হজের মৌসুমে খেজুর

সৌদি আরব বিশে^র অন্যতম শীর্ষ খেজুর উৎপাদনকারী দেশ হলেও হজপালনকারীরা সবসময় তাজা খেজুর পান না। এবার দীর্ঘ ২০ বছর পর একই সময়ে হজ ও খেজুরের মৌসুম হওয়ায় বাগানগুলোতে থোকায় থোকায় পাকা ও তাজা খেজুর দেখার সুযোগ পাচ্ছেন হাজিরা। দেশটিতে ৪০০ জাতের বেশি প্রজাতির খেজুর উৎপাদন হয়। আর খেজুর দিয়ে নানা ধরনের খাবার তৈরির প্রচলনও বেশি সৌদি আরবে। লিখেছেন মুফতি এনায়েতুল্লাহ

ঐতিহ্যের স্মারক

খেজুর। বহুল পরিচিত সুমিষ্ট এক ফলের নাম। ‘খেজুর’ শব্দটি হিন্দি, ‘খোরমা’ ফারসি। আমাদের দেশে শুকনা খেজুর খোরমা নামে পরিচিত, আরবিতে যাকে ‘তামার’ বলা হয়। পাকা তাজা খেজুরকে অবশ্য আরবরা ‘রুতাব’ বলেন। খেজুর গাছের আরবি ‘নাখল’। হজ ও উমরা করতে সৌদি আরব যাওয়া লোকজন ইবাদত-বন্দেগির অবসরে দর্শনীয় বিভিন্ন পরিদর্শনের পাশাপাশি খেজুরের বাগান দেখতে যান। হজ ও উমরা পালন শেষে হাজিরা খেজুর নিয়ে বাড়ি ফেরেন। বাড়ি ফেরা হাজি সাহেব জমজমের পানি আর খেজুর দিয়ে আগত দর্শনার্থীদের আপ্যায়ন করবেন, এটা অনেকটা রীতিতে পরিণত হয়েছে। খেজুর চাষের ঐতিহ্য অনেক প্রাচীন। তবে কোন দেশে খেজুর চাষের উৎপত্তি কীভাবে, তা ইতিহাসের অন্ধকারেই রয়ে গেছে। ধারণা করা হয়, ইরানে প্রথম খেজুরের চাষ হয়েছে। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে ১০০ কোটি ৩ লাখ ৫৩ হাজার হেক্টর খেজুর বাগান রয়েছে। এসব বাগান থেকে বছরে ১০০ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টন খেজুর উৎপাদিত হয়।

পৃথিবীর দুইশ কোটি মুসলমানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্মারক খেজুর। খেজুর ও খেজুরগাছের সঙ্গে ইসলামি সভ্যতা ও ইতিহাস নিবিড়ভাবে জড়িত। সৌদি আরবের রাজকীয় পতাকা ও মনোগ্রামের আড়াআড়ি দুই তরবারির ওপরে একটি খেজুরগাছ ইসলাম ও আরব দুনিয়ায় খেজুরের গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মেও খেজুর ও খেজুরগাছকে সম্মানের চোখে দেখা হয়।

কোনো অংশ ফেলনা নয়

একটি খেজুরগাছ ১০০ থেকে ২০০ বছরেরও বেশি সময় জীবিত থেকে খেজুর সরবরাহ করে। খেজুর ও খেজুরগাছ মহান আল্লাহর এক বিচিত্র নিয়ামত। এর কোনো অংশ ফেলনা নয়। দুনিয়ার অন্য কোনো গাছ কিংবা ফলের এমন বহুবিধ ব্যবহার হয় কি না সন্দেহ, তাই আরব দেশে খেজুরগাছকে বা ‘রানী গাছ’ নামে অভিহিত করা হয়। খেজুর ও খেজুরগাছের প্রতিটি অংশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে মূল্যবান। খেজুর আরববাসীর প্রধান কার্বোহাইড্রেট খাদ্য। খেজুরশাঁস মানুষের খাদ্য এবং খেজুরের বিচি উট, ঘোড়া ও সাহারার মরূদ্যানে কুকুরের খাদ্য। এ ছাড়া অনেক দেশে খেজুর বিভিন্ন উপায়ে রান্না করে খাওয়ার রেওয়াজ প্রচলিত আছে। খেজুরের বিচি আগুনে ঝলসানোর পর পাউডার করে একধরনের পানীয় তৈরি করা হয়, যা আরব দেশে বেশ জনপ্রিয়।

খেজুরগাছ থেকে একধরনের সুমিষ্ট ও পুষ্টিকর রস পাওয়া যায়। খেজুরের রস দিয়ে গুড় ও বিভিন্ন শীতপিঠা তৈরি করা হয়। খেজুরগাছের ওপরের অংশ বিশেষভাবে কেটে রস বের করার পদ্ধতি বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে নেই। তথ্য অনুযায়ী, খেজুর গাছ ৮০০ ধরনের কাজে ব্যবহৃত হয়। খেজুরগাছের কাণ্ড দিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণের কাঠামো, পাতা দিয়ে চাল, পাতার আঁশ দিয়ে ঝুড়ি, পাতার শাঁস প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে যে সিরাপ, অ্যালকোহল ও ভিনেগার বানানো হয় তা আরব বিশ্বে বেশ প্রচলিত। যেসব খেজুরগাছের ফলন কম হয়, তা গোড়া কেটে ফেললে বেশ কিছু নতুন কুঁড়ি গজায়। এসব কুঁড়ি সালাদ ও সবজি হিসেবে উপাদেয়।

নানা জাত

বিশ্বের অর্ধেকের বেশি খেজুর হয় সৌদি আরবে। দেশটিতে রয়েছে নানা জাতের খেজুর, নামও ভিন্ন ভিন্ন। কিং আবদুল আজিজ ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. আকরাম বালিলু একটি বিশেষ টিম নিয়ে মদিনার আজওয়া খেজুর নিয়ে গবেষণা করেছেন। তার দাবি, বিশ্বব্যাপী অন্তত দুই হাজার জাতের খেজুর পাওয়া যায়। সৌদি আরবে চারশ জাতের খেজুর আছে। এসব জাতের মধ্যে বেশি পরিচিত খেজুর হলো- আজওয়া, আমবার, সুগায়ি, সাফাওয়ি, মরিয়ম, মুসকানি, খালাস, ওয়াসালি, বেরহি, শালাবি, ডেইরি, মাবরুম, ওয়ান্নাহ, সুক্কারি ও খুদরি।

সংরক্ষণ পদ্ধতি

নানাভাবে খেজুর সংরক্ষণ করা হয়। এর একটি হলো খেজুর রোদে না শুকিয়ে গাছ থেকে কাটার পর ফ্রিজে রাখা। এ জাতীয় খেজুরকে ‘রাতাব’ বলে। এই খেজুর খেতে খুব সুস্বাদু। এছাড়া সাধারণত চার পর্যায়ে খেজুর সংরক্ষণ করা হয়। সেগুলো হলো কিমরি (কাঁচা), খলাল (পূর্ণাঙ্গ, ক্রাঞ্চি), রুতাব (পাকা, নরম), তুমুর (পাকা, সূর্যে শুকানো)। সৌদি আরবের বাজারসহ বিভিন্ন দেশে পাকা ও সূর্যে শুকানো খেজুর পাওয়া যায়। গাছে ফল আসার জন্য সচরাচর চার থেকে আট বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তবে বাণিজ্যিকভাবে ফসল উৎপাদনের উপযোগী খেজুর গাছে ফল আসতে সাত থেকে দশ বছর সময় লাগে। পূর্ণাঙ্গ খেজুরগাছে প্রতি মৌসুমে গড়ে ৮০ থেকে ১২০ কিলোগ্রাম (১৭৬ থেকে ২৬৪ পাউন্ড) ফল পাওয়া যায়।

আজওয়া : মদিনা শরিফের সর্বোত্তম খেজুর। এটা দেখতে কালো রঙের। আকারে গোল। বিচি ছোট এবং খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। আজওয়া খেজুর হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় ফল। আজওয়ার পুষ্টিগত উপকারিতা ও গুরুত্ব অপরিসীম। একে জান্নাতের ফল বলে অভিহিত করা হয়েছে। আজওয়া খেজুর বিষের কার্যক্ষমতা কমাতে বিশেষভাবে কার্যকর। এ সম্পর্কে হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালবেলা সাতটি আজওয়া (উৎকৃষ্ট) খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ ও জাদু তার ক্ষতি করবে না।’ -সহিহ বোখারি : ৫৪৪৫

সাফাওয়ি : এই খেজুর নরম। গাঢ় বাদামি রঙের লম্বাটে। খেতে মোটামুটি মিষ্টি।

আমবার : মদিনার বিখ্যাত খেজুর। কালো ও খয়েরি রঙের মিশ্রণে লম্বাটে এই খেজুর খেতে কম মিষ্টি।

সুগায়ি : এই খেজুর বড় ও ছোট দুই আকারেই হয়। মুখে দিলে একটু কস লাগে। খেতে মিষ্টি। বাইরের আবরণ নরম।

মরিয়ম : লালচে রঙের খয়েরি ও কালোর সংমিশ্রণে এই খেজুর এক থেকে দেড় ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়।

সুক্কারি : সুক্কারি খেজুর খুব মিষ্টি। সৌদি আরবের সব অঞ্চলেই সুক্কারির চাষ হয়। তবে সৌদি আরবের আল কাসিম অঞ্চলে বেশি ফলন হয় এই খেজুর। দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় এই খেজুর হালকা সোনালি রঙের। গোলাকার এই খেজুর স্বাদে অতুলনীয়। সৌদির খাবার টেবিলে সুক্কারি খেজুর থাকবেই। গাহওয়া (সৌদি কফি) আর সুক্কারি একসঙ্গে খান সৌদিরা।

বাংলাদেশে প্রায় ৩০ রকমের খেজুর বিক্রি হয়। এর মধ্যে দাম কম হওয়ায় বেশি বিক্রি হয়- ‘জাহেদি।’ এটি আসে ইরাক থেকে। ছোট ও গোল আকারের ‘লুলু’ খেজুর আসে দুবাই থেকে, যেটা বাংলাদেশে ‘বরই খেজুর’ নামে বেশি পরিচিত। এছাড়া মদিনার মাশরুক খয়েরি রঙের হয়, এটি কিছুটা লম্বাটে। আর কালমি খেজুর কালো ও গাঢ় খয়েরি রঙের হয়।

খেজুরের খাবার

সৌদি আরবে খেজুর তুলনামূলকভাবে সস্তা। দেশটিতে সারা বছর সহজেই মেলে খেজুর। বহুকাল আগে থেকে ভেষজ গুণে গুণান্বিত খেজুর প্রতিদিন খায় সৌদিয়ানরা। খেজুর নিজেই কেবল সুস্বাদু খাবার নয় বরং খেজুর দিয়ে নানা প্রকারের মিষ্টান্ন এবং মজাদার খাবার তৈরি হয়। সৌদি আরবে খেজুরের কেক পাওয়া যায়। পাওয়া যায় খেজুর সহযোগে তৈরি বিস্কুট, খেজুরের পুর দেওয়া মিষ্টি। এ ছাড়া খেজুরের লাচ্ছি ও খেজুরের পিৎজাও পাওয়া যায়। খেজুরের জুস, চাটনি, স্নিকার্স বার ও হালুয়া পাওয়া যায় সৌদি আরবে।

