ডাবরের সঙ্গে যৌথ ব্যবসা ছাড়ছে এসিআই

প্রত্যাশিত মুনাফা না হওয়া ও চুক্তিতে থাকা বিভিন্ন শর্তের কারণে ১৯ বছর পর ভারতভিত্তিক আয়ুর্বেদিক ও প্রাকৃতিক কনজ্যুমার প্রোডাক্ট প্রস্তুত ও বিপণনকারী বহুজাতিক কোম্পানি ডাবরের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের অবসান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশি শীর্ষস্থানীয় গ্রুপ এসিআই লিমিটেড। ডাবরের সঙ্গে বাংলাদেশে এশিয়ান কনজ্যুমার কেয়ারে এসিআই লিমিটেডের যে শেয়ার ছিল, তার পুরোটা বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে এ ঘোষণা দিয়েছে এসিআই।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে প্রকাশিত এ সম্পর্কিত খবরে বলা হয়েছে, দুবাইতে ডাবর ইন্ডিয়ার সহযোগী কোম্পানি ডাবর ইন্টারন্যাশনাল এশিয়ান কনজ্যুমার কেয়ারের ৭৬ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে। অবশিষ্ট ২৪ শতাংশ বা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের মোট ৮৪ লাখ ৮০ হাজার ১৮৭টি শেয়ার ছিল এসিআই লিমিটেডের মালিকানায়। এ পুরো শেয়ারই ডাবর ইন্টারন্যাশনালের কাছে ৬০ কোটি টাকায় বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসিআই লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ।

এশিয়ান কনজ্যুমার কেয়ার এসিআই লিমিটেডের সঙ্গে মিলে ডাবর হানি ও ডাবর চবনপ্রাশ (ঈযধধিহঢ়ৎঁংয), ডাবুর আমলা হেয়ার অয়েল, ডাবুর ভার্টিকা হেয়ার অয়েল, নিভিয়া ভার্টিকা শ্যাম্পু এবং ডাবুর ভার্টিকা ফেসপ্যাক বাজারজাত করত। ২০০৩ সালে বাংলাদেশে এশিয়ান কনজ্যুমার কেয়ারের সঙ্গে যৌথ ব্যবসা করে আসছে এসিআই।

ডাবরের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসার সিদ্ধান্তের কারণ সম্পর্কে এসিআই লিমিটেড থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসিআইর একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, চুক্তির কয়েকটি শর্তের কারণে ডাবরের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ। ডাবরের প্রোডাক্ট বিক্রি থেকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা না এলেও চুক্তিতে থাকা শর্তের কারণে এসিআইর সমস্যা হচ্ছিল। পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ডাবরের রক্ষণশীল মনোভাবও যৌথ ব্যবসা থেকে বেরিয়ে আসার একটি কারণ। এছাড়া চুক্তিতে একই ধরনের ব্যবসার ক্ষেত্রে এসিআইকে ডাবরের অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতার বিষয়টিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসিআইর জন্য প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে।

তবে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, এসিআইয়ের সঙ্গে ডাবর বাংলাদেশে এশিয়ান কনজ্যুমার কেয়ারের নামে যে ব্যবসা পরিচালনা করছে, এর বাইরে নিজেও আলাদাভাবে ব্যবসা করছে। এ কারণটি ডাবরের সঙ্গে ব্যবসা সম্পর্ক ছেদ করার কারণ হতে পারে। তাছাড়া মুনাফা কমে যাওয়াও এ যৌথ ব্যবসা থেকে সরে আসার কারণ হতে পারে। এশিয়ান কনজ্যুমার কেয়ার ঢাকার অদূরে ধামরাইতে কারখানা স্থাপন করে বিভিন্ন কনজ্যুমার প্রোডাক্ট প্রস্তুত করত।

এর আগে ২০১৫ সালে এসিআই তার অন্যতম প্রধান কয়েকটি কনজ্যুমার প্রোডাক্ট থেকে এসিআই অ্যারোসল, এসিআই মশার কয়েল, ককরোচ কিলার স্প্রে, এনজেলিক এয়ার ফ্রেশনার এবং ভেনিস টয়লেটড ক্লিনার ব্র্যান্ড পণ্য মোট ২৫০ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি এসসি জনসন অ্যান্ড সনসের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল। তবে বেচে দেওয়ার ব্র্যান্ডগুলো বাজারজাত করায় একসঙ্গে কাজ করছে তারা।

ডাবর ইন্ডিয়ার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক শেষ করতে চাইলেও নিজস্ব ব্র্যান্ডের বাইরে আরও অন্তত ১৬ বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কনজ্যুমার প্রোডাক্ট বাজারজাত ও বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এসিআই লিমিটেড। এগুলো হলো সানোফি, আইআরআরআই, গোদরেজ, পালস্, কেভা, ফনটেরা, ইয়ানমার, ইয়ামাহা, কো-রো, মেরিসান্ট, টেটলি, ইউএস এআইডি, ক্যাটালিস্ট, এসসি জনসন অ্যান্ড সনস, একজো নভেল এবং প্যানাসনিক।

এদিকে এসিআই লিমিটেড পৃথক আরেক মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে জানিয়েছে, প্রিমিয়াফ্লেক্স প্লাস্টিক লিমিটেড থেকে প্লাস্টিকের ব্যবসা আলাদা (ডি-মার্জার) করে এসিআই প্রিমিও প্লাস্টিক লিমিটেডের সঙ্গে একীভূত (মার্জার) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসিআই লিমিটেডের পর্ষদ। প্লাস্টিক ও প্যাকেজিংয়ের এ ব্যবসা এসিআই লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি এর সঙ্গে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ব্যবসাও শুরু করবে। তবে পর্ষদের এ সিদ্ধান্ত প্রথমে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার, পরে কোম্পানি আইনের ২২৮ ও ২২৯ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে।

গতকাল ডিএসইতে এসিআই লিমিটেডের শেয়ার সর্বশেষ ২৭৯ টাকা ১০ পয়সা দরে কেনাবেচা হয়েছে, যা বুধবারের তুলনায় ৯০ পয়সা বা শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। এসিআই লিমিটেড গত বছর শেয়ারহোল্ডারদের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ারের সঙ্গে ৬৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।