এজবাস্টন টেস্টে ঋষভ পান্থের দাপট বোঝার জন্য প্রথম দিনের ২৩ ওভার থেকেই গল্পটা শুরু করা যাক। তখন ভারতের স্কোর ৬৪/৩। রানরেট তিনের নিচে। কয়েক ওভার পরেই বিরাট কোহলি আউট হলেন। শ্রেয়াস আয়ারও বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। এসব আসা যাওয়ার মাঝেই আক্রমণ শুরু করলেন পান্থ। সে এমনই আক্রমণ যে ৬৭ ওভার শেষে ভারতের রান গিয়ে দাঁড়াল ৫-এর কাছাকাছি। নিজে করলেন ১১১ বলে ১৪৬।
ইংল্যান্ডের মাটিতে কোনো ভারতীয় ব্যাটসম্যানের এটা দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। কিন্তু রেকর্ডটুকু বাদ দিলে এমন সেঞ্চুরি টেস্ট ক্রিকেটে কালেভদ্রে দেখা যায়। ৯৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে তিনি এমন এক আত্মবিশ্বাসী উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যেখানে দাঁড়িয়ে ৪১৬ করে থেমেছে ভারত। হ্যাঁ, অবশ্যই রবীন্দ্র জাদেজার ১০৪ রানের ইনিংসের কথা আলাদাভাবে বলতে হবে। কিন্তু পান্থের ওই সেঞ্চুরির পর এটা যেন হওয়ার ছিল। যেমন ১৬ বলে জাসপ্রিত বুমরাহর ৩১ রানকেও স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। আসলে ইংলিশ বোলারদের নখ-দাঁত ভেঙে দিয়েছিলেন পান্থ একা। তার রিভার্স স্কুপ, সুইপ, ড্রাইভ, কাট, পুল করতে গিয়ে উইকেটে লুটিয়ে পড়া এবং বেন স্টোকসকে সুইপ করার সাহসÑ সব কিছু একসঙ্গে এলোমেলো করে দেয় ইংল্যান্ডকে।
দিনের শেষে তিনি বলেন, ‘দ্রাবিড় ভাই আমাকে বলেছিলেন যে একটা করে বল ধরে ধরে খেলতে এবং অন্য বিষয়ে মাথা না ঘামাতে। ছোট ছোট জুটি তৈরি করাই লক্ষ্য ছিল আমার। ২৫-৩০ রান তৈরি করে তার পরে বড় রানের দিকে এগোতে চেয়েছিলাম। শুরুতে চাপ ছিল। কিন্তু আমি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুসরণ করেছি।’ কী সেই পরিকল্পনা তা শোনার আগে জানিয়ে রাখা ভালো ষষ্ঠ উইকেটে ২২২ রান যোগ করেন জাদেজা-পান্থ জুটি। বেশি রান কার ব্যাট থেকে এসেছে তা না বললেও চলে। আক্রমণ করে কে ইংরেজ বোলারদের ছন্দ নষ্ট করেছে, সেটাও সবার জানা। এটা কি পান্থের পরিকল্পনার অংশ ছিল? উত্তরে ভারতীয় উইকেটকিপার বলেছেন, ‘বিপক্ষের বোলারদের ছন্দ নষ্ট করে দেওয়া খুব দরকার ছিল। বিভিন্ন শট খেলার চেষ্টা করেছি। কখনো এগিয়ে এসে, কখনো ব্যাকফুটে খেলে ওদের ছন্দ নষ্ট করে দিতে চেয়েছিলাম। আগে থেকে পরিকল্পনা ছিল না। বোলার কী করতে চাচ্ছে সেটা দেখে নিয়ে নিজের পরিকল্পনা সাজিয়েছি।’