তিমি কেন ভিয়েতনামের জেলেদের দেবতা

ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপের জেলেরা তিমি মাছকে তাদের জীবনের অংশ বলে মনে করেন। সাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ায় তিমি রক্ষা করে বলে বদ্ধমূল ধারণা তাদের। কাদের, কীভাবে এই মাছ রক্ষা করেছিল, এ নিয়ে রয়েছে নানা গল্প। তিমি দেবতার জন্য রয়েছে মন্দিরও। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া      

দুর্যোগে রক্ষাকর্তা

ভিয়েতনামের দক্ষিণ উপকূলীয় দ্বীপ লাই সন। এই দ্বীপে ধূসররঙা এক ইটের বাড়িতে থাকেন নগুয়েন ভ্যান লক। লাই সনের অন্য বাসিন্দাদের মতো মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন লক। প্রতিদিন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম ভাঙে তার। সকালের নাস্তা সেরে নিজের চকচকে নীল রঙের নৌকায় চেপে সাগরে মাছ শিকারে বের হন তিনি। আরও কয়েকজন জেলে থাকে লাই সনের সঙ্গে। এটাই তাদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। প্রায় প্রতিদিনই ছোট বা মাঝারি আকারের মাছ ঝাঁকে ঝাঁকে তাদের জালে ধরা পড়ে। আর কপাল ভালো থাকলে কখনো কখনো বড় মাছও জুটে যায়। বলা বাহুল্য, যেদিন লক ও তার সঙ্গীরা বড় বড় মাছ পান, সেদিন পুরো লাই সন দ্বীপ উৎসবে মেতে ওঠে। সাগরে মাছ শিকারে নেমে কখনো কখনো ঝড়ের কবলে পড়তে হয় ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলের জেলে সম্প্রদায়কে। এমনই এক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কথা লক আজীবন মনে রাখবেন। কারণ মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। সেদিন আকাশে ছিল ঘন কালো মেঘের ঘনঘটা। সাগরের ওপর দিয়ে তীব্র বেগে বাতাস বইছিল। বিশাল বিশাল ঢেউ লকদের নৌকায় আছড়ে পড়ছিল। থেমে থেমে বজ্রপাতের শব্দে কেঁপে উঠছিলেন সবাই। লক ও তার সাথীরা ভাবলেন, এ যাত্রায় আর বেঁচে ফিরবেন না তারা। উত্তাল সমুদ্রে মৃত্যু নিশ্চিত জেনে নিজেদের দড়ির সঙ্গে বেঁধে ফেললেন তারা যাতে তাদের শব একসঙ্গে পাওয়া যায়। বাঁধাছাঁদা হয়ে গেলে জেলেরা নৌকার একপাশ শক্ত করে ধরে দেবতার কাছে প্রার্থনা শুরু করেন। সাগরের উথাল-পাথাল ঢেউয়ের দিকে ভীত চোখে তাকিয়ে লক ও তার সঙ্গের জেলেরা পূর্বপুরুষদের স্মরণ করতে থাকেন যারা এমন প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত বেঁচে ঘরে ফিরতে পেরেছেন। এই যখন পরিস্থিতি, তখন হঠাৎ আয়তাকার আকৃতির এক প্রাণী সাগরের বুক থেকে লাফিয়ে লকদের সামনে হাজির হয়ে আবার সাগরে ডুব দেয়। ডুব দেওয়ার আগে সে যেন গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল মৃত্যুভয়ে প্রায় জ্ঞান হারানো জেলেদের দিকে। ঝাপসা চোখে প্রাণীটির দিকে তাকিয়ে লকদের মনে হয়, সেটি মুখে নয় বরং সরাসরি তাদের আত্মার দিকে তাকায়। প্রাণীটিকে দেখে আনন্দে আটখানা হয়ে পড়েন লকরা কারণ তিমি দেবতা কা অঙ-এর কাছেই প্রাণ বাঁচানোর প্রার্থনা করেছিলেন তারা। তিমি দেখে নৌকার ওপরই নাচানাচি শুরু করে দেন লক ও তার সঙ্গীরা, মৃত্যুভয় কেটে যায় তাদের। ওই সময় তারা দেখেন, নৌকার চারপাশে আরও দুটি তিমি ঘোরাফেরা করছে। লক ও তার সাথীদের বিশ্বাস, ঘণ্টাখানেক প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে ওই তিন তিমিই তাদের গভীর সাগরের নিশ্চিত মৃত্যু থেকে উদ্ধার করে ঘরে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনে। লকদের জীবন ফিরে পাওয়ার গল্প মাছের বাজার, রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে পুরো লাই সন দ্বীপে ছড়িয়ে পড়ে। পরের প্রজন্মের মুখেও তাদের বাপ-দাদাদের এই গল্প রটে বেড়াবে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। দক্ষিণাঞ্চলীয় ফু কুক দ্বীপ থেকে শুরু করে উপকূলীয় শহর দা নাংয়ে কেউ বেড়াতে গেলে জেলেরা তাকে তিমিদের পরোপকারের আখ্যান শোনাবেই। সাগরের বুকে দুর্যোগে তিমিই একমাত্র তাদের রক্ষাকর্তা এটি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে ভিয়েতনামের জেলে সম্প্রদায়।

দক্ষিণ সাগরের দেবতা

ভিয়েতনামের হো চি মিন শহরের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ফ্যান থিয়েট শহর। এই শহরে রয়েছে তিমি মাছের জাদুঘর, যার নাম ফ্যান থিয়েট তিমি জাদুঘর। জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়কের নাম ভুয়ং দাও। সময় পেলেই লাই সন দ্বীপের জেলে নগুয়েন ভ্যান  লকের সেদিনের সেই গল্পসহ সাগরের আরও অনেক গল্প দর্শনার্থীদের শোনান তিনি। এই জাদুঘরে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় সংরক্ষিত তিমি মাছের কঙ্কাল। সেই কঙ্কাল দেখিয়ে ভুয়ং দাও বলেন, ‘এটি জেলেদের দেবতা কা অঙের কঙ্কাল। দুশো বছরের বেশি বয়স এটির। সাগরের সৈকতে একদিন কা অঙকে মৃত পড়ে থাকতে দেখেন জেলেরা। তারা তখন এটির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করে। পরে কা অঙের কবর দেওয়া হয়। তিন বছর পর জেলেরা কো অঙের কবর খুঁড়ে তার কঙ্কাল এই জাদুঘরে নিয়ে আসে।’

২০০৩ সালে ফ্যান থিয়েট জাদুঘরে প্রদর্শনের আগে শখানেক বছর ধরে কা অঙের হাড় সংরক্ষণ করে স্থানীয় জেলেরা। ভিয়েতনামের জেলেদের তিমি মাছ পূজা করার পেছনে দায়ী কোন ঘটনা, তা নিশ্চিতভাবে কেউই জানে না। তবে তিমি পূজার উৎপত্তি নিয়ে কিংবদন্তি রয়েছে। তিমি পূজা শুরুর সময়কালের সঙ্গে কা অঙের জীবনের একটি ঘটনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দিকে ভিয়েতনামের সম্রাট ছিলেন নগুয়েন বংশের গিয়া লং। একবার তিনি সেনাবাহিনীর অল্প কয়েকজন সদস্য নিয়ে সাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। সে সময় হঠাৎ ঝড় ওঠে। সম্রাটের নৌকা ঝড়ে প্রায় ডুবে যাওয়ার উপক্রম। সম্রাটসহ নৌকার আরোহী সবাই বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। এমন সময় নৌকার কাছে এক তিমির আবির্ভাব ঘটে। মাছটি তার দেহের পেছনের অংশ দিয়ে নৌকাটিকে টানতে টানতে তীরে নিয়ে আসে। প্রাণে বেঁচে যান সম্রাট গিয়া লং ও তার সাথীরা। প্রতিদান হিসেবে তিমিটিকে ‘দক্ষিণ সাগরের জেনারেল’ খেতাবে ভূষিত করেন সম্রাট। পরবর্তী সময়ে এই খেতাব সংক্ষেপ করে কা অঙ রাখা হয়, যার অর্থ তিমি দেবতা।

ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে তিমি মাছ কবর দেওয়া বা তাদের পরোপকারের গল্প দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত প্রচার করা হয়। এক নিবন্ধে লাই সন দ্বীপের বাসিন্দা নগুয়েন কুক চিন বলেন, ‘একদিন প্যারাসেল দ্বীপের কাছে ২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে মাছ শিকারে যাই। একপর্যায়ে ঝড়ের কবলে পড়ে আমাদের নৌকা। প্রায় ডুবেই যাচ্ছিলাম। হঠাৎ অবাক হয়ে দেখলাম, বিশাল কালো পাথরের মতো দেখতে একটি তিমি আমাদের চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই তিমির পিঠে আমরা জেলেরা কয়েকদিন টানা ছিলাম। সে সময় বেঁচে থাকতে আমরা সামুদ্রিক শৈবাল খেতাম এবং পরস্পরের মূত্র পান করতাম।’ ফ্যান থিয়েট জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক ভুয়ং দাও বলেন, ‘জেলেদের সাধারণত তিমি মাছ রক্ষা করে। এ কারণে ভিয়েতনামের জেলে থেকে শুরু করে নাবিকরা তিমি মাছের পূজা করেন। তারা এই মাছকে দক্ষিণ সাগরের দেবতাও ডাকেন।’ 

