নাপিত্তা ছড়া ঝরনা থেকে ২ পর্যটকের লাশ উদ্ধার

মিরসরাইয়ের নাপিত্তা ছড়া ঝরনায় বেড়াতে গিয়ে দুই সহোদরসহ নিখোঁজ ৩ পর্যটকের মধ্যে ২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকাল ৪টার দিকে নিখোঁজ দুই সহোদরের একজন তানভীরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তানভীরের ছোট ভাই তারেকের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। গত রবিবার বিকালে নাপিত্তা ছড়া ঝরনার চূড়ায় উঠে তারা তিনজনই নিখোঁজ হন। সেদিন রাতেই ঝরনা থেকে দুই সহোদরের সঙ্গী ইশতিয়াকের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।  

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার সকালে তৌফিক আহম্মেদ তারেক, মাসুদ আহম্মেদ তানভীর ও ইশতিয়াকুর রহমান প্রান্ত চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকা থেকে নাপিত্তা ছড়া ঝরনায় বেড়াতে আসেন। সেখানে একটি টি-স্টলে নিজেদের ব্যাগ রেখে ঝরনার চূড়ায় ওঠেন। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ না পেয়ে ঝরনার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিরসরাই থানা পুলিশকে খবর দেয়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা রাত ৮টার দিকে নিখোঁজ ইশতিয়াকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) মর্গে পাঠায়। নিহত ইশতিয়াক (২০) চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর বি-ব্লকের মোহাম্মদ জাকারিয়ার ছেলে।      

মিরসরাই থানার ওসি কবির হোসেন জানান, নিহত ইশতিয়াকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজ দুই সহোদর তানভীর ও তারেকের মধ্যে তানভীরের মরদেহ পাশর্^বর্তী একটি ছড়া থেকে সোমবার বিকাল ৪টায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তানভীরের ছোট ভাই তারেকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তারাও চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকার বি-ব্লকের বাসিন্দা। 

নিখোঁজ তারেককে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে মিরসরাই ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। ডুবুরি দলের প্রধান মোহাম্মদ মানিক জানান, সোমবার বেলা ১২টা থেকে নিখোঁজ ২ পর্যটককে ঝরনার কূপ থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। বিকাল ৪টার দিকে তানভীর নামের একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরেকজনের খোঁজ চলছে। কূপের গভীরতা অনেক বেশি। ছড়ার মধ্যে পানির স্রোতও কম নয়।  

নিহত তানভীর ও নিখোঁজ তারেকের মামা মো. তৌহিদুল ইসলাম সুমন জানান, নিহত তানভীর চট্টগ্রাম নগরীর ইউএসটিসি’র স্নাতকের ছাত্র এবং নিখোঁজ তারেক চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে। নিহত ইশতিয়াক তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সে চট্টগ্রাম ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে।