অনুশীলনের পরপরই বসতেন মদ নিয়ে, থামতেন ভোর ৪টায়

মদে আসক্তি এমন তীব্র পর্যায়ে চলে যাবে হয়তো বুঝতে পারেননি চিচিনহো। এমনকি অনুশীলনেও মদ পান করে যেতেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ডিফেন্ডার।

যার কারণে হয়তো কোথাও বেশিদিন স্থির হতে পারেননি। মাতাল লাঠিমের মতো এখানে ওখানে ঘুরে বেড়িয়েছেন। ২০০৬ সালে সাও পাওলো ছেড়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আসেন চিচিনহো। দুই মৌসুম পরে রোমায়।

এরপর ধারে ফের সাও পাওলো। ওখান থেকে ধারে ভিয়ারিয়াল। কিন্তু কোথাও যেন মন বসেনি। যাযাবরের মতো ঘুরে ঘুরে ২০০৮ সালে অবসর। চিচিনহোর বয়স এখন ৪১। খেলোয়াড়ি সময়ের মদ আসক্তির গল্পই শোনালেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার।

সমর্থকদের ভালোবাসার মদ্য পানের আহ্বান ফিরিয়ে দেওয়া কষ্টকরই ছিল চিচিনহোর জন্য। ইপিটিভি শো রেসাকা’তে এসে মদ আসক্তির সঙ্গে যুদ্ধের কথায় শোনালেন তিনি, ‘আমার পেশা নিয়ে বললে, সাবেক পেশাদারি ফুটবলার হিসেবে, এটা সহজ ছিল। মদ পানের জন্য আমার টাকা লাগত না। রেস্টুরেন্টে গেলে লোকজন খাওয়াতে পেরে খুশি হতো।’

রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর তো মদ পান করেই অনুশীলনে যেতেন চিচিনহো। আর মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে তিনি কী করতেন জানেন?, ‘আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন রিয়ালে থাকার সময় আমি কখনো মদ পান করে অনুশীলনে গিয়েছি কিনা: হ্যাঁ। নিশ্বাস থেকে মদের দুর্গন্ধ দূর করতে কফি পান করতাম এবং গোসলের সময় পারফিউম ছিটিয়ে দিতাম।’

মাদ্রিদ ছেড়ে যখন রোমায় গেলেন, সঙ্গে নিয়ে গেলেন মদ অভ্যাসও। বিশেষ করে যখন লিগামেন্ট চোটে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে ছিলেন, তখন তো মদ পানের জন্য বেশ সময়ও পেয়ে গেলেন চিচিনহো, ‘প্রত্যেকবার রোমায় ফিরতাম মাতাল অবস্থায়। দলের নেতারা এটা দেখেছিল এবং তারা আমার দুর্নাম রটাতো।’

অনুশীলনের পরপরেই মদের বোতল নিয়ে বসে যেতেন তিনি, ‘অনুশীলনের পর পান শুরু করতাম। ফিজিওথেরাপির কাজও করতাম। বাসার ফিরতাম দুপুর ২টা…২.৩০ মিনিটের দিকে। ভোর ৪টার দিকে পান থামতাম।’