সব পথ এসে মিলে গেল শেষে...

‘সর্বানাশা’ পদ্মার আকাশে ঝলমলে রৌদ্র আর হালকা মিষ্টি বৃষ্টির খেলা ছিল। আকাশ ছিল নীল আর সাদা ভেলায় মোড়ানো, যেন আষাঢ়ে শরতের মেঘ বেড়াতে এসেছে। ভোর কাটতে না কাটতেই মাওয়ার আকাশ উজ্জ্বল হতে থাকে। পদ্মায় যেন দুঃখ মোচনের দিন। তাই প্রকৃতিতেও রং ধরেছিল। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার লাখো মানুষ পদ্মার দুপাড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে অধীর অপেক্ষায় ছিল আর বলছিল, শেখের বেটি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দ্বার খুলবেন। দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নপূরণের এই ক্ষণটি দেখতে শুধু সুবিধাভোগী জেলাগুলোরই নয়, সারা দেশ থেকে ভিড় করেছিল অসংখ্য মানুষ। বহু কাক্সিক্ষত পদ্মা সেতুর দুয়ার খুলবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই গতকাল শনিবার সকাল থেকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত ছিল উৎসবমুখর। ঠিক যেমন প্রতিযোগিতার আগের মুহূর্তে বাঁশিতে হুইসেল দিলেই তীর বেগে ছোটে অংশগ্রহণকারীরা।

গতকাল সকাল ১০টায় পদ্মা সেতু উদ্বোধন করতে হেলিকপ্টারে পদ্মার মাওয়া প্রান্তে এসে পৌঁছান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীরা। অপেক্ষার নীরবতা ভেঙে শুরু হয় আনন্দ ধ্বনি। ১০টা ৫ মিনিটে ‘মাথা নোয়াবার নয়’ থিম সং পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কাক্সিক্ষত উৎসব।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে মাওয়া প্রান্তে আয়োজন করা হয়েছিল সুধী সমাবেশের। সকাল ৯টার আগে থেকেই সুধী সমাবেশের আমন্ত্রিত অতিথিরা মাওয়া প্রান্তের অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন। ১০টার আগেই আসন গ্রহণ করেন অতিথিরা। সুধী সমাবেশে সরকারের মন্ত্রী, স্পিকার, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদসহ বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন।

সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এই সেতু শুধু সেতু নয়, শুধু ইট-সিমেন্ট-কংক্রিটের কাঠামো নয়, এই সেতু আমাদের অহংকার, আমাদের গর্ব। সক্ষমতার, মর্যাদার প্রতীক।’ সেতু নির্মাণে সহযোগিতা করার জন্য জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের ঐতিহাসিক দিনে যার যার অবস্থান থেকে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন শেখ হাসিনা। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা যে অভিযোগ উঠেছিল সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মিথ্যা অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের যে মানসিক যন্ত্রণা হয়েছিল সেই কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মিথ্যা অপবাদ দিয়ে, দুর্নীতির অপবাদ দিয়ে কীভাবে একটি পরিবারকে মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে। সেই যন্ত্রণা ভোগ করেছে আমার বোন শেখ রেহানা, আমার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আমার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, আমার উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনসহ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমত, সত্যের জয় হয়েছে।’

এ সময় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞতা জানাই দেশবাসীর প্রতি, যারা সেদিন আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল। যারা এখানে বসবাস করত তারা জমি ছেড়ে দিয়েছে। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। যদিও তাদের পুনর্বাসন করা হয়েছে।’

সুধী সমাবেশস্থল থেকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর মাওয়া প্রান্তের সেতু ফলকের দিকে এগোতে থাকে। সেখানেই টোল প্লাজা। টোল প্লাজায় এসে গাড়ি থামে। ১১টা ৪৮ মিনিটে প্রথম যাত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা নিজ হাতে টোল দিয়ে সেতু পাড়ি দেন। গাড়িবহর টোল প্লাজা পেরিয়ে উদ্বোধনের জন্য নির্ধারিত ফলকের স্থানে গিয়ে থামে।

গাড়ি থেকে নামেন শেখ হাসিনা। সেখানে প্রথমে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। এরপরই আসে দখিনা দুয়ার খোলার মাহেন্দ্রক্ষণ। ১১টা ৫৮ মিনিটে সুইচ টিপে সেতুর ফলক উন্মোচন করেন তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদও এ সময় সঙ্গে ছিলেন। মোনাজাতের পর ফলকের ডায়াসে যাওয়ার আগেই সৈয়দ আবুল হোসেন পা ছুঁয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সেতুর ফলক উন্মোচনের পাশাপাশি ফলকের স্থানে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার ম্যুরাল উদ্বোধন করেন। এ সময় আকাশে রঙিন ধোঁয়া ওড়ানো হয়। পুরো আকাশ হয় বর্ণিল। রোদের মধ্যে রং ছড়ানো আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন সবাই। প্রধানমন্ত্রী নিজে ‘জয় বাংলা, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। তখন করতালিতে মেতে ওঠেন উপস্থিত সবাই।

