যশোর জেলা যুবদলের সহসভাপতি বদিউজ্জামান ধনী হত্যা মামলায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ ও র্যাব। অভিযুক্তদের আটক করার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বলেছেন, দলীয় কোন্দল ও জামাতা হত্যার প্রতিশোধ নিতে বিএনপি নেতা শামীম আহমেদ মানুয়ার নির্দেশে হত্যা করা হয় বদিউজ্জামান ধনীকে। দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
পুলিশের হাতে আটক দুজন হচ্ছে প্রধান আসামি যশোর শহরের বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক মোড়ের রায়হান (২৫) ও অপর আসামি শংকরপুর হারানবাড়ি এলাকার ইছা মীর। গত বুধবার রাতে রায়হানকে খুলনার দীঘলিয়ার বারাকপুর গ্রাম ও ইছা মীরকে যশোর শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত দুটি গাছি দা, একটি চায়নিজ কুড়াল ও একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেন, আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় নিহত বদিউজ্জামান ওরফে ধনী যশোর জেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। যশোর নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আসামি শামীম আহমেদ মানুয়ার সঙ্গে ধনীর দীর্ঘদিনের দলীয় কোন্দল এবং মানুয়ার জামাতা ইয়াসিন আরাফাতের হত্যা, সর্বোপরি এলাকায় বিএনপিদলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে ধনীকে হত্যা করা হয়।
তিনি বলেন, নিহত ধনীর বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা, একটি অস্ত্র মামলা, একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা ও একটি বিস্ফোরক মামলাসহ ১২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার আসামি রায়হানের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা, একটি মাদক মামলা, দুটি চাঁদাবাজি মামলা বিচারাধীন।
বদিউজ্জামান ধনী গত মঙ্গলবার শহরের নাজির শংকরপুর চোপদারপাড়ায় নিজ বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন। এ ঘটনায় পরদিন নিহত ধনীর ভাই মনিরুজ্জামান যশোর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। এছাড়া এ মামলার আরেক আসামি যশোর শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকার আল-আমিন ওরফে চোর আল-আমিনকে আটক করেছে র্যাব। বুধবার রাতে তাকে আটক করে গতকাল সকালে যশোর কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়।