কোরআন-হাদিসে খেজুর প্রসঙ্গ

ইসলাম ধর্মে খেজুরকে অন্যসব ফল থেকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ২৬ বার খেজুর ও খেজুরগাছের কথা বলা হয়েছে। সুরা মরিয়মে এর উপকারিতা বর্ণনা করা হয়েছে। কোরআন শরিফ প্রথম লেখা হয়েছিল খেজুরগাছের পাতায়। কোরআন-হাদিসে বহুবার বহুভাবে খেজুর ও খেজুরগাছের কথা নানা উপমা এবং ঘটনা বর্ণনার ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসে মুমিনের দৃষ্টান্ত খেজুরগাছের মতো বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, গাছ-গাছালির মধ্যে এমন একটি গাছ আছে, যার পাতা ঝরে পড়ে না এবং তা হলো মুমিনের দৃষ্টান্ত। তোমরা আমাকে বলতে পার, সেটা কোন গাছ? তারপর লোকজনের ধারণা জঙ্গলের কোনো গাছের প্রতি নিবদ্ধ হলো। আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, আমার মনে হতে লাগল যে, তা হলো খেজুরগাছ। কিন্তু আমি লজ্জাবোধ করলাম। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনিই আমাদের তা বলে দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তা হলো খেজুরগাছ। - মুসলিম : ৬৮৩৮

নবীর বিরহে খেজুরগাছের কান্না

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় মসজিদে নববিতে খুতবা দেওয়ার সময় একটি খেজুরগাছের খুঁটিতে হেলান দিতেন। এটাকে উস্তুনে হান্নানা বলা হয়। উস্তুন ফারসি শব্দ, এর আরবি হলো উস্তুয়ানা। অর্থ- খুঁটি। আর হান্নানা অর্থ ক্রন্দসী বা কান্নারত। হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা) বর্ণনা করেন, মসজিদে নববিতে একটি খেজুরগাছের খুঁটি ছিল। মিম্বর তৈরির আগে নবী কারিম (সা.) তাতে হেলান দিয়ে (খুতবা দেওয়ার জন্য দাঁড়াতেন)। অতঃপর যখন তার জন্য মিম্বর তৈরি করা হয়, (মুসলমানদের সংখ্যা বাড়লে, দূরের মুসল্লিরা নবী কারিম (সা.)-কে দেখতে পেত না এবং শুনতে পেত না তার কথা। ফলে উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়) তখন তিনি খুঁটিটি রেখে মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দেন এবং আলোচনা করেন। (নবী কারিম (সা.)-এর বিরহে) আমরা তখন খুঁটি থেকে ১০ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রীর মতো ক্রন্দনের শব্দ শুনতে পেলাম। এমনকি নবী কারিম (সা.) মিম্বর থেকে নেমে এসে খুঁটির ওপর হাত রাখেন। অতঃপর খুঁটির কান্না বন্ধ হয়। -সহিহ বোখারি : ৯১৬

পরে নবী কারিম (সা.) খুঁটিটিকে মসজিদে নববিতে দাফন করেন। তার ওপরই বর্তমানে রাসুলে পাকের মিম্বর দাঁড়িয়ে আছে।

খেজুর সংরক্ষণে জিন ব্যাংক

খেজুরের জিনগত বৈচিত্র্য রক্ষা এবং সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরবের ন্যাশনাল সেন্টার ফর পামস অ্যান্ড ডেটস নামক সংস্থা। সংস্থাটি বিলুপ্তপ্রায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ১২৭টির বেশি জাতের খেজুর জিন ব্যাংকে সংরক্ষণ করেছে। আল আহসা খেজুর জিন ব্যাংক খেজুরের জাতের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। ২০২৭ সালের মধ্যে নিবন্ধিত খেজুরের জাত ২০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সৌদি আরবে প্রায় ৩ কোটি খেজুর গাছ রয়েছে।

