হয়তো চতুর্থদিনেই শেষ হয়ে যেতে পারে সেন্ট লুসিয়া টেস্ট। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে যা অবস্থা, সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। হাতে আছে মাত্র ৪ উইকেট, ব্যাটিংয়ে সহায় বলতে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান ও মেহেদি হাসান মিরাজ।
দুজনের ব্যাটে নির্ভর করে চতুর্থ দিন পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন দেখায় যায়। তবে তা অনেকের কাছে ‘আকাশ-কুসুম’ চিন্তায় ঠেকবে। যেখানে বাংলাদেশে এখনো ৪২ রান পিছিয়ে। দিনের শুরুতেই যদি এই জুটি ভাঙে এবং লোয়ার-অর্ডার ব্যাটাররা যদি দাঁড়াতে না পারে তবে ইনিংস ব্যবধানেও হারতে হবে টাইগারদের।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস যেখানে পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে সেখানে মাথা কুটে মরেছে বাংলাদেশের টপ-অর্ডার ব্যাটাররা। ফের ব্যর্থতা। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এবার কাদের দোষ দেবেন? ক্যাবিয়ানদের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের দুই ইনিংসে হাসেনি তার ব্যাট। প্রথম ইনিংসে ৮ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তার দ্বিগুণ।
বল হাতে উইকেটের দেখাও পাননি। উল্লেখ করার মধ্যে কেবল খালেদ আহমেদের ৫ উইকেট। ক্যারিবিয়ায় গিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার, এই পেসার সবচেয়ে বড় কাজটা করেছেন কাইল মেয়ার্সকে ১৪৬ রানে থামিয়ে। নয়তো উইন্ডিজের সংগ্রহ আরও যে বাড়ত, তা নিশ্চিত।
তাদের সেই রানের পিছু ছুটতে গিয়ে তামিম ইকবাল-মাহমুদুল হাসান জয়রা ফের ব্যর্থ। নাজমুল হোসেন শান্তর ৪২ রানের ইনিংস ছাড়া বলার মতো কিছুই নেই। দুই অঙ্কের রানের ঘরে রাখার পরপরই একেকজন ফিরেছেন। চতুর্থদিন সেন্ট লুসিয়ার আবহাওয়া ছিল বিরূপ। থেমে থেমে বৃষ্টি পড়েছে। তাতে খেলা একবার শুরু হয় তো আরেকবার ফিরতে হয় ড্রেসিংরুমে। বাংলাদেশের ব্যাটারদের অবস্থাও ছিল বৃষ্টির মতন।
সারা দিনে বাংলাদেশ ব্যাট করেছে ৩৬ ওভার। তাতেই নেই ৬ উইকেট। স্কোরবোর্ডে জমা ১৩২ রান। প্রথম ইনিংসে ২৩৪। সোহান-মিরাজ হয়তো ইনিংস হার থেকে বাঁচাতে চেষ্টা করবেন। কিন্তু কতক্ষণ টিকবেন তারা কেমার রোচ-আলঝারি জোসেফদের সামনে! হোয়াইটওয়াশ হওয়ার শঙ্কারও সামনে বাংলাদেশ। সোহান-মিরাজ অবিশ্বাস্য কিছু করুক এমনটায় হয়তো চান সাকিবও।
অ্যান্টিগা টেস্টে হারের পেছনে ব্যাটারদের দায় করেছিলেন টাইগার অধিনায়ক। তা ঠিকই আছে। দুই ইনিংসে তিনি ফিফটি না করলে বাংলাদেশ আরও লজ্জাজনকভাবে হারতো। কিন্তু এবার সেন্ট লুসিয়া টেস্টে? হারের শঙ্কা নিয়ে দিন পার করতে হলো সাকিবকে। নেতৃত্বে ফেরাটা যে সুখকর হলো না তার।