শিশু-কিশোরদের নামাজ

হাদিস শরিফের সুস্পষ্ট হুকুম, ‘সন্তানের বয়স সাত হলে তাদের নামাজের নির্দেশ দাও।’ সুনানে আবু দাউদ : ৪৯৫

বর্ণিত হাদিসের এ হুকুম থেকে বোঝা যায়, এ বয়সের আগেই শিশুকে নামাজের প্রয়োজনীয় সুরা-কেরাত, দোয়া ও নিয়মকানুন ধীরে ধীরে শেখাতে থাকা চাই, যেন সে সাত বছর বয়সে নামাজের হুকুম পালনের যোগ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু আফসোস! সাত বছর কেন দশ বছরেও সন্তানের নামাজ শুদ্ধ হওয়ার মতো সুরা-কেরাত অধিকাংশ পরিবারে শেখানো হয় না। নামাজের নিয়মকানুন ইত্যাদির প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করা হয় না।

হাদিসে নেক সন্তানকে মা-বাবার জন্য সাদকায়ে জারিয়া হওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অনেক মা-বাবার দুর্ভাগ্য যে, সামান্য বেখেয়ালির কারণে তাদের সন্তান গোনাহে জারিয়ার কারণ হয়ে যাচ্ছে। মা-বাপ ছোটকালে শেখায়নি বিধায় বড় হয়ে কর্মব্যস্ততার মধ্যে নামাজটাও শুদ্ধ করে পড়ার সুযোগ হয় না অনেকের। এসব সন্তান শুধু গোনাহে জারিয়া নয় বরং কেয়ামতের দিন নিজের দুরবস্থার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে মা-বাবার বিরুদ্ধে বিচার দায়ের করতে ছাড়বে না।

১০ বছর বয়সী শিশুর নামাজ-রোজা : সন্তানের বয়স ১০ বছর হলে হাদিস শরিফে নামাজের জন্য শাসনের কথাও এসেছে। সাত বছর থেকে নামাজের জন্য এমনভাবে গড়ে তুলবে যেন ১০ বছর বয়সে সন্তান নামাজে পূর্ণ অভ্যস্ত হয়ে যায়। ইসলামি স্কলাররা বলেন, ‘রোজার হুকুমও একই।’ অর্থাৎ ৭-৮ বছর বয়সী সন্তানের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে তাদের ধীরে ধীরে রোজার প্রতি অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। এরপর ১০ বছর বয়সে উপনীত হলে যদি স্বাস্থ্যগতভাবে দুর্বল না হয় তাহলে প্রয়োজনে রোজার জন্য শাস্তিও দেওয়া যাবে। ফাতাওয়া শামী : ২/৪০৯

সাহাবায়ে কেরাম (রা.) তাদের সন্তানদের রোজা রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন। সাহাবি হজরত রুবায়্যি বিনতে মুআওয়াজ (রা.) বলেন, ‘আমরা নিজেরা আশুরার রোজা রাখতাম এবং আমাদের বাচ্চাদেরও রোজা রাখাতাম। তাদের জন্য পশমের তৈরি খেলনা রাখতাম। যখন বাচ্চাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদত তখন তাকে খেলনা দিতাম, এভাবে ইফতারের সময় হয়ে যেত।’ সহিহ বোখারি : ১/২৬৩