রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ফয়েজুর রহমানকে (৪৭) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার সন্ধ্যার দিকে সাওরাইল ইউনিয়নের কুমরীরানী এলাকায় তাকে গুলি করা হয়।
পাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডরে সদস্য ফয়েজুর রহমান। তার বাড়ি পাট্টা ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুল হামিদ। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তাৎক্ষণিক তা জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি আগেও একবার ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। প্রায় ১০ বছর আগে রাতে ফয়েজুর ও পাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দেবেশ শীলকে হত্যাচেষ্টা করা হয়। তাদের ফোন করে আঁধারকোটা মোড় নামক এলাকায় ডেকে নিয়ে গুলি করা হয়। দেবেশ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান ফয়েজুর।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেলে তিনি বাহের মোড় নামক বাজারে ছিলেন। এ সময় তার ফোনে কল আসে। ফোনে কথা বলার পর তিনি একটি ভ্যানে রওনা দেন। কিছুদূর যাওয়ার পর সাওরাইল ইউনিয়নের কুমরীরানী মাঠ নামক এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। স্থানটি বাহের মোড় থেকে আধা কিলোমিটার ও তার বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে। সেখানে তাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে নেয়া হয়। এরপর তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
পাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য অতুল চন্দ্র সরকার জানান, দুই সন্তানের বাবা ফয়েজুর দুই বারের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। তিনি এলাকায় পল্লী চিকিৎসকের কাজও করেন। এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত তিনি। বুকে গুলি লেগেছে। ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। হাসপাতালে নেয়ার সুযোগও হয়নি।
ইউনিয়ন পরিষদের আরেক সদস্য সামছুর রহমান বিশ্বাস জানান, ফয়েজুর মেম্বরকে আগেই একবার গুলি করেছিল। যখন তিনি প্রথমবার মেম্বার হয় তার কিছু দিন পর এরকম সন্ধ্যার দিকে গুলি করে। সেবার হাতে লেগে জখম হয়েছিলেন। কিন্তু প্রাণে বাঁচেন। তার সঙ্গে কীসের শত্রুতা সেটা জানি না।
পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হত্যার খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে। কারা ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।