দেশে পাঁচ দিন পর দৈনিক শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা আবার হাজারের ঘর ছাড়াল। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৭ রোগী। এর আগে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল গত ৯ জুলাই ১ হাজার ৬১১ জন।
ঈদের সময় নমুনা কম পরীক্ষা হওয়ায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছিল। ঈদের আগের দিন গত শনিবার থেকে গত মঙ্গলবার (৯-১২ জুলাই) পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৯ হাজার ৩৯৬টি। এর আগের চার দিনে (৫-৮ জুলাই) মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪২ হাজার ৬১৭টি। সে হিসেবে শেষের চার দিনে তার আগের চার দিনের তুলনায় পরীক্ষা কমেছে দ্বিগুণ। পরীক্ষার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই চার দিনে তার আগের চার দিনের তুলনায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে দ্বিগুণেরও বেশি। অর্থাৎ ঈদের চার দিনে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৩০ জন ও দৈনিক গড় রোগী ছিল ৭৩২ জন। অন্যদিকে ঈদের আগের চার দিনে মোট রোগী শনাক্ত হয় ৭ হাজার ১২৭ জন ও দৈনিক গড় রোগী ছিল ১ হাজার ৭৮২ জন।
ঈদের ছুটি শেষে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বাড়ায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আবার বেড়েছে। এ সময় ৭ হাজার ৪৪৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ২৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মারা গেছেন ৫ জন। এর আগের দিন গত মঙ্গলবার ৪ হাজার ৭৬১টি নমুনা পরীক্ষা করে ৬৫৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল এবং মারা গিয়েছিল ৩ জন। সবশেষ গত ৮ জুলাই ১ হাজার ৬১১ রোগী শনাক্তের তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপরই ঈদের ছুটির কারণে নমুনা পরীক্ষা কমে যায়। সেই সঙ্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও নেমে আসে হাজারের নিচে।
ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবস ৭ জুলাই ১০ হাজার ৮২২টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ৭৯০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হন। এরপর দিন থেকেই নমুনা পরীক্ষা কমতে থাকে। গত ৮ জুলাই ৯ হাজার ৫৮০ নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয় ১ হাজার ৭৯০ জন। এরপর গত ৯ জুলাই ৬ হাজার ২৪ নমুনা পরীক্ষায় ৯৩৯ জন, ১০ জুলাই ৪ হাজার ৬৫৯ নমুনা পরীক্ষায় ৮১৪ জন, ১১ জুলাই ৩ হাজার ৯৫২ নমুনা পরীক্ষায় ৫২১ জন এবং ১২ জুলাই ৪ হাজার ৭৬১টি নমুনা পরীক্ষায় ৬৫৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার বেড়ে হয়েছে ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ, আগের দিন এই হার ১৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ ছিল। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে শনাক্ত মোট করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৯ লাখ ৯২ হাজার ৫৮ জন হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ২৯ হাজার ২১৭ জন।
নতুন শনাক্ত ১০২৭ জনের মধ্যে ৬৫৮ জনই ঢাকা জেলার বাসিন্দা। দেশের মোট ৪৭ জেলায় গত এক দিনে নতুন রোগী ধরা পড়েছে। ৬৪ জেলার মধ্যে ৯টি এলাকায় গত এক দিনে কারও নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি।
গত এক দিনে মারা যাওয়া চারজন ছিলেন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা, বাকি একজন রংপুরের। তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ, একজন নারী। তাদের তিনজনের বয়স ছিল ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। আর একজনের বয়স ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে এবং একজনের বয়স ৯০ বছরের বেশি ছিল।