বালুর ব্যাটারি

শীতপ্রধান দেশে ঘর উষ্ণ রাখতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়। ঘর গরম রাখার বিকল্প শক্তি জোগাতে বিশ্বের প্রথম পুরোপুরি কার্যক্ষম বালুর ব্যাটারি স্থাপন করেছেন ফিনল্যান্ডের একদল গবেষক। কয়েক মাসের শক্তি ধরে রাখতে সক্ষম এই ব্যাটারি। 

প্রস্তুতকারকদের আশা বছরব্যাপী শক্তি জোগান দেবে এই ব্যাটারি । বিশেষ করে দীর্ঘ শীতকাল পাড়ি দিতে বিকল্প শক্তির জোগান নিশ্চিত করবে বালুর ব্যাটারি।

প্রশ্ন হচ্ছে কীভাবে বালু শক্তি পাবে আর সেই শক্তি কীভাবে ঘর গরম রাখবে? এসব প্রশ্নের জবাবে গবেষকরা জানান, নির্দিষ্ট পরিমাণ সহজলভ্য বালুকে প্রথমে সৌরবিদ্যুৎ অথবা বায়ুবিদ্যুতের সাহায্যে উত্তপ্ত করা হবে। এই উত্তাপে চার্জ পাবে বালুর ব্যাটারি। বালু ৫০০ সেলসিয়াস তাপ ধরে রাখতে পারে এবং ঠাণ্ডা হতেও সময় বেশি লাগে। এই তাপ শীতকালে ঘর গরম রাখার ব্যবস্থায় কাজে আসবে। 

এসব কেবল কথার কথা নয়। বাস্তবে গোলাঘরের মতো ধাতব একটি গোল চোঙায় প্রায় ১০০ টন সাধারণ বালু দিয়ে ব্যাটারি তৈরি করে দেখিয়েছেন ফিনিশ গবেষকরা। আপাতত ফিনল্যান্ডের কানকানপা শহরের ভাটাজানকস্কি পাওয়ার প্ল্যান্টে বালুর ব্যাটারি স্থাপন করা হয়েছে। এখান থেকে স্থানীয়দের বাড়িতে তাপ সরবরাহ করা হচ্ছে। আসলে ব্যাটারির গরম বালু থেকে যে উত্তপ্ত বাতাস উৎপন্ন হচ্ছে সেই বাতাসে ওই এলাকার উত্তাপকেন্দ্রের পানি গরম করা হচ্ছে। এই গরম পানি স্থানীয়দের বাড়িতে, অফিসে পাম্প করে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান বাস্তবতায় পৃথিবীব্যাপী নবায়নযোগ্য শক্তি বা গ্রিন এনার্জিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এখন সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ বিকল্প শক্তির উৎস হয়ে উঠলেও একটা সংকট থেকেই যায়। যদি সূর্যের দেখা না মেলে কিংবা পর্যাপ্ত বাতাস না থাকে তাহলে সৌর অথবা বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন সাময়িক বন্ধ থাকবে। এরকম সংকটের সমাধান হচ্ছে উচ্চ ধারণক্ষমতার অপেক্ষাকৃত সস্তা ব্যাটারি। উৎপাদিত শক্তি ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করতে হবে। শক্তি সংরক্ষণের মাধ্যমে এই ব্যাটারি আপদকালীন সময়ে আশার আলো দেখাবে বলে বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশা।