দেড় বছরের পরিকল্পনা চান সাকিব

বৃষ্টিতে বিলম্বিত করা গেছে। নুরুল হাসান সোহানের ৬০ রানে ইনিংস হার এড়ানো গেছে। কিন্তু সেন্ট লুসিয়াতে ব্যাটিং ব্যর্থতায় অবধারিত হার এড়ানো যায়নি। সোমবার ১০ উইকেটের হারে টেস্টে পরাজয়ের সেঞ্চুরি হলো বাংলাদেশের। অধিনায়কত্বের তৃতীয় অধ্যায়ে আরেকটি হোয়াইটওয়াশের লজ্জা গায়ে মাখতে হয়েছে সাকিব আল হাসানকে। অসহায় আত্মসমর্পণে হতাশ অধিনায়ক দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, ‘ক্রিকেটারদের ওপরেই দোষারোপ করবেন এটা ঠিক নয়। আমাদের দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিটাই এমন। আপনি কবে দেখেছেন ২৫-৩০ হাজার দর্শক (স্টেডিয়ামে) টেস্ট দেখেছে? ইংল্যান্ডের তো প্রত্যেক ম্যাচে দেখে। টেস্ট ক্রিকেটের সংস্কৃতিটা আমাদের দেশে আগেও কখনো ছিল না, এখনো নেই। নেই বলে হবে না এমনটা ভাবাও ঠিক নয়। ওই জিনিসটা পরিবর্তন করা আমাদের দায়িত্ব। একসাথে পরিকল্পনা করে যদি আগানো যায় পরিবর্তন সম্ভব। তা না হলে আগানো সম্ভব নয়। যা বলছিলাম, টেস্টের সংস্কৃতিটাই তো নাই। টেস্ট ক্রিকেটকে আমরা যে খুব বেশি মূল্যায়ন করি সেটা আমি বলব না। একটা কারণ এটা হতে পারে যে আমাদের রেজাল্ট ভালো না, এজন্য মূল্যায়ন হয় না। একটার সাথে আরেকটা সম্পর্ক আছে।’

সাকিব স্বীকার করেছেন টেস্ট খেলার মানসিকতায় খামতি আছে, ভালো ক্রিকেটারেরও অভাব আছে বাংলাদেশের ‘যতটা দৃঢ় মানসিকতা দেখানোর দরকার ছিল, ততটা পারিনি। গত দুটি টেস্টেই তা দেখা যায়নি। খুব হতাশার এটা। প্রত্যেকটা বিভাগে উন্নতি দরকার আমাদের। যারা টেস্টে খেলতে চায় তাদের অনেক উন্নতি করতে হবে। উন্নতি করার মতো ক্রিকেটারের অভাব রয়েছে আমাদের দেশে। ভালো কিছু করতে পেলে আরও ভালো পরিকল্পনা করতে হবে।’ সাকিব বলেন, ‘আপনাকে আগে ঘরের মাঠে ভালো খেলা নিশ্চিত করতে হবে। তখন আপনি দুইটা বিদেশে সিরিজ খেলে একটাতে খারাপ করলে সেটা আসলে চোখেও ধরবে না। তো এই কারণে আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঘরের মাঠে ভালো খেলা।’ ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এখন থেকেই বিপক্ষকে নিয়ে ভয় পাচ্ছেন অধিনায়ক। বলেছেন, ‘এখনো ৫ মাস সময় আছে। ওরা খুবই শক্তিশালী। ঘরের মাঠে যেকোনো মূল্যে জিততেই হবে আমাদের। কোনো ভাবেই হারা চলবে না। হয় ড্র, না হয় জয় চাই।’

দেড় বছর সময় পেলে আর পরিকল্পনা মতো এগোতে পারলে সাফল্য পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন সাকিব ‘সবাই মিলে বসে চিন্তাভাবনা করে আমরা যদি আগাই, তো আমার ধারণা এক-দেড় বছর সময় পেলে ভালো রেজাল্ট নিয়মিত করা সম্ভব। আমি বলব না যে টেস্ট ম্যাচ জিততেই হবে; কারণ, দেশের বাইরের খেলাগুলোতে সব দলই আন্ডারডগ থাকে। এখন নিউজিল্যান্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে, ওরাও যখন বাইরে সিরিজগুলো খেলতে আসে হেরে যায়। ইংল্যান্ডে যখন উইন্ডিজে আসছে হেরে যাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়া যখন অন্য দেশে যাচ্ছে হেরে যাচ্ছে। ভারত যখন অন্য দেশে যায় তখন তারাও হারে। আবার ভারতে যখন কেউ আসে তারাও হেরে যায়। একটা জিনিস নিশ্চিত করতে হবে, আমরা যেন ঘরের মাঠে না হারি। হয় আমরাও ড্র করব না হলে জিতব। এই উন্নতিটা যদি হয়, আমাদের হয়তো অনেক দূরে নিয়ে যাবে বাইরের পারফরম্যান্সগুলো। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেটটা খেলা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য।’

টেস্ট মর্যাদার ২২ বছর হতে চলল। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট কীভাবে খেলতে হয় তা রপ্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ। সাকিবের দল এখনো সেই কৌশল রপ্ত করতে মরিয়া।