তিমি মাছের মন্দির

কথিত আছে, সম্রাট গিয়া লংয়ের জীবন বাঁচানোর কিছুদিন পর মারা যায় সেই তিমি। এটির মাংসল মৃতদেহ সাগরে ভাসতে ভাসতে একপর্যায়ে সৈকতে তিন খণ্ডে এসে পৌঁছায়। একটি খণ্ড পাওয়া যায় ভিয়েতনামের দক্ষিণ উপকূলরেখা বরাবর অবস্থিত ক্যান গিও ম্যানগ্রোভ বনে। বাকি দুই খণ্ডের একটি ছোট মাছ ধরার গ্রাম ফুক হাই ও অন্যটি হো চি মিন শহরের কাছে বন্দর শহর ভুং টাউয়ে পান স্থানীয়রা। ভুং টাউ শহরের কেন্দ্রস্থলে গেলে এখন একটি তিমি মন্দির দেখতে পাওয়া যাবে। এই মন্দিরে কেবল তিমি মাছেরই পূজা করা হয়। মন্দিরের ভেতরে এক বেদিতে শতাধিক তিমি মাছের খুলি ও হাড় রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছেন এক বয়স্ক, কৃশকায় ও সদাহাস্য পূজারী।

ফুক হাই গ্রামে সমুদ্র প্রাচীরজুড়ে রয়েছে তিমি মাছের শিল্পকর্ম, যা দেখে পর্যটকদের চোখ জুড়িয়ে যায়। এই প্রাচীরের ধারে অবসরে যাওয়া জেলেরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে সুতা কাটেন। কেউবা সাগর দেখতে দেখতে এক সময় ঘুমিয়ে পড়েন। বন্দর শহর ভুং টাউয়ের মতো এই ফুক হাই গ্রামেও রয়েছে এক তিমি মন্দির। এই মন্দির ভুং টাউ শহরের মন্দিরের চেয়ে আরও বড়। ফুক হাই মন্দিরের তত্ত্বাবধায়কের নাম নগুয়েন নগক থে। তিনি বলেন, ‘একবার সাগরে ঝড়ের সময় নৌকাডুবি হয়। নৌকার জেলেরা বেশ কিছুদিন সাগরে ভেসেছিলেন। শেষ পর্যন্ত কীভাবে বাঁচলেন, তা তারা জানেন না। তবে জেলেরা এটা জানেন ও মানেন, কোনো না কোনো তিমি তাদের ওই দুর্যোগকালে রক্ষা করেছিল। সৈকতে পৌঁছার পর তারা ছোট ছোট মাছ বমি করে। ওই জেলেদের বদ্ধমূল ধারণা, সাগরে ভেসে থাকার সময় তিমি দেবতা কা অঙ তাদের খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন।’

থে আরও বলেন, ‘আমি নিজেও একসময় জেলে ছিলাম। সাগরে মাছ শিকারের সময় আমি দেখেছি কা অঙের আধ্যাত্মিক প্রভাব কীভাবে জেলে সম্প্রদায়কে রক্ষা করে। সাগরে কখন ঢেউ গর্জে উঠবে, ঝড়ো হাওয়া বইবে, তুফান শুরু হবে আগে থেকে বোঝার উপায় নেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও আমাদের আরও নানা সমস্যায় পড়তে হতো মাছ ধরার সময়। তাই সাগরে নৌকা ভাসানোর আগে আমরা সবাই অবশ্যই দেবতা কা অঙের কাছে প্রার্থনা করতাম। তাকে বলতাম, বিপদে যেন তিনি আমাদের রক্ষা করেন। দেবতা যেন আমাদের সাগরে অনেক অনেক মাছ ও বাগদা চিংড়ির সন্ধান  দেন যাতে করে আমরা পরিবারের মুখে দু-মুঠো ভাত তুলে দিতে পারি, সে প্রার্থনাও করতাম।’

