পাঁচ কারণে বরিসের পতন

তিন বছরেরও কম সময় আগে বরিস জনসনের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টি জাতীয় নির্বাচনে ১৯৮৭ সালের পর সবচেয়ে বড় বিজয় নিয়ে ক্ষমতা এসেছিল। এখন দলীয় মন্ত্রী ও এমপিদের সমর্থন হারিয়ে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে তাকে। বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, পাঁচ কারণে পতন হয়েছে বরিস জনসনের।

ক্রিস পিনচারের ঘটনা

বরিস জনসনের এ পরিণতির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে কনজারভেটিভ পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য ও সাবেক ডেপুটি চিফ হুইপ ক্রিস পিনচারকে ঘিরে বিতর্কিত কয়েকটি ঘটনা। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কনজারভেটিভ পার্টির ডেপুটি চিফ হুইপ হিসেবে পিনচারকে নিয়োগ দেন বরিস জনসন। ডাউনিং স্ট্রিটের ভাষ্য ছিল, অভিযোগগুলো সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন না বরিস। তবে গত ৪ জুলাই বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে আসে অভিযোগগুলো সম্পর্কে জানতেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনার বিধিনিষেধ অমান্য

২০২০ সালের জুন মাসে বরিস জনসনের জন্মদিন ছিল। সে সময় যুক্তরাজ্যে চলছিল করোনাসংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধ। তার মধ্যেই ডাউনিং স্ট্রিটে সরকারি বাসভবনে এক পার্টিতে যোগ দেন তিনি। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে। চলতি বছরের এপ্রিলে ওই ঘটনার জন্য বরিস জনসনকে জরিমানা করা হয়।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি

বরিস জনসনের পদত্যাগের পেছনে একটি কারণ যুক্তরাজ্যে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি। চলতি বছর দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশে। তবে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির অনেকগুলো কারণই তার সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

ওয়েন প্যাটারসন বিতর্ক

গত বছর অক্টোবরে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের একটি কমিটি কনজারভেটিভ পার্টির তৎকালীন এমপি ওয়েন প্যাটারসনকে ৩০ দিনের জন্য বহিষ্কার করার সুপারিশ করে। তবে এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার একপর্যায়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন প্যাটারসন।

পরিকল্পনায় ঘাটতি

ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ওপর ভর করেই নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছিলেন বরিস জনসন। তবে এরপর দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার পরিকল্পনায় ঘাটতি ছিল বলে অভিযোগ সমালোচকদের। বরিসের সবচেয়ে বড় সমালোচক হয়ে ওঠেন তার সাবেক পরামর্শক ডোমিনিক কামিংস। তার অভিযোগ, বরিস নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। এমনকি বিভিন্ন বিষয়ে নিজের অবস্থান বারবার বদলেছেন।