খেজুর ব্যাংকের নিবন্ধিত বেশিরভাগ জাতই সৌদি আরবের প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মরুর মাটি বেশিরভাগ জাতের জন্য উপযুক্ত। তবে অন্যান্য কিছু জাত আমেরিকা, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া এবং ইরাক থেকেও সংরক্ষণ করা হয়েছে। খেজুর ব্যাংকের লক্ষ্য সৌদি আরবসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বীজ সংরক্ষণ করা বিশেষ করে বিরল ও বিপন্ন জাতের খেজুর বীজ সংরক্ষণ ও গবেষণা করা। এসব জাত কতটা জলবায়ু ও মাটির জন্য কতটা মানানসই তা নির্ধারণের জন্য বীজের ওপর শরীরবৃত্তীয় এবং গঠনগত গবেষণা করে থাকে এ কেন্দ্র।

উৎপাদন ও রপ্তানি

জাতিসংঘের কমোডিটি ট্রেড ডাটা বেইস অনুযায়ী বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেজুর উৎপাদন করে মিসর, আর রপ্তানি করে তিউনিসিয়া। খেজুর রপ্তানির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব, তৃতীয় স্থানে ইসরায়েল। রপ্তানিকারক অন্য দেশগুলো হলো ইরান, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, আলজেরিয়া, ইরাক, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, মিসর, জার্মানি, ফিলিস্তিন, জর্দান, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়া, ডেনমার্ক ও তুরস্ক। অন্যদিকে খেজুর উৎপাদনে শীর্ষ দেশগুলো হলো যথাক্রমে মিসর, ইরান, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব।

খেজুর উৎপাদন ও রপ্তানির ক্ষেত্রে সৌদি আরব এগিয়ে ভিন্ন কারণে। কারণ দেশটিতে সবচেয়ে বেশি প্রজাতির খেজুর উৎপাদন হয়। আর খেজুর দিয়ে নানা ধরনের খাবার তৈরিও হয় বেশি। ২০২০ সালে দেশটির খেজুর রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার টন। সৌদি আরব বিশ্বের ১০৭টি দেশে সরাসরি খেজুর রপ্তানি করে। সৌদি আরবের মোট রপ্তানি খাতের ২৪ শতাংশই খেজুর রপ্তানি হয়। কিন্তু রপ্তানির হিসাবের বাইরে সারা বছর হজ ও উমরা পালনে আসা অন্তত ১ কোটি মানুষ (হজে ২০ লাখ, উমরায় ৮০ লাখ) সঙ্গে করে প্রচুর পরিমাণে খেজুর নিজ দেশে নিয়ে যান। এই হিসাব রপ্তানির হিসাবের বাইরেই রয়ে গেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেজুর বাগান

বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেজুর বাগান সৌদি আরবে অবস্থিত। সবুজ গাছে ঘেরা সুবিশাল বাগানটি ওপর থেকে দেখলে মনে হয়, বালুর ওপর কেউ বোধহয় সবুজ গালিচা বিছিয়ে রেখেছে। সৌদি গণমাধ্যম আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, প্রায় দুই লাখ খেজুরগাছ সমৃদ্ধ বাগানটি মধ্য সৌদি আরবের আল কাসিম প্রদেশের রাজধানী বুরাইদা শহরের কাছে অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ৫ হাজার ৪৬৬ হেক্টর। এই বাগানে প্রায় ৪৫ ধরনের খেজুর উৎপাদিত হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেজুর বাগানের মালিকের নাম শেখ সালেহ বিন আবদুল আজিজ রাজেহি। তার নামানুসারে বাগানের নাম রাখা হয়েছে ‘রাজেহি বাগান।’

শুরুতে এটি শুধু খেজুরের বাগান ছিল না। ১৯৯০ সালের দিকে খেজুরের পাশাপাশি গম ও তরমুজ চাষ করা হতো। ১৯৯৩ সাল থেকে শুধু বিভিন্ন ধরনের খেজুর আবাদ শুরু হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বাগানের কোনো খেজুর বিক্রি করা হয় না। বাগানের পুরো উৎপাদন আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে দেওয়া। এ কারণে এই বাগানকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘ওয়াকফ সম্পত্তি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে নাম লেখানো বাগানটিকে ২০১৫ সালে লোককলা ও কারুশিল্পে ইউনেস্কো বিশ্বঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে।