সরকারি দপ্তরে অনুপস্থিতি মানুষের ভোগান্তি

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগের চিত্র দেখে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সদর আসনের সাংসদ গোলাম ফারুক প্রিন্স। ঈদুল আজহার পরদিন গত সোমবার দুপুরে হাসপাতালে রোগীদের খোঁজখবর নিতে যান প্রিন্স এমপি। এ সময় চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, অপরিচ্ছন্নতা ও খাবারের নিম্নমান নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি বলেন, পাবনা জেনারেল হাসপাতাল কেবল সদর উপজেলা নয়, পুরো পাবনা জেলার প্রায় ত্রিশ লাখ মানুষের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বিপদগ্রস্ত হয়েই মানুষ এখানে আসে। আর ঈদের দিনগুলোতে বিপদাপন্ন, সংকটে থাকা মানুষ আরও বেশি অসহায় বোধ করে। কিন্তু সেখানে যা দেখেছি তাতে আমি চরম হতাশ। এক কথায় চিকিৎসক ও হাসপাতাল প্রশাসন দায়িত্ব জ্ঞানহীন আচরণ করেছেন।

প্রিন্স এমপি আরও বলেন, জরুরি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি হাসপাতালে সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সোমবার হাসপাতালে গিয়ে আমি চিকিৎসক, স্বাস্থকর্মীদের অধিকাংশই অনুপস্থিত দেখেছি। এমনকি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ওমর ফারুক মীরকে জানিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পরেও তিনি আসেননি। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি এমন আচরণ অনাকাক্সিক্ষত, অপ্রত্যাশিত। আগামী বৈঠকে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইব।

এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ওমর ফারুক মীর বলেন, সকালে হাসপাতালে চিকিৎসকরা রাউন্ড দিয়েছেন। সরকারি ছুটির দিন বলে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি যন্ত্রেও সবার হাজিরা নেওয়া হয়নি।

অপরদিকে, ঈদুল আজহার ছুটি শেষে গতকাল মঙ্গলবার কর্মদিবসের প্রথম দিন থাকলেও গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সরকারি দপ্তরগুলোতে বেশিরভাগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন অনুপস্থিত। তাদের অনুপস্থিতির কারণে সেবা পাননি অনেকে। ফলে সেবা নিতে আসা লোকজন চরম দুর্ভোগের শিকার হন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবস ছিল। কিন্তু উপজেলার ২৭টি সরকারি দপ্তর থাকলেও বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুপস্থিত ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মধ্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দ্য গুহ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন মোল্লা, হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা নাসিরা সুলতানা, সমবায় কর্মকর্তা আতাউর রহমান, সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইমদাদুল ইসলাম সিকদার, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা আল বেলাল, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ফৌজিয়া কাদির, জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী কর্মকর্তা নাসরিন আরা পুষন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কাশ্মির সুলতানা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মুর্শিদা ইয়াসমীন, নির্বাচন কর্মকর্তা শামসুজ্জামানসহ বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রথম দিনে অফিস করেননি।

কোনো কোনো দপ্তর খোলা থাকলেও অফিসে ছিল না কেউ, আবার কোনো কোনো দপ্তরের পুরোটাই ছিল তালা ঝুলানো। সেখানে কাউকে দেখা যায়নি। এসব দপ্তরে সেবা নিতে এসে ফিরে গেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ লোকজন। ফলে হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন সেবাপ্রার্থীরা।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দ্য গুহের মুঠোফোনে এ ব্যাপারে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, অনেকের বাড়ি দূরে থাকায় তারা প্রথম দিনে অফিস করতে পারেননি।