এরপর আবার গাড়িবহর নিয়ে সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন। জাজিরার দিকে কিছুদূর যাওয়ার পর দুপুর ১২টা ১২ মিনিটের দিকে গাড়ি থামিয়ে সেতুতে নামেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিমানবাহিনীর ছয়টি হেলিকপ্টার পদ্মা সেতুর দু’পাশ ঘিরে শেখ হাসিনাকে অভিবাদন জানায়। গাড়ি থেকে নেমে পদ্মা সেতুতে দাঁড়িয়ে তিনি বিমানবাহিনীর মহড়া দেখেন। ১৪ মিনিট এই মহড়া দেখার পর আবার গাড়িতে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি জাজিরা প্রান্তে পৌঁছান। জাজিরা প্রান্তেও দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটের দিকে ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। আর এর মাধ্যমে সূচনা হয় নতুন যুগের। যেন সব পথ এসে মিল গেল শেষে। পদ্মা সেতু চালুর মধ্য দিয়ে খুলে গেল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অপরাপর অংশের সংযোগ, যোগাযোগ এবং সম্ভাবনার অনন্ত দুয়ার।

জাজিরা প্রান্তের ফলক উন্মোচনের আগে সেখানে মোনাজাত করা হয়। এরপর ‘পিতা ও কন্যা থিম’-এর ম্যুরাল-২ ও সেতুর ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর কিছুক্ষণ আগে মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়িতে জনসভার মঞ্চ থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ঘোষণা দেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মাওয়া প্রান্ত থেকে সেতু পেরিয়ে জাজিরার দিকে আসছেন। এমন ঘোষণার পর জাজিরা ও শিবচর প্রান্তে থাকা লাখো জনতা উল্লাসে ফেটে পড়েন। তরুণরা মিছিল করেন, বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ করতে থাকেন। আনন্দ মিছিল করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও।

কাঁঠালবাড়ির সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছালে শিল্পী আব্দুল আলীমের বিখ্যাত ও জনপ্রিয় গান ‘সর্বনাশা পদ্মা নদী’ গানটি বাজিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়। এরপর বাজানো হয় ‘ও নদীরে, একটি কথা সুধাই শুধু তোমারে’ গানটি। গান থামতেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয় সমাবেশস্থল। এ সময় বিমানবাহিনীর সুজজ্জিত কয়েকটি হেলিকপ্টার কাঁঠালবাড়ি ঘাটে মঞ্চের ওপর দিয়ে চক্কর দেয়। এর একটিতে জাতীয় পতাকা, একটিতে বঙ্গবন্ধুর ছবিসংবলিত পতাকা, একটিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসংবলিত পতাকা, একটিতে পদ্মা সেতুর ছবিসংবলিত পতাকা ও আরেকটিতে আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা বহন করা হচ্ছিল। আরেকটি হেলিকপ্টার থেকে ফুল ছিটিয়ে জনসভায় আসা মানুষকে অভিবাদন জানানো হয়।

দেশ রূপান্তরের মাদারীপুর ও শিবচর প্রতিনিধি জানান, কাঁঠালবাড়িতে গতকাল দুপুর ১২টায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে সমাবেশ শুরু হয়। এদিন ভোর থেকেই সমাবেশস্থল সাধারণ মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। দক্ষিণের বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে মানুষ আসেন সমাবেশস্থলে। বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল যে যেভাবে সম্ভব দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন। তাদের শরীরে ছিল নানা রঙের টি-শার্ট। অনেকের হাতে ছিল ব্যানার, ফেস্টুন। মিছিল আর নাচ-গানে উৎসব মহা-উৎসবে রূপ নেয়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষে পদ্মার তীরের ছয় কিলোমিটার এলাকা ভরে যায়।

স্মারক ডাকটিকিট ও নোট উন্মোচন: পদ্মা সেতু প্রকল্পের জমকালো উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী স্মারক ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিট, উদ্বোধনী খাম এবং বিশেষ সিলমোহর উন্মোচন করেন। এ সময় মঞ্চে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, ডাক সচিব খলিলুর রহমান এবং ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফয়জুল আজিম উপস্থিত ছিলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০০ টাকার বিশেষ স্মারক নোট উন্মোচন করেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে সেতুসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তোলেন।

আজ থেকে পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু: আজ রবিবার সকাল ৬টা থেকে পদ্মা সেতুতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এই প্রথমবারের মতো দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হলো। এই অঞ্চলের ২১ জেলার মাওয়া রুট ব্যবহারকারী বাসসহ যানবাহনগুলো এতদিন ফেরিতে পারাপার হতো। 

গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন উপলক্ষে উৎসবে মাতে গোটা দেশ। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী টোল দিয়ে প্রথম পদ্মা সেতু পার হন। আজ সকাল ৬টার আগে পর্যন্ত সেতুতে কোনো যানবাহন উঠতে দেওয়া হয়নি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রথম দিন যানবাহনের ব্যাপক চাপ হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে টোল প্লাজার কর্মীদেরও সেভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্যও সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে।

পদ্মা সেতু দিয়ে পারাপারের জন্য টোলের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ছোট বাসে ১৪০০ টাকা, মাঝারি বাসে ২০০০ টাকা এবং বড় বাসে ২৪০০ টাকা টোল দিতে হবে। ছোট ট্রাকের টোল ১৬০০ টাকা, মাঝারি ট্রাকে ২১০০-২৮০০ টাকা, বড় ট্রাকে ৫৫০০ টাকা। পিকআপের টোল ১২০০ টাকা। কার ও জিপের টোল ধরা হয়েছে ৭৫০ টাকা, মাইক্রোবাসে ১৩০০ টাকা। মোটরসাইকেল নিয়ে পদ্মা সেতু পার হতে চাইলে টোল দিতে হবে ১০০ টাকা।

মাওয়া প্রান্তে উৎসব, মানুষের ঢল: উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাজিরা প্রান্তে রওনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাওয়া প্রান্তে অপেক্ষমাণ হাজার হাজার মানুষ সেতুতে উঠতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই আবেগাপ্লুত এসব মানুষ সেতুর বেশ খানিকটা ভেতরেও চলে যান। এ সময় তারা ছবি তোলেন, ঘুরে বেড়ান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এবং ধীরস্থিরভাবে সবাইকে সেতু থেকে নামিয়ে দেন।

উদ্বোধনের অনেক আগে থেকেই মাওয়া প্রান্তে উৎসবমুখর মানুষের ভিড় ছিল। সেতুতে উঠতে না পেরে এসব মানুষ সেতুর নিচে উৎসবে মেতে ওঠে। এ সময় সেতুর মাওয়া প্রান্ত থেকে মাওয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত মানুষের ভিড় দেখা যায়। নানা বয়সী মানুষ ছবি তোলেন ও ঘুরে ঘুরে নিচে থেকে সেতু দেখেন।

সেতুর মাওয়া প্রান্তের দক্ষিণ পাশে সেতুর ঢালজুড়ে দেওয়া মোটা তারকাঁটার বেড়া। বেড়ার পাশে ছিল মানুষের ভিড়। সেখানে দাঁড়িয়েই সেতুর যেটুকু দেখা যায়, তা-ই মোবাইল ফোনের ফ্রেমে বন্দি করছিল মানুষ। সেতুর নিচে নানা পণ্যের মেলা বসে।

সেতুর মাওয়া প্রান্তের ভিড় ছাড়িয়ে যায় শিমুলিয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত। ফেরি ঘাটেও উৎসবমুখর মানুষের ভিড় ছিল। বিকেলের আগে পর্যন্ত ইলিশের রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ ছিল। বিকেলের পর সেগুলো আস্তে আস্তে খুলতে থাকে। এ সময় সেতু দেখতে আসা দলে দলে মানুষকে এসব রেস্টুরেন্টে বসে ইলিশ মাছ খেতে দেখা গেছে।

ফেরিঘাটের পন্টুনেও নেমেছিল মানুষের ঢল। সেখান থেকে দূরে সেতু দেখা যায়। পন্টুন থেকে পদ্মার পানিতে ভাসা অসংখ্য স্পিডবোটে চেপে বসছিল মানুষ। এসব বোটে করে ঘুরে ঘুরে সেতুর কাছে গিয়ে সেতু দেখছিল মানুষ।

সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, যাত্রাবাড়ী থেকে জুরাইনমুখী সড়কের দু’পাশ, মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের দুপাশ এবং শ্রীনগর থেকে মাওয়া সেতু প্রান্ত পর্যন্ত দু’পাশে ছেয়েছিল রঙবেরঙের পতাকা, ফেস্টুন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তাদের পরিবারের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের ছবি। আকাশে উড়ছিল সেতু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিখচিত রঙবেরঙের বেলুন।

সেতুর মাওয়া প্রান্তের একেবারেই গোড়ায় যেন রঙের মেলা বসেছিল। আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা রঙিন পোশাক পরেছিলেন। দূরদূরান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা সঙ্গে এনেছিলেন নানা ধরনের নৌকা। কেউ নিজের সাইকেলকে সাজিয়েছিল নৌকার আদলে। এ সময় নানা বয়সী মানুষ গান গেয়ে হল্লা করে সেতু উদ্বোধনের আনন্দ প্রকাশ করছিলেন।

মাওয়া প্রান্তের গোড়ায় পদ্মা সেতুর নানা রকম ছবি সজ্জিত ছিল। এসব ছবিতে উঠে আসে সেতুর নানা দিক। বিশেষ করে সেতুর ওপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার কিছু ছবি আলোকচিত্র বোর্ডকে আরও বেশি উজ্জ্বল করে তুলেছিল।