ব্যর্থতার চোরাগলিতেই ব্যাটিং

কঠিন সংকটে বাংলাদেশের ব্যাটিংলাইন। গত চার টেস্টে টানা তিনবার ব্যর্থ শুরুর ব্যাটসম্যানরা। সেন্ট লুসিয়ায় সেই অবস্থা সামলানো গেছে খুব চেষ্টার পর। তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান জয় দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে উদ্বোধনী জুটি গড়লেন ৪১ রানের। তাতে হয়নি ৩০-এর নিচে ৫ উইকেট হারানোর পুনরাবৃত্তি। পরে ২ উইকেটে ১০০ রানও ছাড়ানো গেছে। স্বস্তি মিলল এই বুঝি বাজে সময় শেষ ভেবে। কিন্তু বিপত্তি অন্যখানে। ১০৫ রানে দুটি আর ১২৫ থেকে ১৩৮ রানের মধ্যে আরও দুটি, মোট ৪ উইকেট হারিয়ে ইনিংসটাকে বড় করা গেল না। ১৩৮/৬ থেকে টেনেটুনে ২৩৪ পর্যন্ত করা গেছে প্রথম ইনিংস। তামিম ইকবাল তাই আক্ষেপের সুরেই জানালেন হয় ওপরের দিকে (ব্যাটিংয়ে) হচ্ছে না, না হয় মাঝে হচ্ছে না।

ব্যাটিং ব্যর্থতা বাংলাদেশ ক্রিকেটের সব সময়ের আক্ষেপ। কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে দায়িত্বকালের শেষদিকে এই আক্ষেপ কিছুটা মিটিয়ে ছিলেন। ২০১৯ থেকে কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর অধীনে ওই ব্যাটিং মেজাজের উন্নতি হয়নি। বরং অবনতিই হয়েছে নিয়মিত। এখন তো কোচরা সরাসরি বলেই দেন ক্রিকেটাররা মাঠে গিয়ে না পারলে কিছু করার নেই। তামিম অবশ্য উইকেটে টিকতে না পারায় ব্যাটারদের দোষ দিতে চান না, দিতে চান না কোনো অজুহাতও ‘এই আক্ষেপটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক, ওই অবস্থা থেকে এই অবস্থায় চলে এসেছি। মূলত ব্যাপারটা হচ্ছে, হয় প্রথমে হচ্ছে না, না হলে মাঝে হচ্ছে না। এটিই সমস্যা। টপ অর্ডার বা মিডল অর্ডারের দিকে আঙুল তুলে লাভ নেই। টেস্টের প্রথম দিন ১২০/২, এমন শুরু যেকোনো দিনই নিতে চাইবেন। কিন্তু সেটা কাজে লাগাতে পারিনি। ৩০০-৩২০ রান যদি করতাম, তাহলে এই উইকেটে সেটা ভালো রান হতো।’

তামিম নিজেও শুরুটা ভালো করেছিলেন। এতটা ছন্দে ছিলেন যে প্রথম ওভারে কেমার রোচের বলে একটি এলবিডব্লিউ আবেদন ছাড়া তার বিপক্ষে আর আবেদন করতে পারেননি উইন্ডিজ বোলাররা। চোখ জুড়ানো সব শটে ৯ বাউন্ডারিতে আত্মবিশ্বাসের ছাপ। ফিফটি থেকে ১ রান দূরে আলজেরি জোসেফের অফস্টাম্পের বাইরে বাড়তি বাউন্স হওয়া বলে ব্যাট পেতে আত্মাহুতি দেন তামিম। এমন শুরুর পরও ইনিংসকে বড় করতে না পারার আক্ষেপ তার কণ্ঠে, ‘দুঃখজনক যে আজ বড় করতে পারিনি। বলটা হয়তো আমি ছেড়ে দিতে পারতাম। হয়তো বলটা যতটা ওঠার কথা ছিল না, ততটুকু উঠেছে। এ কারণে আমার ব্যাটের স্টিকারে লাগে। অজুহাত দেব না। অভিজ্ঞ সদস্য হিসেবে এমন শুরু পেলে আমার উচিত তা বড় করা।’

তামিমের মতো বড় ইনিংসের আক্ষেপ ঝরল ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্সেরও। তার বিশ্বাস ছিল ৪০০ রান করবে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রিত বাংলাদেশ, ‘আমাদের লম্বা সময় ব্যাটিং করতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করাটাই আসল। তামিম ও লিটনের ব্যাটিং ভালো লাগছিল। কিন্তু ৪০-৫০ রানের ইনিংস আমাদের ম্যাচ জেতাবে না। আমরা দ্বিতীয় দিনও ব্যাটিং করার কথা ভাবছিলাম। ১০০/২ হওয়ার পর মনে হচ্ছিল ৪০০-এর দিকে এগোচ্ছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি আমরা।’

সিডন্স জানান, প্রথম টেস্টের পর টানা অনুশীলনে শুধু অফস্টাম্পের বাইরের বল ছাড়া প্র্যাকটিস করে ব্যাটাররা। সেন্ট লুসিয়ায় এক্ষেত্রে তারা সফল বলেই মনে করেন কোচ। কিন্তু আম্পায়ার্স কল নামক জিনিসটি বাংলাদেশকে দুর্ভাগ্যে ঠেলে দিয়েছে। সিডন্সের কণ্ঠে তাই ভাগ্যকে দোষারোপের সুর। কিন্তু তামিম যথারীতি কাউকে দুষছেন না, অজুহাতও দিচ্ছেন না। তামিম বরাবরই দোষ নিজেদের ওপর নেন। আর তাই ব্যাটিং ব্যর্থতা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছেন, ‘আমরা জানি এর চেয়ে ভালো দল আমরা। এর থেকে পথ খুঁজে বের করতে হবে, নিশ্চিত করতে হবে যাতে সব সময় না হয়।’