মূল সংস্কৃতির প্রভাব

তিমি পূজার আচার-অনুষ্ঠানের ওপর ভিয়েতনামের মূলধারার সংস্কৃতির ছাপ রয়েছে। জীবিতদের চেয়ে মৃতদের সম্মান জানানো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ভিয়েতনামিরা। ঐতিহ্যগতভাবে মৃত্যুবার্ষিকীতে অনেক আয়োজন করেন তারা। জন্মদিন নয় বরং মৃত্যুদিন উদযাপন করা ভিয়েতনামের সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি তিমির ক্ষেত্রেও দেখা যায়। ফুক হাই মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক থে বলেন, ‘সাগরে যদি কোনো তিমির মৃত্যু হয়, তাহলে যে ব্যক্তি সেটির মৃতদেহ প্রথম দেখবেন, তিনিই তিমিটিকে ডাঙায় নিয়ে আসবেন। সেই ব্যক্তির দায়িত্ব মৃত তিমির পূজার ব্যবস্থা করা ও সম্মানের সঙ্গে সেটির কবর দেওয়া। দেবতা কা অঙের জন্যও ওই সময় শোক প্রকাশ করা হয়। তিমির মৃতদেহ উদ্ধার করা ব্যক্তিকে অবশ্যই সেটির মৃত্যুর ৪৯তম ও ১০০তম দিনে পূজার আয়োজন করতে হবে। এ ছাড়া তিমিটির প্রথম ও তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীও তাকে পালন করতে হবে যেমনটা তিনি নিজের দাদা-দাদির ক্ষেত্রে করেন। অনেক সময় সাগরের তীরে জীবিত তিমি দেখা যায়। তিমিটি যাতে সাগরে ফিরে যায় ও বিপদের সময় আমাদের রক্ষার দায়িত্ব যথারীতি পালন করে, সেজন্য আমরা প্রার্থনা করি। তবে তিমি তীরে তখনই আসে যখন সে বুঝতে পারে যেকোনো মুহূর্তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে সে। কোনো তিমির দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার মুহূর্তে আমরা ঢোল ও ঘণ্টা বাজাই। সেটির আত্মা যাতে শান্তিতে এই ধরাধাম ছাড়তে পারে তার জন্য এসব বাজানো হয়।’                                                

অনিশ্চয়তা

ভিয়েতনামে যারা তিমি পূজা করেন, তাদের বড় অংশই কখনো নিজের চোখে তিমি কাউকে উদ্ধার করেছে এমনটা দেখেননি বা নিজেদেরও কখনো এই অভিজ্ঞতা হয়নি। তবে তিমির উদ্ধারের গল্প কেবল ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলে সম্প্রদায়ের মুখে মুখে নয়, বিভিন্ন বইয়েও পাওয়া যায়। লেখক রবার্ট ম্যাকফারলেন তার দ্য ওয়াইল্ড প্লেসেস বইয়ে সাগরে দুর্যোগের সময় এক বাবা ও ছেলেকে কয়েকটি ডলফিন মাছ উদ্ধার করেছিল, এমন গল্প বলেছিলেন। ডলফিন মানুষের জীবন রক্ষা করে, এমন অনেক গল্প ইন্টারনেটেও রয়েছে। তিমি বা ডলফিনের উদ্ধারের গল্প ভিয়েতনাম ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লেও দেশটির তিমি পূজার অসাধারণ সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ অনেকটাই অনিশ্চিত। কারণ ভিয়েতনামের জেলে পরিবারের ছেলেরা এখন বাপ-দাদার মতো মাছ শিকার করে জীবন অতিবাহিত করতে রাজি নন। তারা শহরে চাকরি করে সেখানে প্রতিষ্ঠিত হতে চান। ভিয়েতনামের ট্যাম হাই দ্বীপে ক্যাফেতে কাজ করেন এক তরুণ। স্মার্টফোন নিয়ে ব্যস্ত ওই তরুণকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিমি পূজায় তার বিশ্বাস আছে কি না, বাবার মৃত্যুর পর এই সংস্কৃতি তিনি চর্চা করবেন কি না। তিনি বলেন, ‘আমার অন্য কাজ রয়েছে।’

অবশ্য পরের প্রজন্ম তিমি পূজার সংস্কৃতি বয়ে নিয়ে যাবে কি যাবে না, এ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন দেবতা কা অঙের অনুসারীরা। ফুক হাই গ্রামের এক ভিয়েতনামি নারীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, কা অঙের ওপর মানুষের বিশ্বাস কখনো উঠে যাবে কি না। জবাবে ওই নারী বলেন, ‘এমনটা কখনো হবে না। এখন যা আছে, সবসময় তা-ই থাকবে। ছোট থাকতে দেবতা কা অঙের ব্যাপারে কিছু বুঝতাম না। এখন আমার বয়স হয়েছে। অনেক কিছু দেখছি। শুধু আমি নই, সবারই কা অঙের ওপর আস্থা রয়েছে, এটি থাকবে।’