বিএসএফের ভয়ে নদীতে ঝাঁপ, দুই শিশু নিখোঁজ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফের) ধাওয়ার মুখে মায়ের সঙ্গে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ রয়েছে দুই শিশু। গত শুক্রবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ শিশুরা পাশের নাগেশ্বরী উপজেলার পশ্চিম শুকাতি গ্রামের রহিম উদ্দিনের মেয়ে পারভীন খাতুন (৮) ও ছেলে শাকিবুল হাছান (৪)। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ৭টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুই শিশুকে জীবিত বা তাদের লাশ উদ্ধার করা যায়নি। শিশুদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস বা অন্য কোনো সংস্থার অভিযানের খবর পাওয়া যায়নি। নীলকুমর নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে শিশুদের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন স্বজনরা।

শুকাতি গ্রামের জিয়া উদ্দিন জানান, রহিম উদ্দিনের বাবা একাব্বর আলী। তিনি মারা গেছেন। রহিম সম্পর্কে জিয়া উদ্দিনের ভাগ্নে। প্রায় ১৬ বছরে আগে রহিম উদ্দিন অন্যদের সঙ্গে ইটভাটায় কাজ করার জন্য ভারতে যান। সেখানে দিনহাটার নয়ারহাট এলাকার সাজেদুল হকের মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তারা নয়ারহাটেই বসবাস করেন। মাঝেমধ্যে দেশে আসতেন রহিম উদ্দিন। এর মধ্যে একটি মেয়ে ও একটি ছেলে জন্ম নেয় তাদের ঘরে।

তিনি বলেন, দুই শিশু দাদার বাড়িতে আসেনি কখনো। এবার ঈদুল আজহা পালন করার জন্য প্রথমবারের মতো ছেলেমেয়েদের নিয়ে দেশে ফিরছিলেন।

রহিম উদ্দিন জানান, নিরাপদে দেশে ফেরার জন্য ভারতের দালালদের সঙ্গে ৩০ হাজার টাকা চুক্তি করা হয়। দালালরা তাদের রাতে সীমান্তের কোনো এক বাড়িতে নিয়ে এসে রাখে। সেখানে আরও ২০-২৫ জন নারী-পুরুষ ও শিশুও ছিল।

তিনি আরও জানান, মধ্য রাতে ৯৪৩ নম্বর মেইন পিলারের পাশে ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর সীমান্ত দিয়ে তাদের পার করার চেষ্টা করে দালালরা। তারা কাঁটাতার পার করে নদীপথে নিয়ে আসে। সে জন্য তাদের নদীর তীরে এনে জড়ো করে। এ সময় ভারতের শেউটি-১ ক্যাম্পের বিএসএফের সদস্যরা তাদের দেখে ধাওয়া করে। দালালরা দ্রুত নদী পার হতে বলায় সবাই নদীতে নেমে পড়েন।

রহিম বলেন, তার স্ত্রী সামিনা খাতুন ও দুই সন্তানকে নিয়ে নদীতে নামেন। কিন্তু তারা কেউই সাঁতার জানে না। স্রোতের টানে রাতের অন্ধকারে স্ত্রীর হাত ফসকে তার সন্তানরা নিখোঁজ হয়। তারা বেঁচে আছে না মারা গেছে জানেন না।

ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আদম আলী বকুল জানান,  নীলকুমর নদীর তীরে অনেক লোক নিখোঁজ শিশুর উদ্ধারের জন্য জড়ো হয়েছেন। অনেকে নদীতে নেমে খুঁজছেন।

এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাশিপুর কোম্পানি কমান্ডার কবির  হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার পথে দুটি শিশু নিখোঁজ হয়েছে বলে তারা শুনেছেন। বিজিবির টহল দল সেখানে পাঠানো হয়েছে। তা ছাড়াও এ বিষয় বিএসএফকে জানানো হয়েছে।