নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় পোগলার ইউনিয়নের কৈলাটি গ্রামের মিয়া বাড়ি। গ্রামের অন্য যেকোনো বাড়ির তুলনায় এই বাড়ি বেশ উঁচু জমিতে। ছোটখাটো বন্যায় ওই বাড়িতে সাধারণত পানি ওঠে না। কিন্তু এবার বন্যায় তলিয়েছে মিয়া বাড়ি। রান্নাঘর, গোয়ালঘরসহ বাড়ির সবচেয়ে উঁচু বসতঘরের বারান্দায়ও ঢুকেছে বন্যার পানি। তবে গোয়ালঘরের তুলনায় বারান্দায় পানি কম থাকায় গরু-ছাগলের আশ্রয় মিলেছে সেখানে।
ওই বাড়ির এক পরিবারের কর্তা মনজিল মিয়া। ছোট ভাই তনজিল মিয়াসহ তাদের যৌথ পরিবার। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের অতিবৃষ্টির কারণে পাঁচ দিন ধরে তারা পানিবন্দি। মনজিল মিয়া জানান, তার ঘর ও আরও দুই-একটি ঘর ছাড়া গ্রামের সব ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে আছে। গত শনিবার থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত এক ফুট পানি কমায় বারান্দা থেকে পানি নেমেছে। তবে গত শুক্রবার ঘরের পেছনের বারান্দায় পানি উঠায় গোলায় রাখা বছর খোরাকির ধান ভিজে গেছে। গোয়ালঘর ডুবে যাওয়া পাঁচটি গরু প্রথমে বসতঘরে, পরে ঘরের সামনের বারান্দার পানি নেমে গেলে সেখানে রাখা হয়েছে। রান্নাঘর ডুবে যাওয়ায় লাকড়ি ভিজে রয়েছে। চার দিন ধরে শুকনো খাবার খেয়ে বেঁচে আছেন তারা। তবে এলাকার বাজারে চিড়া-মুড়ির মতো শুকনো খাবারেরও সংকট দেখা দিয়েছে। আর গোখাদ্যের অভাব শুরু হয়েছে বন্যার পর থেকেই। গত বোরো মৌসুমে পানিতে ফসল ডুবে যাওয়ায় ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলেও গবাদিপশুর খাদ্য খড় তেমন সংগ্রহ করতে পারেননি তারা।
মনজিল জানান, তাদের এলাকার অধিকাংশ কৃষকেরই একই অবস্থা। যতটুকু খড় সংগ্রহে ছিল তাও পানিতে ডুবে রয়েছে। তিনি বলেন, গরুগুলো না হয় ঘরে রেখেছি কিন্তু খাবার দিতে পারছি না। নিজেরাই খাব কী, আর গরুকে কী খাওয়াব ভেবে পাচ্ছি না।