একই ভুলের পুনরাবৃত্তিতে আক্ষেপ হৃদয়ের

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ এএম

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের হারের কারণ ব্যাখ্যা করার আর বোধহয় নতুন কোনো প্রয়োজন ছিল না, কারণ সেই একই উত্তরের সাক্ষী এখন সবাই। শুরুতে উইকেট উপহার দেওয়া, মিডল অর্ডারে ধস আর কন্ডিশন বিচারে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া, শারজাহতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঠিক একই চিত্রনাট্যে নিজেদের সঁপে দিল শান্ত-তামিমরা। ১৬১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়ায় আফগানদের কোনো বেগই পেতে হয়নি। ৭ উইকেটের হারে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে শূন্য হাতেই বিদায় নিয়ে হয় বাংলাদেশ।

গতকাল বুধবার টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেও শারজাহর ব্যাটিং উইকেটের ফায়দা তুলতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই মাত্র ৬ রানের মাথায় প্যাভিলিয়নে ফেরেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার। অধিনায়ক হৃদয় কিংবা সাবেক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও দলের হাল ধরতে পারেননি। মাত্র ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে খানিকটা আলোর মুখ দেখান পারভেজ হোসেন ইমন (৭০) ও সাইফ হাসান (৪১)। তাদের প্রতিরোধে স্কোরবোর্ডে কোনোমতে ১৬০ রান তোলে বাংলাদেশ।

সেখানে ফাইনালে ওঠার সমীকরণ মেলাতে ১১৯ রানে আটকাতে হতো আফগানদের। তবে সেই স্বপ্ন যেন তখন আকাশ-কুসুম। রহমত শাহর অপরাজিত ৬৭ এবং হাশমতউল্লাহ শহীদির ৩৬ রানের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ৮৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান। এর মধ্যে দিয়ে আফগানদের বিপক্ষে টানা পাঁচ ওয়ানডেতে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

শারজাহতে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং ও লজ্জাজনক বিদায়ের পর দলের ব্যাটারদের ওপরই ক্ষোভ উগরে দেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নিজের আক্ষেপ তুলে ধরে হৃদয় বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা দিনের পর দিন একই ভুল করে যাচ্ছি। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আবারও ভুল করেছি। শুরুতেই কয়েকটি উইকেট হারিয়েছি। আমার মনে হয়, এটাই ছিল মূল কারণ।’ 

অসুস্থতা কাটিয়ে একাদশে ফেরা মিরাজের ব্যাটও হাসেনি এদিন, ছবি: সংগৃহীত

আরও ৪০-৫০ রান বেশি হলে ম্যাচের গল্প ভিন্ন হতো কি না, সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হৃদয় যোগ করেন, ‘না, ৪০-৫০ রান না। আমরা অন্তত ১০০ রান কম করেছি। উইকেটটা খুব ভালো ছিল। ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ উপযোগী ছিল। শুরুতে ওপরের দিকের ব্যাটসম্যানদের রান করতে হবে, তা না হলে টিকে থাকা সম্ভব নয়।’

মাঠের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ড্রেসিংরুমের সংবাদ সম্মেলনে এসেও দলের সার্বিক ব্যাটিং ব্যর্থতা ও দেশের বাইরের কন্ডিশনে ধুঁকতে থাকা নিয়ে কথা বলেন এই ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। মিডল অর্ডার ব্যাটারের অভাব এবং পাইপলাইনের ঘাটতি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘একটা জায়গা নিয়ে বলতে চাচ্ছি না, ব্যাটিং ইউনিট পুরোটা একসঙ্গে ফেইল করেছে। পাইপলাইনে অবশ্যই যথেষ্ট খেলোয়াড় আছে। তবে অ্যাওয়ে সিরিজে আমরা ভালো করতে পারছি না। হোমে যে খেলা হচ্ছে, সেখানে বেশ কিছু সিরিজ বেশ ভালোভাবে জিতেছি। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। বিশেষ করে বাইরের কন্ডিশনে খেলা হলে কিছু এরিয়া আছে যেখানে উন্নতি প্রয়োজন।’ 

ইমন-সাইফের জুটিটাই কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিল, তবে জয়ের জন্য ছিল না যথেষ্ট, ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের কাছে টানা পাঁচ ম্যাচ ও জিম্বাবুয়ের কাছে সাম্প্রতিক হারের পরিসংখ্যানের মুখে দাঁড়িয়েও দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দল এখনো সঠিক পথেই আছে দাবি করে হৃদয় আরও জানান, ‘এই দল নিয়েই কিন্তু আমরা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের মতো বড় দলকে হারিয়েছি—সবগুলোই যদিও হোমে ছিল। তাই এক-দুই ম্যাচ দিয়ে বলতে চাই না দলের কী হলো, দল ভালো অবস্থায়ই আছে। তবে কিছু জায়গা চোখের সামনে পরিষ্কার, যা সবাই দেখতে পাচ্ছে, আমাদের ব্যাটিং ইউনিট। বাইরে খেললে আমরা খুব বাজে ব্যাটিং করছি, যে কারণে পুরো দল সংগ্রাম করছে। অথচ দেশে কিন্তু প্রত্যেক ম্যাচেই ব্যাটাররা ভালো করেছে।’ 

সমস্যাটা স্কিলের জায়গায় নাকি মনস্তাত্ত্বিক, এমন প্রশ্ন উঠতেই তা স্বীকার করে নিয়ে ব্যাটারদের মানসিকভাবে আরও পরিপক্ক হওয়ার তাগিদ দেন তিনি। ব্যাটারদের অ্যাপ্রোচ ও মাইন্ডসেট নিয়ে হৃদয় স্পষ্ট করে বলেন, ‘সমস্যাটা আসলে মাইন্ডসেটেই। এখানে নিশ্চিতভাবেই উন্নতির দরকার আছে। একজন প্রফেশনাল প্লেয়ার হিসেবে বাইরের কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। অ্যাওয়েতে বেশিরভাগ ম্যাচই আমরা হেরেছি, তাই এই জায়গায় আমাদের অনেক কাজ করতে হবে।’ 

তবে টানা দুই বড় হারে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায়ে চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠলেও, সামনে ঘরের মাঠে আয়োজিত হতে যাওয়া এশিয়া কাপকে ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ হিসেবে দেখছেন এই তরুণ ব্যাটার। সংবাদ সম্মেলনে নিজের শেষ ভাবনায় হৃদয় আরও বলেন, ‘এই সিরিজ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। আমাদের হাতে সময় আছে। আশা করি সামনে ঘরের মাঠে এশিয়া কাপেই আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াব।’ 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত