চলে নৃত্য

চুয়াডাঙ্গায় মাসব্যাপী চলা বিসিক মেলায় বিসিকের কোনো নিয়মনীতিই মানা হচ্ছে না। অনিয়মকে নিয়ম করে প্রবেশ ফিসহ রাখা হয়েছে সার্কাস ও অন্যান্য চড়ামূল্যের রাইড। সার্কাসের নামে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে রুপালি পর্দার নায়ক-নায়িকাদের নৃত্য। মেলাকে ঘিরে প্রতিদিন চলছে লাখ লাখ টাকার অবৈধ বাণিজ্য।

স্থানীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, মেলা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ৫০টি স্টলের মধ্যে চুয়াডাঙ্গার মাত্র একজন উদ্যোক্তা স্টল দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বাকি সব স্টলই ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যবসায়ীদের দখলে। এসব ব্যবসায়ীর নিম্নমানের পণ্যে ঠাসা মেলা প্রাঙ্গণ। নিয়ম অনুযায়ী, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের নিয়ে এ মেলা আয়োজন করার কথা। কোনো প্রবেশ মূল্য, সার্কাস, রাইড থাকবে না। কিন্তু মেলায় প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া স্টলে থাকার কথা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের তৈরি সব পণ্য।

জানা গেছে, দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পোদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বিপণনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আদলে বড় পরিসরে মেলা আয়োজন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে জেলায় জেলায় শুরু হয় এ বিসিক মেলা। গত ২০ মে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে উদ্বোধন করা হয় মাসব্যাপী এ মেলার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন বিকেল থেকে জমজমাট হয়ে উঠে মেলা। চড়ামূল্যের বিভিন্ন রাইডসের পাশাপাশি সার্কাসের নামে চলে নৃত্য-সংগীত। রুপালি পর্দার নায়ক-নায়িকাদের আকর্ষণে রেখে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে এসব নৃত্য।

স্টল ঘুরে দেখা যায়, জামা-কাপড়, জুতা-স্যান্ডেল, প্রসাধনী, ঘরের সাজসজ্জার পণ্য সবকিছুই আছে এ মেলায়। তবে একটি পণ্যও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের হাতে গড়া নয়। একটি মাত্র স্টল রয়েছে স্থানীয় এক উদ্যোক্তার। খালিদ বিন ওয়ালিদ নামে ওই উদ্যোক্তা বলেন, ‘মেলায় অন্তত ৫০টির মতো স্টল রয়েছে। যার মধ্যে আমার একটি স্টলই চুয়াডাঙ্গার। আমি নারিকেলের মালা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন শখের পণ্যের পসরা বসিয়েছি।’

স্থানীয় উদ্যোক্তা সঙ্গী খাতুন বলেন, ‘আমি বিসিকের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তা। অথচ মেলা শুরুর আগে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।’ লাবণী নাসরিন নামে আরেক উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমাদের উদ্যোক্তা গ্রুপে অন্তত ৮০ জন রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে চুয়াডাঙ্গাতেই রয়েছেন দেড় শতাধিক উদ্যোক্তা। তাদের কেউই জানেন না যে বিসিক মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগে থেকে জানলে অনেকেই স্টল নিতে পারত।’

বিসিক মেলা নিয়ে অভিযোগ ও আপত্তি রয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও। ব্যবসায়ী নেতা মাহফুজুর রহমান জোয়ার্দ্দার মিজাইল বলেন, ‘নামে বিসিক মেলা। বিসিক মেলার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে চলছে অবৈধ বাণিজ্য।’

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা বিসিকের উপব্যবস্থাপক সামসুজ্জামান বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের কাছে সব বিষয়ে অনুমতি নিয়েই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য সার্কাস ও রাইডসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মেলার সময় বাড়ানোর জন্য আরও ১০ দিনের আবেদন করা হয়েছে।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেলার মাঠে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করে সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।’