নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় নামীয় ৫০ জনসহ অজ্ঞাত ২০০-৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালীদের তদবিরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সংঘর্ষের সময় যারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না এমন নিরীহ ১০ জনের নাম মামলার এজাহারে রাখা হয়েছে। অপরদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং অনেকের বাবার নাম অজ্ঞাত উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পর থেকে এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। নিরীহরাও মামলার ভয়ে বাসায় থাকতে পারছেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার বরপা এলাকায় কয়েক শ অবৈধ গ্যাসসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। পরে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট লোকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে পুনরায় ওই সব অবৈধ গ্যাসসংযোগ দিয়ে দেয়। গত রবিবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তিতাস গ্যাসের একটি দল এসব অবৈধ গ্যাসসংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আসে। এ সময় ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা গ্রামবাসীকে উসকে দিলে পুলিশের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় গত সোমবার পুলিশ বাদী হয়ে ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২০০-৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করে।
এলাকাবাসীর দাবি, মামলার এজাহারে উল্লিখিত ৪ নম্বর আসামি বাবুল শিকদার, ৮ নম্বর আসামি ইলিয়াছ শিকদার, ১৮ নম্বর আসামি মুক্তাদির, ৬ নম্বর আসামি ফয়সাল ভূঁইয়া, ১০ নম্বর আসামি রফিকুল ইসলাম, ১১ নম্বর আসামি দিপু ভূঁইয়া, ৭ নম্বর আসামি আরজু ভূঁইয়া, ১৪ নম্বর আসামি মুয়াসেল ভূঁইয়া, ১৫ নম্বর আসামি আয়েছ আলী ভূঁইয়া ও ১৭ নম্বর আসামি হযরত আলী সেদিন ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন না। তাদের কেউ শিক্ষার্থী, কেউ নিরীহ ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন আক্রোশের কারণে একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত এই ১০ জনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। প্রশাসন সঠিকভাবে তদন্ত না করেই একটি প্রভাবশালী মহলের তদবিরে প্রকৃত অপরাধীদের বাঁচাতে নিরীহ মানুষের নামে মামলা দিয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
অপরদিকে, রাজনৈতিক প্রভাবের জেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকাদের মাঝেও অনেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ গ্যাসসংযোগ সিন্ডিকেটের মূল হোতা এ্যামি ভূঁইয়াসহ অনেকের বাবার নাম অজ্ঞাত উল্লেখ করা হয়েছে এবং বয়স কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক আক্রোশ ও প্রভাবশালী মহলের তদবিরে পুলিশের এমন কা-ে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা নিরীহদের অবিলম্বে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান। নাম প্রত্যাহার না হলে তারা আন্দোলনে নামারও হুমকি দেন।
এদিকে পুলিশের মামলার কারণে বরপা এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুরো এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় নিরীহ সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ঘরছাড়া হয়েছেন।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, ‘যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়, তদন্ত করে তাদের বাদ দেওয়া হবে। আর যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’