প্রখ্যাত বাঙালি রাজনীতিবিদ জ্যোতি বসুর জন্ম ১৯১৪ সালের ৮ জুলাই কলকাতায়। তার বাবার নাম নিশিকান্ত বসু ও মা হেমলতা বসু। তাদের পরিবারের আদি নিবাস ছিল তৎকালীন ঢাকা জেলার সোনারগাঁয়ে। ১৯২০ সালে তিনি কলকাতার ধর্মতলার লোরেটো স্কুলে ভর্তি হন। ১৯২৫ সালে সেইন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। এ স্কুল থেকেই সিনিয়র ক্যামব্রিজ (নবম শ্রেণি) পাস করেন। ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর ইংরেজি সাহিত্যে প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। গ্র্যাজুয়েশন শেষে ১৯৩৫ সালে আইন বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে তিনি যুক্তরাজ্যে গমন করেন। লন্ডনে অবস্থানকালে ভারতীয় ছাত্রদের নিয়ে গড়ে ওঠা ‘লন্ডন মজলিস’-এর তিনি ছিলেন প্রথম সম্পাদক। মিডল টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৪০ সালে তিনি ভারতে ফিরে আসেন এবং কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি শুরু করেন। তিনি ছাত্রাবস্থায় কমিউনিস্ট ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হন। ১৯৪০ সালে গ্রহণ করেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ। ভারত ভাগের পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী হন। ১৯৭৭ সালের ২১ জুন শপথ নেন পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। ১৯৯৬ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার নাম বিবেচিত হলেও তিনি পার্টির সিদ্ধান্তে সেই পদ প্রত্যাখ্যান করেন। টানা ২৩ বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০০০ সালে অবসর নেন। ২০০৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সাম্মানিক ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করে। ২০০৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বাড়িতে পড়ে গিয়ে কপালে ও মাথায় আঘাত নিয়ে ভর্তি হন হাসপাতালে। ১৭ দিন অসুস্থতার পর ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।