গৃহবধূর শরীরে এসিড দিলেন শ্বশুর-শাশুড়ি

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এক গৃহবধূর শরীরে এসিড নিক্ষেপ করেছে বলে তার শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার নাম মাহমুদা খাতুন (২৪)। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের গেন্দুকুড়ী গ্রামের আতোয়ার হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গৃহবধূর শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে।

গৃহবধূর বাবা আব্দুল মালেক বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরে গৃহবধূর ননদ আছিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬ বছর আগে মাহমুদা খাতুনের সঙ্গে বিয়ে হয় হামিদুলের। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তার স্বামী ঢাকায় চাকরি করেন। বিয়ের পর থেকে শ^শুর আতোয়ার রহমান ও শাশুড়ি হামিদা বেগমের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল মাহমুদার। এরমধ্যে বুধবার রাত ৮টার দিকে শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে ওই গৃহবধূর শরীরে এসিড নিক্ষেপ করেন। এতে তার শরীরের পেছনের অংশ ঝলসে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। 

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাসকিন বলেন, ‘ওই গৃহবধূর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ঝলসে গেছে। আসলে সেগুলো এসিড কিনা তা জানার জন্য ও গৃহবধূর উন্নত চিকিৎসায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

গৃহবধূ মাহমুদা বেগম বুধবার রাতে হাতীবান্ধা হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝামেলা চলছে। আমাকে একা পেয়ে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে এসিড দেন তারা।’

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাতেই ওই গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। রাতেই গৃহবধূর ননদকে আটক করা হয়। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।