খুলনা সিটি করপোরেশন

নিরাপদ পানিবঞ্চিত ৮২ শতাংশ মানুষ

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) এলাকায় নিম্ন আয়ের ৮২ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি প্রাপ্তির সুযোগবঞ্চিত, ৫৯ শতাংশ পরিবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছে।  শুধু তাই নয়, নগরীর  ৯১ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহের সেবা থেকে বঞ্চিত। ৩৮ শতাংশ পরিবারের টয়লেট সরাসরি নর্দমার সঙ্গে সংযুক্ত ও ৬০ শতাংশ পরিবার খোলা জায়গায় বর্জ্য অপসারণ করে।

সিটি করপোরেশনে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর নাগরিক চাহিদা পূরণে পরিবেশগত সক্ষমতা তৈরি ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে নেওয়া গবেষণা জরিপে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। গবেষণা জরিপ প্রতিবেদনে সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, নিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার ২০টির মতো ত্রুটি তুলে ধরা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর বিএমএ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলন ও পরিবর্তন উপস্থাপন করে এসব তথ্য।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন কেসিসির কাউন্সিলর ও বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ মোহাম্মদ আলী, কেসিসির কনভারসেন্সি কর্মকর্তা আবদুল আজিজ, খুলনা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম, সুশীলনের পরামর্শক আমিনুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক শাহিনা পারভীন, নুরুন নবী প্রিন্স ও শাহীন ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পরিকল্পিত নাগরিক সেবা নিশ্চিতের জন্য সিটি করপোরেশনের ৫ ও ৯নং ওয়ার্ডের ৫ শতাংশ মানুষের মাঝে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জরিপে এ দুটি ওয়ার্ডের ১ হাজার ৮৫০ জন অংশ নেন। এতে সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, নিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার মান নির্ণয় করা হয়েছে। সেবার মান কম হওয়ার পেছনে ২০টির মতো কারণ চিহ্নিত করা হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতার অভাব, অপর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও ভাঙা ডাস্টবিন, নর্দমাতে সরাসরি বর্জ্য ফেলা, উপযুক্ত নকশাসহ অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ও পানি সরবরাহ, নিম্ন আয়ের এলাকায় অপর্যাপ্ত টয়লেট ও সুপেয় পানি, অনিয়মিত বাজার পরিষ্কারকরণ, আইনবহির্ভূত অবকাঠামো ও ভূমির ব্যবহার, নর্দমার সঙ্গে টয়লেট ও পান প্রবাহর সংযোগ, জনবল সংকট, স্থায়ী কমিটির অকার্যকারিতা, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি উৎপাদনে বেসরকারি উদ্যোগের অভাব।

জনদুর্ভোগ লাগব ও সঠিক সেবা নিশ্চিতের জন্য নগর সংস্থা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় করা, পর্যাপ্ত পরিবেশবান্ধব ডাস্টবিন স্থাপন, জনবল ও বাজেট বৃদ্ধি, ড্রেনের সঙ্গে টয়লেটের সংযোগ বন্ধ, পানির এটিএম বুথ স্থাপনের জন্য গুরুত্বারোপ করা হয়।